• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

তুমুল বর্ষণে উত্তরপ্রদেশে মৃত ৭৩, বানভাসি বিহার, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশও

flood in up
চার দিনের তুমুল বর্ষণে বানভাসি উত্তরপ্রদেশ। ছবি-টুইটারের সৌজন্যে।

Advertisement

টানা চার দিনের প্রবল বর্ষণে কার্যত বানভাসি পূর্ব উত্তরপ্রদেশ ও বিহারের বিস্তীর্ণ এলাকা। শুধু উত্তরপ্রদেশেই মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৭৩ জনের। পূর্ব উত্তরপ্রদেশের বেশির ভাগ জেলায় আরও দু’দিন ধরে ভারী ও অত্যন্ত ভারী বর্ষণ হতে পারে জানিয়ে জারি করা হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা।

শুক্রবার থেকে টানা ভারী বর্ষণে ডুবুডুবু পটনাও। ভাগলপুরে একটি বাড়ির দেওয়াল ধসে মৃত্যু হয়েছে তিন জনের। গত দু’দিনেপ প্রবল বর্ষণে বিহারের একটি বড় অংশে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। রবিবারও বাতিল করা হয়েছে বেশ কয়েকটি ট্রেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় কী কী করণীয়, তা নিয়ে রাজ্যের সবক’টি জেলা প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে ভিডিয়ো কনফারেন্সে বৈঠক করেছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার।

প্রবল বর্ষণে নাজেহাল উত্তরাখণ্ড, জম্মু-কাশ্মীর, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশও। গত দু’দিনের তুমুল বর্ষণে মৃত্যুর খবর আসছে ওই চারটি রাজ্য থেকেও। রাজস্থান ও মধ্যপ্রদেশে তুমুল বৃষ্টিতে মৃতের সংখ্যা ছয়। জম্মু-কাশ্মীরে মৃত্যু হয়েছে এক জনের।

ভয়াবহ অবস্থা উত্তরপ্রদেশের। রাজ্যে রেকর্ড বৃষ্টি হয়েছে শুক্রবার। স্বাভাবিকের চেয়ে বৃষ্টি পড়েছে ১৭০০ শতাংশ বেশি। শুধু শনিবারেই প্রয়াগরাজে (পূর্বতন ইলাহাবাদ) বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১০২.২ মিলিমিটার। বারাণসীতে ৮৪.২ মিলিমিটার।

আরও পড়ুন- পুজোর আগে শেষ রবিবার, কেনাকাটায় বাধা হতে পারে বরুণাসুর, কালও বৃষ্টির পূর্বাভাস​

আরও পড়ুন- ঐতিহ্যের মেলা ভেস্তে দিল বৃষ্টি​

শনিবার উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন প্রান্তে একনাগাড়ে তুমুল বর্ষণে মৃতের সংখ্যা ২৬। আর বৃহস্পতি ও শুক্রবারে প্রবল বর্ষণে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ জনের। তুমুল বৃষ্টির জন্য অমেঠী, লখনউ, হারদোইয়ে সব স্কুল, কলেজ শুক্রবার থেকেই বন্ধ রাখা হয়েছে।

আপৎকালীন ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাজ্যের সবক’টি জেলার ম্যাজিস্ট্রট ও বিভাগীয় কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। দ্রুত ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় সূত্রের খবর, গত কয়েক দিনের তুমুল বর্ষণে মৃতদের পরিবার-পিছু চার লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

গত দু’দিনের তুমুল বর্ষণে ডুবুডুবু বিহারে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রেল ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। স্কুল, কলেজ, এমনকী হাসপাতালও বন্ধ রাখতে হয়েছে। রবিবার সকালেই রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ১৩টি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস, আগামী কাল পর্যন্ত তুমুল বৃষ্টি হবে পটনায়। সেই আশঙ্কায় মঙ্গলবার পর্যন্ত পটনার সব স্কুল, কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

পটনার জেলাশাসক কুমার রবি বলেছেন, ‘‘বৃষ্টিতে হাল সবচেয়ে খারাপ হয়ে পড়েছে রাজেন্দ্র নগর এবং এস কে পুরি এলাকাদু’টির। নালন্দা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভিতরে জল ঢুকে গিয়েছে।’’

গত দু’দিনের তুমুল বর্ষণে বিহারের যে সব এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেই সব জায়গায় ইতিমধ্যেই জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর (এনডিআরএফ) ১৮টি দল পৌঁছে গিয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রের খবর।

তুমুল বর্ষণে একটি সরকারি স্কুলের দেওয়াল ধসে পড়ায় তিন জনের মৃত্যু হয়েছে রাজস্থানে। উদয়পুরের থোবওয়াড়ায়। শুক্রবার থেকেই স্কুলটি জলমগ্ন হয়ে পড়ে।

ও দিকে, মধ্যপ্রদেশের সিওনি জেলায় শুক্রবার তুমুল বৃষ্টিতে একটি হ্রদ ভেসে যাওয়ায় এক পুলিশ কনস্টেবল-সহ তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ঘাঁসোর-কেদারপুর রোডের উপর তিনটি দেহকে পড়ে থাকতে দেখা যায় বলে জানিয়েছেন সিওনি পুলিশের অতিরিক্ত সুপার কমলেশ খারপুসে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন