কেক আনবেন না, ঢাক-ঢোলও বাজবে না।

আগে থেকেই এই নির্দেশ ছিল। জন্মদিনটা সাদামাঠা ভাবেই কাটালেন রাহুল গাঁধী। আর একটি কাজও করলেন সঙ্গে। তাঁকে নিয়ে দলের নেতা-কর্মীদের মনের কথাও বোঝার চেষ্টা করলেন।

৪৯ বছর পার করলেন রাহুল। আকবর রোডে এআইসিসি দফতরে সকালেই পৌঁছে গেলেন মনমোহন সিংহ, পি চিদম্বরম, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরারা। লোকসভায় দলের নতুন নেতা অধীর চৌধুরীও। সঙ্গে নেতা-কর্মীর ঢল। সকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে রাহুলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন। প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। ফোন এসেছে অন্য দলের নেতাদেরও। কর্মীরা ফুল হাতে ভিড় করেছেন এআইসিসিতে। হাতে লাড্ডুর বাক্স নিয়ে এআইসিসি দফতরে ঢুকে সাংবাদিকদেরও খাওয়ালেন রাহুল।

কিন্তু বাড়তি আড়ম্বর যেন না হয়, আগে থেকেই বারণ ছিল রাহুলের। দল অবশ্য যুক্তি দিয়েছে— বিহারে এত শিশুমৃত্যুর মধ্যে কী করে উৎসবে মাতেন কংগ্রেস সভাপতি? কেউ বা বলছেন, পুলওয়ামায় ফের জওয়ানের মৃত্যু, সে কারণেই উৎসবে মানা। কারণ যা-ই হোক, কংগ্রেসের সিংহ ভাগ নেতা একে একে শুভেচ্ছা জানিয়ে শুধু একটিই দাবি তুলেছেন, ‘‘আপনিই সভাপতি থাকুন।’’

উত্তরপ্রদেশের নেতা প্রমোদ তিওয়ারি বেরিয়ে এসে বললেন, ‘‘রাহুল গাঁধী সকলের সঙ্গে আলাদা দেখা করছেন। আমি সাফ বলে দিয়েছি, আপনাকেই থাকতে হবে।’’ গৌরব গগৈ জানালেন, ‘‘ভারতকে যদি ভারত রাখতে হয়, দেশে মানবিকতা বজায় রাখতে হয়, তা হলে রাহুল গাঁধীর দরকার আছে। আমরা সকলেই এ কথা তাঁকে জানিয়েছি। দলের কর্মীদেরও এই মত। এমনকি অন্য দলের নেতারাও চান, রাহুল সভাপতি থাকুন।’’ কর্মীরাও স্লোগান তোলেন, ‘‘রাহুল ভাইয়া এগিয়ে চলো, আমরা তোমার সঙ্গে আছি!’’

হাসিমুখে রাহুলও শুনলেন সকলের কথা। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘রাহুল ছাড়া কংগ্রেসের কোনও গতি নেই। তাঁকেই থাকতে হবে পদে। অনেক দিন পরে আজ তিনি নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করলেন।’’ উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতি অবশ্য আহমেদ পটেল। গত কয়েক দিন ধরেই তিনি রাহুলের টিমকে হারের জন্য দায়ী করছেন। তবে ওই নেতার দাবি, রাহুল আজ নিশ্চয়ই বুঝেছেন নেতা-কর্মীরা কী চান।

দফতরের পর্ব মিটিয়ে রাহুল ছুটলেন সংসদে। যেখানে আজ নতুন স্পিকারের দায়িত্ব গ্রহণের অনুষ্ঠান ছিল। পথে যেতেই প্রধানমন্ত্রীর টুইটের জবাব দিলেন: ‘‘নরেন্দ্র মোদীজি, শুভেচ্ছার জন্য ধন্যবাদ। প্রশংসনীয়।’’ মনমোহন সিংহ থেকে দলের কর্মীদের ছবি পোস্ট করেও বললেন, ‘‘ভালবাসায় আপ্লুত।’’ লোকসভায় প্রথম সারিতে বসলেন মা সনিয়া গাঁধীর পাশেই। রাহুলের জন্মদিনের প্রসঙ্গ তুলে বলতে গিয়ে হাসির খোরাক হলেন বিজেপির শরিক দলের নেতা রামদাস
আটওয়ালে। মোদীর কাছে হেরে গিয়ে বিরোধী আসনে বসতে হওয়ায় রাহুলকে কটাক্ষ করছিলেন আটওয়ালে। কিন্তু বিজেপিরই অনেক সাংসদ স্মরণ করিয়ে দিলেন, ‘‘জন্মদিনে তাঁকে অভিনন্দন জানান, এ সব কথা এখন বলার নয়।’’

আটওয়ালে বলেন, ‘‘আজ আপনার জন্মদিন?’’ ঘাড় নেড়ে রাহুল বোঝান, হ্যাঁ। আটওয়ালে বললেন, ‘‘রাহুল গাঁধী তো আমার বন্ধু। ভোটের আগে অনেক নেতা কংগ্রেসে যেতে বলছিলেন।’’ সনিয়া ইশারায় বললেন, ‘‘চলে আসুন।’’ আটওয়ালের কথা: ‘‘কেন যাব? এক সময়ে রাহুলের দলের সরকার ছিল, আমিও সঙ্গে ছিলাম। এখন দেখলাম মোদীজির পক্ষেই হাওয়া চলছে। আমরা ভাল কাজ করব, আপনাদের আর আসতে দেব না। তবে রাহুল গাঁধী ও দিকে বসেছেন, তাই অভিনন্দন।’’ রাহুল-সনিয়া থেকে মোদী-অমিত শাহ হেসে লুটোপুটি।