‘‘বাবা, আমার বিয়ে মেনে নাও।  যে গুন্ডাকে পাঠিয়েছ, সেই রাজীব রানা... আমাদের কিছু হলে ওর পুরো খানদান জেলে যাবে। পালাতে পালাতে আমি ক্লান্ত।’’ 

‘‘পাপা এবং ভিকি, মাননীয় এমএলএ পাপ্পু ভারতৌলজি এবং ভিকি ভারতৌলজি, নিজেরা শান্তিতে থাকো, যত খুশি রাজনীতি করো, আমাদেরও শান্তিতে থাকতে দাও।’’ 

সিনেমা নয়। ভিডিয়োয় উত্তরপ্রদেশের বিজেপি বিধায়ক রাজেশ মিশ্রের (পাপ্পু ভারতৌল নামেই পরিচিত বেশি) উদ্দেশে মেয়ে সাক্ষীর এই আর্জি দেখে তোলপাড় দেশ। আতঙ্কিতও। 

বাবার অমতে তথাকথিত দলিত ছেলেকে বিয়ে করেছেন। সাক্ষীর ‘অপরাধ’ এটাই। সাক্ষী এবং তাঁর স্বামী, পেশায় ব্যবসায়ী অজিতেশ কুমার একাধিক ভিডিয়োয় জানিয়েছেন, পাপ্পুর পাঠানো গুন্ডারা তাঁদের খুঁজছে খুন করবে বলে। ভয় দেখানো হচ্ছে অজিতেশের পরিবারকেও। শুধু বাবাই নন, ভাই ভিকিও এ কাজে জড়িত। তাই প্রাণ বাঁচাতে সব কথা ভিডিয়ো করে সোশ্যাল মিডিয়ায় দিয়েছেন সাক্ষী। নিরাপত্তা চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টেও আজ আবেদন জানিয়েছেন নবদম্পতি।

রাজেশ বরেলীর বিঠারি চেনপুরের বিধায়ক। তাঁর মেয়ে, ২৩ বছর বয়সি সাক্ষী তথাকথিত দলিত পরিবারের ছেলে, ২৯ বছর বয়সি অজিতেশকে বিয়ে করেছেন প্রয়াগরাজে এক মন্দিরে, গত বৃহস্পতিবার। তার পর প্রাণ ভয়ে পালিয়ে বেড়ানো। একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, গাড়িতে সাক্ষী-অজিতেশ পাশাপাশি বসে। সাক্ষী বলেন, ‘‘নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। আমার বাড়ির লোকজন সেটা মেনে নিতে পারছে না। গুন্ডা লাগিয়েছে। আমাদের রক্ষা করুন।’’ এর পরে অজিতেশ বলেন, ‘‘একটা হোটেলে উঠেছিলাম। প্রচুর লোক এসেছিল আমাদের মেরে ফেলবে বলে। (সাক্ষী পাশ থেকে জানান, তাদের মধ্যে তাঁর বাবার বন্ধুরা ছিল, এক জনের নাম রাজীব) ভাগ্য ভাল, সুযোগ বুঝে পালিয়ে যাই। আমি দলিত পরিবারের ছেলে। তাই নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে এই সব করছে।’’ 

অন্য একটি ভিডিয়োয় সাক্ষীকে আরও জোর দিয়ে বলতে দেখা গিয়েছে, ‘‘বাবা, আমি সত্যিই বিয়ে করেছি। ফ্যাশন করে সিঁদুর পরিনি। দয়া করে মেনে নাও। অজিতেশের বাড়ির লোকজনকে ভয় দেখানো বন্ধ করো।’’ সাক্ষী ভিডিয়োয় এ-ও বলে রেখেছেন, তাঁদের কিছু হলে দায়ী থাকবে তাঁর বাবা, ভাই ও রাজীব রাণা। অন্য বিজেপি নেতারা যে বাবাকে সাহায্য করছেন, তা-ও জানিয়েছেন তিনি। ভিডিয়োয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘‘বাবা, অজিতেশরাও মানুষ, জানোয়ার নয়। নিজের চিন্তাভাবনা বদলাও!’’ 

সাক্ষীর ভিডিয়ো ক্লিপিং টুইটারে শেয়ার করেছেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। লিখেছেন, ‘‘এই মেয়েটি বরেলীর বিধায়কের মেয়ে। এখানেই ‘মুক্কাবাজ়’-এর শুটিং করেছিলাম।’’ অনুরাগের এই ছবিতেও জাতপাতের ভেদাভেদ দেখানো হয়েছিল। এই মুহূর্তে যেমন দলিতদের প্রতি বৈষম্য উঠে এসেছে ‘আর্টিকল ১৫’ ছবিতে।

পুলিশের ডিআইজি আর কে পাণ্ডে জানান, তিনি ভিডিয়োটি দেখেছেন। এই দম্পতিকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে। অজিতেশের বাড়ির সামনে প্রহরা বসানো হয়েছে। তবে ওই দম্পতি কোথায়, তাঁদের অজানা! 

পাপ্পু (তাঁর বিরুদ্ধে আগেই চারটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা রয়েছে) অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সাংবাদিকদের কাছে তাঁর দাবি, ‘‘সব রাজনৈতিক চক্রান্ত। আমি বিয়ের বিরোধী নই। একটাই চিন্তা, ছেলেটি মেয়ের থেকে ৯ বছরেরও বেশি বড়। তেমন রোজগারও করে না। আমি চাই, ওরা বাড়ি ফিরে আসুক।’’