গুয়াহাটিতে বিস্ফোরণ। শনিবার শহরের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা পানবাজারে একটি জোরাল বিস্ফোরণের আওয়াজ পান পথচলতি মানুষ। বিস্ফোরণের জেরে আহত হয়েছেন অন্তত চার জন। তাঁদের মহেন্দ্র মোহন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তাঁদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। তবে সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক।

বহ্মপুত্র নদের সমান্তরালে গিয়েছে মহাত্মা গাঁধী রোড। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ওই রাস্তার পাশে ফুটপাথের সৌন্দর্যায়নের কাজ হয়েছে সম্প্রতি। সেই কাজের জন্যই ফুটপাথের পাশে ডাই করে রাখা ছিল মাটি। সেখানেই এ দিন বেলা ১২টা ৫-এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

বোমাটি শুক্রেশ্বর মন্দিরের পাশেই কোথাও রাখা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পুলিশের। বিস্ফোরণের ঠিক পরেই ঘটনাস্থলে অসম পুলিশ এবং গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনারেটের শীর্ষ আধিকারিকরা পৌঁছন। পুলিশের বম্ব ডিটেকশন এবং ডিজপোজাল স্কোয়াডও পৌঁছয়। তাঁরা গোটা এলাকায় তল্লাশি চালান। তাঁদের আশঙ্কা ছিল, আরও বোমা রাখা থাকতে পারে। সতর্কতা জারি করা হয় গোটা শহরে। এর আগেও গুয়াহাটিতে একাধিক ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

দেখুন বিস্ফোরণস্থলের ভিডিয়ো

 

 

আরও পড়ুন: পুলিশ পিটিয়ে আইনজীবীর দাদাগিরি! দেখুন ভিডিয়ো

প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানিয়েছে, কম ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরণ ছিল। তবে ঠিক কী ধরণের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে, তা এখনও বলতে পারেননি তাঁরা। গ্রেনেড না আইইডি তা-ও নিশ্চিত করতে পারেননি তাঁরা। ওই মহাত্মা গাঁধী রোডই সচিবালয়ে যাওয়ার জন্য ব্যবহার করেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এ দিনও তিনি বিস্ফোরণের কিছু ক্ষণ আগে ওই রাস্তা দিয়েই গিয়েছেন।

এই বিস্ফোরণের পেছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র আছে কি না তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। সেই সঙ্গে এনআইএ-র গুয়াহাটি দফতরের আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে যাবেন বলে জানা গিয়েছে। অসম পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত এটা স্পষ্ট যে, লো ইনটেন্সিটি বা কম ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছে। তবে টার্গেট কারা, সেটা বোঝা যাচ্ছে না।”

আরও পড়ুন: পাঁচিল ধসিয়ে উড়ল বিমান, চালক কিন্তু এখনও অন্ধকারেই!

গ্রেনেড না আইইডি তা-ও নিশ্চিত করতে পারেননি বিশেষজ্ঞরা। —নিজস্ব চিত্র।

ক’দিন আগেই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের এসটিএফ কানপুর থেকে কাশ্মীরের হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি সংগঠনের সক্রিয় সদস্য হিসাবে অসমের এক বাসিন্দাকে গ্রেফতার করে। সেই সূত্র ধরে অসমের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আরও ছ’জনকে গ্রেফতার করে অসম পুলিশ। এরা অসমে হিজবুল মুজাহিদিনের অসম শাখা তৈরি করার পরিকল্পনা করেছিল। এ দিনের বিস্ফোরণের পিছনে কোনও জঙ্গি সংগঠনের ভূমিকা আছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত ভাবে বলতে পারেনি অসম পুলিশ। তবে গোটা ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে গুয়াহাটিতে।

(দেশজোড়া ঘটনার বাছাই করা সেরা বাংলা খবর পেতে পড়ুন আমাদের দেশ বিভাগ।)