নিজে দুঁদে আইনজীবী। কিন্তু আইএনএক্স মিডিয়ায় বিদেশি বিনিয়োগে অসঙ্গতির অভিযোগে নিজেই এখন আইনি কাঠগড়ায়। অভিযুক্ত হয়েও নিজেই নিজের হয়ে সওয়াল করলেন পি চিদম্বরম। সিবিআইয়ের পক্ষে তাঁর বক্তব্যে বাধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বলার সুযোগ দেন বিশেষ আদালতের বিচারক। সুযোগ পেয়েই তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআইয়ের আনা অসহযোগিতার অভিযোগ খণ্ডন করতে বলেন, সব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন।

সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেটা। চিদম্বরমের পক্ষে ছিলেন কংগ্রেস শিবিরের দুই বর্ষীয়ান আইনজীবী কপিল সিবল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। সওয়াল জবাবের মধ্যেই চিদম্বরম বলেন, তিনি কিছু বলতে চান। সলিসিটর জেনারেল তাঁকে বাধা দিয়ে বলেন, তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে সওয়াল করার জন্য দুই আইনজীবী রয়েছেন। অভিযুক্ত হিসেবে তাঁর কিছু বলার প্রয়োজন নেই। প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই চিদম্বরমের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি পাল্টা বলেন, দিল্লি হাইকোর্ট তাঁকে বলার অনুমতি দিয়েছিল। এর পর বিশেষ আদালতের বিচারপতিও তাঁকে বলার সুযোগ দেন।

এর পর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়েই চিদম্বরম বলেন, তাঁকে যে প্রশ্নগুলি করা হয়েছে, তার সবগুলির উত্তর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘দয়া করে প্রশ্নোত্তরের নথি দেখুন। এমন একটাও প্রশ্ন নেই, যার উত্তর আমি দিইনি। আমাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিদেশে আমার কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে কিনা। জবাবে আমি বলেছি, না। জানতে চাওয়া হয়েছিল, আমার ছেলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আছে কিনা বিদেশে। আমি বলেছি, হ্যাঁ।’’ ২০১৮ সালের ৬ জুন তাঁকে যে সব প্রশ্ন করা হয়েছিল, সেগুলিরও উত্তর দিয়েছেন তিনি— আদালতে জানান চিদম্বরম। অর্থাৎ তিনি যে তদন্তে অসহযোগিতা করছেন না, সেটাই বোঝাতে চেয়েছেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী।

আরও পড়ুন: সহযোগিতা করছেন না, বলল সিবিআই ।। প্রমাণ নেই, ভিন্ন উদ্দেশ্যে গ্রেফতার: সিব্বল

আরও পডু়ন: লিস্টিং ছাড়াই অন্য মামলায় শুনানি, চিদম্বরমের ক্ষেত্রে কেন নয়? প্রশ্ন তুলেছিলেন সিব্বল

প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র ও অর্থমন্ত্রী পি চিদম্বরমকে বুধবারই গ্রেফতার করে সিবিআই। বৃহস্পতিবার তাঁকে তোলা হয় দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালতে। তাঁকে পাঁচ দিনের জন্য হেফাজতে নেওয়ার আর্জি জানায় সিবিআই। একই সঙ্গে সিবিআইয়ের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়। দাবি জানানো হয়, হেফাজতে নিয়ে জেরার প্রয়োজন রয়েছে প্রাক্তন অর্থমন্ত্রীকে।