আম জনতার দল নয়, আপ এখন ‘খাস আদমি পার্টি’! অরবিন্দ কেজরীবালকে এ ভাবেই আক্রমণ করে ইস্তফা দিলেন দলীয় বিধায়ক অলকা লাম্বা। শুক্রবার টুইটারে তাঁর ইস্তফার কথা ঘোষণা করেন অলকা।

এ দিন সকালে তাঁর টুইটার হ্যান্ডলে অলকা লিখেছেন, ‘অরবিন্দ কেজরীবালজি, আপনার মুখপাত্র বেশ উদ্ধত ভাবেই আমাকে জানিয়েছেন যে আমার ইস্তফাপত্র টুইটারেও গ্রহণ করা হবে। সুতরাং অনুগ্রহ করে আম আদমি পার্টি, যা কিনা এখন ‘খাস আদমি পার্টি’, তার প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে আমার ইস্তফাপত্র গ্রহণ করুন’।

দিল্লির চাঁদনি চক বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক অলকার সঙ্গে বেশ কয়েক মাস ধরেই আম আদমির পার্টির সঙ্গে তিক্ততা বাড়ছিল। ফলে এই ইস্তফা প্রত্যাশিতই ছিল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ। এমনকি, অলকা নিজেও বেশ কিছু দিন ধরেই দল ছাড়ার কথা বলছিলেন।

আরও পড়ুন: মুসলিমরা অপরাধপ্রবণ! বিশ্বাস দেশের অর্ধেক পুলিশকর্মীর, বলছে সমীক্ষা রিপোর্ট

এই আবহে গত মঙ্গলবার কংগ্রেসের অন্তর্বর্তী সভাপতি সনিয়া গাঁধীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন অলকা। এর পর তাঁর পুরনো পার্টিতে ফিরে যাওয়া নিয়ে জল্পনা শুরু হয়। এমনকি, কংগ্রেসের টিকিটে আগামী বছরে বিধানসভা নির্বাচনে তিনি লড়বেন বলেও গুঞ্জন শোনা যায়। যদিও অলকা নিজে জানিয়েছেন, আগামী বিধানসভা নির্বাচনে তিনি নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসাবেই লড়বেন।

আরও পড়ুন: ফের ট্রায়াল রুমে গোপন ক্যামেরা! দিল্লিতে মহিলা সাংবাদিকের অর্ধনগ্ন ভিডিয়ো তোলার অভিযোগ

প্রায় ২০ বছর কংগ্রেসে থাকার পর গত ২০১৩-তে আম আদমি পার্টিতে যোগ দেন অলকা। আপের টিকিটেই দিল্লির চাঁদনি চক বিধানসভা কেন্দ্র থেকে লড়ে সেখান থেকে বিধায়ক হন তিনি। তবে গত বছর থেকে তাঁর সঙ্গে আপ নেতৃত্বের মতপার্থক্য শুরু হয়। সে সময় প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গাঁধীর ভারতরত্ন ফেরানো নিয়ে আপের প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছিলেন অলকা। এর পর তাঁর সঙ্গে আপের মতবিরোধ চরমে ওঠে সদ্যসমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনের সময়। সে সময় প্রকাশ্যেই দলীয় নেতাদের সঙ্গে তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। দলের হয়ে প্রচারেও আপত্তি জাহির করেন অলকা। লোকসভা নির্বাচনে আপের ভরাডুবি পর তার দায়ভার যাতে অরবিন্দ কেজরীবাল নেন, তা নিয়েও সরব হন। এর পর অলকাকে দলের বিধায়কদের হোয়াট্‌সঅ্যাপ গ্রুপ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।  এ দিন টুইটারে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অলকা লিখেছেন, ‘এ বার বিদায় জানানোর সময় এসেছে!’