একটু একটু করে সরছে দূষণের চাদর। পশ্চিমী ঝঞ্ঝার কল্যাণে সামান্য স্বস্তিও পেয়েছে রাজধানীর মানুষ। তবে এখনও বিপদ কাটেনি বলেইমনে করছেন পরিবেশবিদরা। তাঁদের স্পষ্ট মত, ফসলের গোড়া পোড়ানো বন্ধ না হলে দিল্লিবাসীর সমস্যা মিটবেও না। সোমবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদও নাসার ইনফ্রারেড ইমেজে দেখা গিয়েছে উত্তর ভারতের ৫ হাজার ৩০৯টি জায়গায় আগুন জ্বালানো হচ্ছে। তাতেই চিন্তার ভাঁজ পরিবেশবিদদের কপালে।

সোমবারই সুপ্রিম কোর্টে দূষণ মামলার শুনানিতে হরিয়ানা, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ ও দিল্লি সরকারের প্রতিনিধিদের বিচারপতি অরুণ মিশ্র ও দীপক গুপ্তর বেঞ্চ জানায়, কোনও রাজ্য থেকে ফসলের গোড়া পোড়ানোর খবর পাওয়া গেলে সেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে যে গ্রামে তা পোড়ানো হচ্ছেতার পঞ্চায়েত প্রধান— সকলকেই জবাবদিহি করতে হবে।ওই দিনই বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ সামনে আসে নাসার ইনফ্রারেড চিত্রটি। তাতে দেখা যায় উত্তর ভারতের উপর মোট ৫ হাজার৩০৯টি লাল বিন্দু। পরিবেশবিদরা এই জায়গাগুলিকে আবাদি জমি বলেই চিহ্নিত করছেন। সেখানে আগুন জ্বলছিল বলে তাঁরা জানান। ছবির ‘লাল’ জায়গাগুলির অধিকাংশই পঞ্জাবে।

এই মুহূর্তে কেমন দূষণ দিল্লিতে, লাইভ দেখুন
 

দীপাবলির সময় থেকে দূষণে জেরবার দিল্লির অবস্থা মঙ্গলবার সামগ্রিক ভাবে গত কয়েক দিনের তুলনায় ভাল। সোমবার দিনের শুরুতে দিল্লির বাতাসের গুণগত সূচক ছিল ৫৭৫। এ দিন সকাল ৯টা ৪৪ মিনিটে দেখা যায়, রাজধানীতে বাতাসের গুণগত মানের সূচক(একিউআই)৩৬৫। বিবেকবিহার, আনন্দবিহার এলাকায় এই সূচক ওই সময়ে ৪১০ ও ৩৯৫ ছিল। মৌসমভবন সূ্ত্রে খবর, আগামী ২৪ ঘণ্টায় ঝোড়ো হাওয়া বইবে। ফলে আরও নামবে দূষণ সূচক। তাতেই কিছুটা হলেও স্বস্তি পাবেন রাজধানীর মানুষ।

আরও পড়ুন: লুঠপাট করে সব নিয়ে গেলেও গ্যাস বুকিংয়ের জন্য সিম ও ২ হাজার টাকা দিয়ে গেল দুষ্কৃতীরা
আরও পড়ুন:মায়ের মৃত্যু দিনেই ফাঁকা ফ্ল্যাটে রহস্যমৃত্যু ২৪ বছরের মেয়ের!

সোমবার সকাল থেকেই ১৭/১৮ কিলোমিটার বেগে বাতাস বইছিল রাজধানীতে। কেজরীবাল সরকারের দাবি, জোড়-বিজোড় ফর্মুলা চালু করায় রাস্তা থেকে ১২ লক্ষ গাড়ির চাপও কমেছে।এই দাওয়াইয়েই দূষণের চাদর সরতে শুরু করেছে দিল্লি থেকে।

সমগ্র উত্তর ভারতের দূষণ পরিস্থতি পর্যালোচনার জন্যে এ দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে একটি বৈঠক আয়োজিত হয়। পিএমও থেকে টুইট করে জানানো হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী পশ্চিম ভারতের সাইক্লোনের বিষয়েও খবর নিয়েছেন।