বালাকোট অভিযানের পর দিন ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘন করে পাকিস্তানি বায়ুসেনা। তাদের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাড়া করতে গিয়ে পাক অধিকৃত কাশ্মীরে ঢুকে‌ পড়েন বায়ুসেনার উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। সেখানে তাঁকে বন্দি করে পাক সেনা, বালাকোট পরবর্তী ভারত-পাক সঙ্ঘাত নিয়ে ৯ মার্চ এমনই বিবৃতি দিয়েছিল ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রক। কিন্তু সোমবার বালাকোট প্রসঙ্গে বায়ুসেনা প্রধান বিএস ধানোয়ার দাবি, ,সেনাঘাঁটি লক্ষ্য থাকলেও ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতের আকাশে প্রবেশই করতে পারেনি পাক বায়ুসেনা।

কার্গিল যুদ্ধের ২০ বছর পূর্তিতে এ দিন গ্বালিয়রে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠক করেন এয়ার মার্শাল ধানোয়া। সেখানে এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, কার্গিলের সময় ভারতের আকাশসীমা লঙ্ঘনের সাহস দেখায়নি পাকিস্তান। কিন্তু গত ২০ বছরে পরিস্থিতি কতটা বদলেছে যে, বালাকোটের পর ভারতের আকাশে ঢুকে এল পাকিস্তান? জবাবে তিনি বলেন, ‘‘বালাকোটের পর আমাদের আকাশসীমায় ঢোকেনি পাকিস্তান। তবে এ ক্ষেত্রে দু’পক্ষের উদ্দেশ্য মাথায় রাখা উচিত। আমাদের লক্ষ্য ছিল, বালাকোটে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করা, যা আমরা করে দেখিয়েছি।’’

একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওদের নিশানায় ছিল আমাদের সেনাবাহিনী। কিন্তু ওরা তা করতে পারেনি। কে এল, কোথা দিয়ে বেরিয়ে গেল, কী রকম লড়াই হল, এ সবের কোনও গুরুত্ব নেই। লক্ষ্য পূরণ হয়েছে কি না তা দেখা উচিত। আমরা লক্ষ্য পূরণ করে দেখিয়েছি। ওরা পারেনি।’’

আরও পড়ুন: মমতার সরকারের পুলিশই তাঁর প্যারোল আটকেছিল, ফেসবুকে বিস্ফোরক মদন​

তবে এখানেই থামেননি ধানোয়া। তিনি বলেন, ‘‘আর একটা কথা সাফ জানিয়ে দিই, ওরা কেউ নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে আমাদের এলাকায় ঢুকতে পারেনি।’’ 

৯ মার্চ বিদেশমন্ত্রকের ওয়েবসাইটে এই বিবৃতি প্রকাশ করা হয়।

আরও পড়ুন: ফের ধস তৃণমূলে, দঃ দিনাজপুর জেলা পরিষদের দখল নিল বিজেপি, গেলেন কালচিনির বিধায়কও​

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপি কনভয়ে হামলা করে পাক জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। প্রত্যুত্তরে ২৬ ফেব্রুয়ারি বালাকোট এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে জঙ্গি বিরোধী অভিযান চালায় ভারতীয় বায়ুসেনা। তার পর থেকে ভারতীয় সীমান্ত বরাবর, দেশের পূর্ব দিকের আকাশসীমা বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান। সাংহাই সম্মেলনে যোগ দিতে যাওয়া নরেন্দ্র মোদীর বিমানের জন্য সম্প্রতি আকাশসীমা সাময়িক ভাবে খুলতে রাজি হলেও, শেষমেশ তা হয়ে ওঠেনি। বরং মেয়াদ বাড়িয়ে আগামী ২৮ জুন পর্যন্ত আকাশসীমা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এ নিয়ে প্রশ্ন করলে এয়ার মার্শাল ধানোয়া বলেন, ‘‘ওটা ওদের সমস্যা। আমাদের অর্থনীতি ওদের তুলনায় অনেক প্রাণবন্ত। এয়ার ট্র্যাফিক আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আকাশসীমা বন্ধ রাখতে পারব না আমরা।’’ তবে বালাকোট অভিযানের পর দিন, দু’-তিন ঘণ্টার জন্য শ্রীনগরের আকাশসীমা বন্ধ রাখা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের YouTube Channel - এ।