জম্মুর একটি বাসস্ট্যান্ডে  গ্রেনেড হামলা। মৃত্যু হয়েছে ১ জনের, আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২৫ জন। মৃতের নাম মহম্মদ শারিক (১৭)। ঘটনার পিছনে হিজবুল মুজাহিদিন গোষ্ঠী রয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান গোয়েন্দাদের। জম্মু কাশ্মীর পুলিশের আইজি এম কে সিংহ বলেন, বিস্ফোরণে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহতের সংখ্যা ৩২। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে হামলায় জড়িত সন্দেহে এক জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, জম্মু বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসে বুধবার বেলা ১২টা নাগাদ গ্রেনেড হামলা হয়। বিস্ফোরণের জেরে পুরো বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। আহত হন অনেকে। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে হাসপাতালে এক জনের মৃত্যু হয়।

ভিড় বাসস্ট্যান্ডেই ইচ্ছাকৃত ভাবে হামলা করা হয়েছে, জানিয়েছেন পুলিশের এক আধিকারিক। কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছে গোটা এলাকায়। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, ‘‘মারাত্মক শব্দে কেঁপে উঠেছিল বাসস্ট্যান্ড। ভেবেছিলাম টায়ার ফাটার শব্দ। পরে বুঝলাম বিস্ফোরণ হয়েছে। আহতদের স্থানীয় বাসিন্দারাই হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন।’’

 

মৃত মহম্মদ শারিক।

আরও পড়ুন: ‘অপরাধ’ কাশ্মীরি, যোগী রাজ্যে রক্তাক্ত দুই ফল বিক্রেতার ভিডিয়ো পোস্ট করলেন অভিযুক্তই!​

আরও পড়ুন: জম্মুর জেলে সরানো হল ইয়াসিন মালিককে, কাশ্মীরে সেনার গুলিতে হত এক জঙ্গি

তদন্তে  নেমে বাসস্ট্যান্ড চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখতে শুরু করে জম্মু-কাশ্মীর পুলিশ। তাতেই সন্দেহভাজন হিসেবে ইয়াসির জাভেদ ভাট নামে এক জনকে চিহ্নিত করা হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার বাড়ি জম্মু কাশ্মীরের খানপুরা এলাকায়। আইজি বলেন, ধৃত ইয়াসির বিস্ফোরণের কথা স্বীকার করে নিয়েছে। 

অন্যদিকে পুলওয়ামা হামলার পর থেকেই উপত্যকার নানা জায়গায় সেনা তল্লাশি শুরু হয়েছে। সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে উত্তপ্ত কুপওয়ারা, ত্রাল-সহ বেশ কয়েকটি এলাকা।  বৃহস্পতিবার সকালে জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা জেলার হান্দওয়ারা এলাকায় সেনা-জঙ্গি সংঘর্ষে এক জঙ্গি নিহত হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে সন্ত্রাসবাদ হামলা কবে, কোথায়

দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামায় সিআরপিএফ কনভয়ে হামলা চালায় পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন জইশ-ই-মহম্মদ। উপত্যকার বাসিন্দা ২০ বছরের আদিল আহমেদ দারের মাধ্যমে আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। তাতে ৪০ জন জওয়ান প্রাণ হারান। সেই ঘটনার পর জম্মু-কাশ্মীরের নিরাপত্তা আঁটোসাটো করা হয়। এরই মাঝে ফের এ দিন সকালে জম্মু বাস স্ট্যান্ডে গ্রেনেড হামলায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।