নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের প্রতিবাদে নর্থ-ইস্ট স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন (নেসো)-এর ডাকা বন্‌ধকে ঘিরে আজ উত্তাল হয়ে উঠল ত্রিপুরার জিরানিয়া। মারমুখী বন্‌ধ সমর্থকদের নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠি, কাঁদানে গ্যাস, জলকামান ব্যবহার করে। পুলিশের দাবি, তাতেও কাজ না হওয়ায় বাধ্য হয়েই গুলি চালাতে হয়। গুলিতে চার বন্‌ধ সমর্থক জখম হন। তাঁদের আগরতলার জিবি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।  

নেসু’র ডাকা বন্‌ধে মূলত ত্রিপুরার জনজাতি সংগঠনগুলি সাড়া দেয়। তার মধ্যে রাজ্যের শাসক জোটের শরিক আইপিএফটি-ও রয়েছে। আজ সকাল থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে বন্‌ধের সমর্থনে পিকেটিং শুরু হয়। বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা অবরোধ, রেল অবরোধ হয়েছে। জিরানিয়া মহকুমার মাধববাড়ি এলাকায় সকাল থেকেই বন্‌ধ সমর্থকেরা রাস্তায় নামে। অসম-আগরতলা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে তারা টায়ার জ্বালিয়ে দেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্ঘের শ্রমিক সংগঠন বিএমএসের লোকজন বন্‌ধের বিরোধিতা করতে নামে। ফলে উত্তেজনার পারদ চড়তে থাকে। 

রাজ্য পুলিশের ডিআইজি অরিন্দম নাথ বলেন, ‘‘পরিস্থিতি যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায় তার জন্য বিশাল পুলিশ বাহিনী প্রথম থেকেই মোতায়েন করা হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই বন্‌ধ সমর্থকরা মারমুখী হয়ে ওঠে।’’ পুলিশকে লক্ষ্য করে পেট্রল বোমা, অ্যাসিড ভর্তি বোতল ছুড়তে শুরু করে। দোকান ও যানবাহনে আগুন লাগায়। একজন সাংবাদিক-সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মী তাতে জখম হন। এরপরেই তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠি চালায়, কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। জলকামানও ব্যবহার করা হয়। পরিস্থিতি তাতেও নিয়ন্ত্রণে না আসায় পুলিশ শূন্যে গুলি চালায় বলে দাবি করেন ডিআইজি। আইপিএফটির দাবি, সরাসরি বন্‌ধ সমর্থকদের লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হয়। চার জনকে জিবি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের এক জওয়ানও। ২১ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।