বছরের শেষে বিরোধীদের চমকে দিলেন প্রধানমন্ত্রী। বললেন, ‘‘নেতিবাচক প্রচার করা খুব সহজ।’’ প্রধানমন্ত্রীর দাওয়াই, ইতিবাচক বিষয়কে ‘ভাইরাল’ করতে হবে সকলে মিলে। 

উপলক্ষ ছিল রেডিয়োতে এ বছরের শেষ ‘মন কী বাত’ অনুষ্ঠান। যেখানে প্রধানমন্ত্রী ২০১৮ সালে কী কী উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেছেন তার বিবরণ দিচ্ছিলেন। একইসঙ্গে প্রয়াগরাজে কুম্ভের প্রচার করলেন ঢাকঢোল পিটিয়ে। প্রজাতন্ত্র দিবসে যে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট অতিথি হয়ে আসছেন, সে কথা বললেন। সেই সূত্র ধরেই নেলসন ম্যান্ডেলা, মোহনদাস কর্মচন্দ গাঁধীর কথা তুললেন। তার পরেই নতুন বছরে নিজেদের বদলে ফেলে দেশকে বদলানোর বার্তা দিলেন। 

কিন্তু বিরোধীরা বিভ্রান্ত। প্রধানমন্ত্রী নেতিবাচক কথা ছড়ানো ‘সহজ’ বলে নিজের কথা কবুল করলেন? নাকি বিরোধীদের খোঁচা দিতে চাইলেন? যদি দ্বিতীয়টিও হয়, তাহলেও নরেন্দ্র মোদীর মুখে কি সে কথা মানায়? যিনি গত সাড়ে পাঁচ বছর ধরে নেতিবাচক প্রচারই করে এসেছেন, এখনও করছেন! ফেসবুকে ছোট্ট একটি শিশুকে কোলে নিয়ে নিজের পুরনো একটি ছবি পোস্ট করলেন রাহুল গাঁধী। শিশুটির মুখে অম্লান হাসি। রাহুল  লিখলেন, ‘‘মন কি বাত বলতে হয়। কিন্তু দিল কি বাত নিজের লক্ষ্যে নিজে থেকেই পৌঁছে যায়।’’ 

‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠান শোনার জন্য সব বিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে আজ সকাল এগারোটায় হাজির থাকতে বলেছিলেন মোদী। দেশের নানা প্রান্তে দলের কর্মীদের এটি শোনার নির্দেশ পাঠানো হয়েছে। গত কাল উত্তরাখণ্ডে রেডিয়ো বিলি করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বক্তৃতা শোনার জন্য। রেডিয়ো বার্তায় প্রধানমন্ত্রী কাশ্মীরের মেয়ে হানায়া নিসারের ক্যারাটেতে, ১৬ বছরের রজনীর বক্সিংয়ে সাফল্যের কথা শোনান। তিনটি ওয়েবসাইটও বলেন, যেখানে শুধুই ইতিবাচক খবর প্রচার হয়। রাহুলও নিজের ফেসবুকে রাজস্থানের প্রিয়া পুনিয়ার ক্রিকেটে সাফল্যের তারিফ করেন। প্রিয়া নিউজিল্যান্ডে টি-২০ খেলার জন্য মনোনীত হয়েছেন। তাঁর বাবা মেয়ের ক্রিকেট খেলার জন্য নিজের সম্পত্তি বেচে ও ঋণ নিয়ে একটি মাঠই কিনে ফেলেছেন।