এ মাসের ৬ তারিখ সুষমা স্বরাজকে যখন এমস-এ নিয়ে যাওয়া হয়, উপরের তলায় ভর্তি ছিলেন অরুণ জেটলি। সুষমার মৃত্যুর খবর মাঝরাতে দেওয়া হয় তাঁকে। বিষণ্ণ হয়ে একটি টুইট করতে বলেন। পরদিন বাড়ি ফিরে আসেন। দু’দিন পর ফের সঙ্কটজনক অবস্থায় ভর্তি করাতে হয় এমস-এ। টানা পনেরো দিন পাঞ্জা কষে আজ দুপুর ১২টা ৭ মিনিটে হার মানলেন ৬৬ বছরের অরুণ জেটলি।

হাসপাতাল থেকে দিল্লির কৈলাস কলোনির বাড়িতে মরদেহ নিয়ে আসা হয় আজই। কাল সকালে নিয়ে যাওয়া হবে বিজেপি দফতরে। দুপুরের পরে নিগমবোধ ঘাটে হবে শেষকৃত্য। গত বছর ১৬ অগস্ট চলে গিয়েছিলেন অটলবিহারী বাজপেয়ী। এই অগস্টের ৬ তারিখ সুষমা, আর ২৪-এ জেটলি।

সুষমা-জেটলি জুটিকে বিজেপি শিবিরে লালকৃষ্ণ আডবাণীর অনুগামী বলেই ধরা হয়। কিন্তু দলেরই অনেকে মনে করেন, জেটলি আসলে ‘অটল যুগ’-এর শেষ চিহ্ন। অটলের উদারতা, আধুনিকমনস্কতা, সঙ্ঘের কট্টর মনোভাব থেকে দূরে থাকা, শত্রু শিবিরেও বন্ধু করা, সে বন্ধুর জন্য লড়ে যাওয়া, সঙ্কটে মধ্যপন্থা নেওয়া— বাজপেয়ীর এমন অনেক গুণই খুঁজে পাওয়া যেত জেটলির মধ্যে। শেষ জীবনে কৃষ্ণ মেনন মার্গে থাকতেন বাজপেয়ী। সেখানেই নিজের সরকারি বাংলো বেছেছিলেন জেটলি। বলতেন, ‘‘অটলজিই ১৯৭৭ সালে প্রথম ভোটে লড়তে বলেন। প্রস্তুতি নিয়ে দেখি, ২৫ বছর বয়সই হয়নি!’’

প্রধানমন্ত্রী এখন বাহরাইনে। খবর পেয়েই জেটলির স্ত্রী সঙ্গীতা এবং ছেলে রোহনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তিনি। সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে মোদীর বৈঠক। অফিসারদের বলেছিলেন, যদি কোনও ভাবে কিছু ক্ষণের জন্য দিল্লি ফেরা যায়। সঙ্গীতা অবশ্য মোদীকে
বলেন, ‘‘আসার দরকার নেই।’’
পরে মোদী বলেন, ‘‘রাজনৈতিক জীবনের শুরু থেকে যে বন্ধুর সঙ্গে স্বপ্ন দেখেছি, স্বপ্ন সার্থক করেছি, সেই অরুণ আমাদের ছেড়ে চলে গিয়েছেন। এক দিকে কর্তব্যের বন্ধন, অন্য দিকে বন্ধু বিয়োগের যন্ত্রণায় দীর্ণ হচ্ছি। অগস্টেই সুষমাজি চলে গিয়েছেন। আজ বন্ধু অরুণও চলে গেল।’’

এ দিন হায়দরাবাদ থেকে অমিত শাহ এবং লখনউ থেকে রাজনাথ সিংহ চলে আসেন দিল্লিতে অরুণের বাড়ি। সেখানে পৌঁছে থম মেরে বসে পড়েন আডবাণী। তার আগেই এক বিবৃতিতে লেখেন, জেটলি তাঁকে নিত্যনতুন রেস্তরাঁর হদিস দিতেন। দীপাবলিতে সপরিবার আসতেন। এ দিন জেটলির বাড়িতে যান সুষমা-কন্যা বাঁসুরী স্বরাজ, অটল-কন্যা নমিতা কউল-ও।

শ্রীনগর থেকে রাহুল গাঁধী ফিরতেই তাঁকে নিয়ে চলে যান সনিয়া গাঁধী। বিজেপি-কংগ্রেসের উত্তাপ যখন চরমে, তখন সনিয়ার সঙ্গে তেমন কথা হত না জেটলির। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পরে নিয়মিত সঙ্গীতাকে ফোন করতেন সনিয়া। আজ তাঁকে দেখেই জড়িয়ে ধরে কাঁদলেন সনিয়া। টুইটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও লিখলেন, ‘‘জেটলি ছিলেন অনন্যসাধারণ সাংসদ এবং আইনজীবী। সব দলের কাছে যাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল।’’

যেমন নোটবন্দির পরে সংসদ তখন উত্তাল। রাজ্যসভায় জেটলির পাশে বসতেন মোদী। সমাজবাদী পার্টির নরেশ আগরওয়াল বলেছিলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী আমি নিশ্চিত, নোটবন্দির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনি অর্থমন্ত্রীকেও জানাননি। জানালে, অরুণজি ফিসফিস করে আমাদের বলে দিতেন।’’ হাসির রোল ওঠে সভায়।
 বিজেপির অনেকেই আজ বলেন, ‘‘সকলের সঙ্গে এই বন্ধুত্বটাই পছন্দ করেননি মোদীরা। অরুণকে কোণঠাসা করে ক্রমে সব ক্ষমতা নিয়ে নেন তাঁরা। তবু শেষ পর্যন্ত মোদীর সঙ্কটমোচনের কাজ করে গিয়েছেন তিনি।’’