অভূতপূর্ব এক পেনশনের আবেদন নিয়ে মহাসঙ্কটে ভারতীয় রেল। বছর বত্রিশের আবেদনকারী লিঙ্গ পরিবর্তন করে ছেলে থেকে মেয়ে হয়েছেন। তাই রেলকর্মী বাবা এবং মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনের দাবি করেছেন। কিন্তু নিজেরা সিদ্ধান্ত নিতে না পেরে শেষ পর্যন্ত সাদার্ন রেলওয়ের আধিকারিকরা সেই পেনশনের আবেদনপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রের পেনশন ও জন অভিযোগ মন্ত্রকে। সূত্রের খবর, আবেদনপত্র পাওয়ার পর তাঁরাও কার্যত ঠিক করে উঠতে পারছেন না, ঠিক কী করা উচিত।

রেল সূত্রে খবর, ২০১৮ সালের মাঝামাঝি ওই আবেদনপত্রটি আসে। নজিরবিহীন সেই আবেদন নিয়ে পদস্থ কর্তারা দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা-পর্যালোচনা করেছেন। কিন্তু কোনও সিদ্ধান্তে আসতে পারেননি। তাই শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি কেন্দ্রের উপরেই সিদ্ধান্তের ভার ছেড়েছেন তাঁরা।

বাবা ছিলেন রেলের কর্মী। অবসর নেওয়ার পর দীর্ঘদিন পেনশন পেয়েছেন। ২০১৭ সালে তিনি মারা যান। আগেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রীর অর্থাৎ আবেদনকারীর মায়ের। সঙ্কটের সূত্রপাত তার পর থেকেই। বাবার মৃত্যুর পরই তিনি রেল কর্তৃপক্ষকে আবেদন করেন, বাবার পেনশন তাঁর প্রাপ্য। কারণ, তিনি ছেলে থেকে লিঙ্গ পরিবর্তন করে মেয়ে হয়েছেন।

পেনশনের নিয়ম কী? রেলকর্তারা জানাচ্ছেন, অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর পর ওই রেলকর্মীর ছেলে ২৫ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার যোগ্য। কিন্তু বয়স ২৫ পার হয়ে গেলেই আর সেই যোগ্যতা থাকে না। তবে অবলম্বনহীন অবিবাহিত বা বিধবা মেয়ের ক্ষেত্রে এই বয়সের কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। আর সেই জায়গা থেকেই ওই আবেদনকারীর যুক্তি, বাবা বেঁচে থাকতেই যেহেতু তাঁর লিঙ্গ পরিবর্তনের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে এবং বাবার মৃত্যুর আগে থেকেই যেহেতু মহিলা জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত, তাই এই পেনশন তিনি পাওয়ার যোগ্য।

আরও পড়ুন: পর পর দু’বার মাথায় গুলি করেছিলাম, রোমহর্ষক স্বীকারোক্তি নরেন্দ্র দাভোলকরের হত্যাকারীর

আরও পড়ুন: মাদকবিরোধী মিছিলেই টলমল পায়ে ‘মত্ত’ সোনারপুরের আইসি! সাসপেন্ড করল জেলা পুলিশ

রেল কর্তারা জানাচ্ছেন, রেলের ইতিহাসে এমন কোনও চিঠির নজির নেই। আবার পেনশনের নিয়মেও লিঙ্গ পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা নেই। শুধু ছেলে এবং মেয়ের ক্ষেত্রেই সব কিছু নির্দিষ্ট করা রয়েছে। তাই এখন আবেদনকারীর জন্ম হিসেবে তাঁর লিঙ্গ নির্ধারণ হবে, নাকি পরিবর্তনের পর যেহেতু মহিলা, সেটাই ধরা হবে, তা নিয়েই  মহা সঙ্কটে পড়েছেন তাঁরা।