• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

কর্নাটকে বিরাট জয় বিজেপির, বিধ্বস্ত কংগ্রেস

bjp
বিজেপির বিজয়োল্লাস। ছবি: পিটিআই।

Advertisement

কয়েক সপ্তাহ আগে হাত থেকে ফস্কে গিয়েছে মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা। তবে এ বার কর্নাটকের উপনির্বাচনে বিরাট ভাবে জিতে এসে শক্তি বাড়িয়ে নিল বিজেপি। কর্নাটকের ১৫টি  বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে আজ। এর মধ্যে ১২টি আসনই জিতে নিয়েছে গেরুয়া শিবির। ধরাশায়ী কংগ্রেস। এই জয়ের মধ্যে দিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা জোগাড় করে নিতে সফল হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বি এস ইয়েদুরাপ্পা।

চার মাস আগে এইচ ডি কুমারস্বামী সরকারের থেকে সমর্থন তুলে নিয়েছিলেন কংগ্রেস ও জেডিএসের ১৭ জন বিধায়ক। যার জেরে কংগ্রেস-জেডিএস জোট সরকারের পতন হয়। বিকল্প সরকার গড়ে বিজেপি। বিধানসভার তৎকালীন স্পিকার কে আর রমেশ কুমার ওই বিধায়কদের সদস্যপদ বাতিল করে নির্দেশ দেন, ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভোটে লড়াতে পারবেন না তাঁরা। সুপ্রিম কোর্ট বহিষ্কৃত ওই বিধায়কদের সদস্যপদ খারিজের সিদ্ধান্ত বহাল রাখলেও জানিয়ে দেয়, ভোটে লড়তে পারবেন পদত্যাগী বিধায়কেরা। গত সপ্তাহেই ১৭টির মধ্যে ১৫টি কেন্দ্রে ভোট হয়েছিল। ১৩ জন দলত্যাগীকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি।

আজ ফল প্রকাশ পেতেই দেখা যায়, ১৫টির মধ্যে ১২টিতে জিতেছে বিজেপি। কংগ্রেস ২টি ও নির্দল প্রার্থী ১টি আসনে জয়ী হয়েছেন। অথচ ২০১৮ সালের বিধানসভা ভোটে এই ১৫টি আসনের ১১টিতেই জিতেছিল কংগ্রেস, বিজেপি ৩টি ও কেপিজেপি ১টি আসনে জয়ী হয়েছিল। বিধানসভায় বিজেপির ১০৫ জন বিধায়ক এবং ১ জন নির্দলের সমর্থন ইয়েদুরাপ্পার দিকে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল আরও ৭ জন বিধায়কের সমর্থন। ফলে উপনির্বাচনের ফল কী হয়, সেই অপেক্ষায় ছিলেন সকলেই। আজকের পরে ইয়েদুরাপ্পা সরকার শক্ত জমিতে এসে দাঁড়াল। কর্নাটকের জয়ের পরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন। ঝাড়খণ্ডে ভোটের প্রচারে গিয়ে মোদী আজ বলেন, ‘‘কোনও দল যদি জনভাবনার বিরুদ্ধে কাজ করে, মানুষ তাদের শাস্তি দেবে— এটাই বুঝিয়ে দিয়েছেন কর্নাটকের মানুষ। সব রাজ্যের জন্যই এটা একটা বার্তা।’’ মোদীর দাবি, ভোটাররা কংগ্রেস ও জেডিএসকে বিশ্বাসঘাতকতা করার সুযোগ দেননি। ঝাড়খণ্ডের ভোটারদেরও কর্নাটক থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন: মধ্যরাতে লোকসভায় নাগরিকত্ব বিল পাশ করালেন অমিত শাহ

হারের দায় স্বীকার করে নিয়ে কংগ্রেস পরিষদীয় দলের নেতার পদ থেকে সিদ্দারামাইয়া এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে দীনেশ গুন্ডু রাও ইস্তফা দিয়েছেন। ভোটে হেরেছেন দলের প্রভাবশালী নেতা ও কংগ্রেস-জেডিএস সরকারের অন্যতম কারিগর ডিকে শিবকুমার। তাঁর গ্রেফতারি নিয়ে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে প্রচার চালিয়েছিল কংগ্রেস। আজ শিবকুমার বলেন, ‘‘মানুষ দলত্যাগীদের ভোট দিয়েছেন। সেই রায় মেনে নিচ্ছি। তবে উপনির্বাচন আর বিধানসভা ভোট এক নয়। কর্নাটক কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি। এ রাজ্য থেকে কংগ্রেস উবে যাবে না।’’ তবে দলের অনেকেই মনে করছেন, উপনির্বাচনে কংগ্রেস-জেডিএস জোট না হওয়াও হারের বড় কারণ।

আরও পড়ুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সহিষ্ণুতার পাঠ অভিষেকের

দলত্যাগী বিধায়করা ভোটে জিতলে তাঁদের মন্ত্রী করা হবে বলে ঘোষণা করেছিলেন ইয়েদুরাপ্পা। আজ তিনি বলেন, ‘‘ওঁদের যে আশ্বাস দিয়েছিলাম, তার থেকে পিছিয়ে আসার প্রশ্ন নেই। আমরা ওঁদের মন্ত্রী করব আর সেই সব এলাকায় সংগঠন বাড়াব।’’ দলত্যাগীরা মন্ত্রী হলে বিজেপির ভিতরে অসন্তোষ বাড়তে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন