বিগত কয়েক বছরের মতো এ বছরও বিতর্কিত মন্তব্যের ধারা অব্যাহত রইল বিজ্ঞান কংগ্রেসে। তবে এ বারের মন্তব্য বোধহয় ছাপিয়ে গেল আগের সব উদাহরণকেই। কংগ্রেসের ১০৬তম অধিবেশনে অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য দাবি করে বসলেন, হাজার বছর আগেও ভারতে স্টেম সেল রিসার্চ ও টেস্ট টিউব বেবির প্রযুক্তি ছিল। রামায়ণ ও মহাভারতের উদাহরণ দিয়ে তাঁর দাবি, গাইডেড মিসাইল প্রযুক্তিও নতুন কিছু নয়!

পঞ্জাবের জালন্ধরে লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে বসেছে ২০১৯ সালের বিজ্ঞান কংগ্রেসের আসর। ৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশন চলবে ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত।

শুক্রবার সায়েন্স কংগ্রেসে বক্তৃতা রাখার সময় অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জি নাগেশ্বর রাও বলেন, “স্টেম সেল রিসার্চ ও টেস্ট টিউব বেবি প্রযুক্তির জেরেই এক জন মা-এর থেকে একশো জন কৌরব পেয়েছিলাম আমরা। যা ঘটেছিল আজ থেকে হাজার বছর আগে। ওটা ছিল এই দেশের বিজ্ঞান।’’

অন্ধ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যেরদাবি, মহাভারতে বলা আছে,“১০০টি ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করে মাটির পাত্রে রাখা হয়েছিল।’’ এর পরই তাঁর প্রশ্ন, ‘‘এগুলি কি টেস্ট টিউব বেবি নয়? আসলে হাজার হাজার বছর আগেই এ দেশে স্টেম সেল রিসার্চ চলত।’’

অবশ্য শুধুমাত্র টেস্ট টিউব বেবিতেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি নাগেশ্বর। রামচন্দ্রের ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র থেকে টেনে এনেছেন গাইডেড মিসাইলের তত্ত্ব। তাঁর মতে, আজকের গাইডেড মিসাইলের কার্যপদ্ধতি রামায়ণের যুগেও বর্তমান ছিল। তাঁর দাবি, রামচন্দ্রের ব্যবহৃত অস্ত্র নির্দিষ্ট লক্ষ্যে আঘাত হেনে ফিরে আসত।

এর পর নাগেশ্বর দাবি করেন, বিভিন্ন কাজের জন্য বিভিন্ন আকার ও ক্ষমতার ২৪টি বিমান ছিল রাবণের। লঙ্কায় রাবণের বেশ কয়েকটি বিমানবন্দরও ছিল বলে এ দিন বিজ্ঞান কংগ্রেসের আসরে দাবি করেছেন রাও!

 

এর আগে ২০১৮ সালে বিজ্ঞান কংগ্রেসের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মোদী সরকারের মন্ত্রী হর্ষ বর্ধন বলেছিলেন, বেদের তত্ত্বগুলি সম্ভবত আইনস্টাইনের বিখ্যাত ‘e=mc2’ সূত্রটির চেয়েও উন্নত। এর প্রমাণ তাঁর কাছে আছে বলেও সে সময় দাবি করেছিলেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান-প্রযুক্তি মন্ত্রী।

আরও পড়ুন: হকিং নিয়ে ‘ফেক নিউজ’ দিলেন হর্ষবর্ধন!

আরও পড়ুন: দেশছাড়া হতে হবে না, নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্ত অমুসলিমদের আশ্বাস মোদীর

(কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী, গুজরাত থেকে মণিপুর - দেশের সব রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদেরদেশবিভাগে ক্লিক করুন।)