চন্দ্রযান পাড়ি দিচ্ছে মহাকাশে। দেশ জুড়ে ‘বেটি বাঁচাও, বেটি পড়াও’-এর ঢক্কানিনাদ। কিন্তু মোদীর নতুন ভারতেও বাপ-মায়েরা কন্যাসন্তান চাইছেন না। তার জন্য কন্যাভ্রূণ নষ্ট করতেও পিছপা হচ্ছেন না তাঁরা।

উত্তরাখণ্ডের উত্তরকাশী জেলার ১৩২টি গ্রামে গত তিন মাসে ২১৬টি শিশুর জন্ম হয়েছে। যার মধ্যে একটিও মেয়ে নেই। যা থেকে স্পষ্ট, ঢালাও কন্যাভ্রূণ হত্যা চলছে।

উত্তরকাশী ব্যতিক্রম নয়। গোটা দেশের পরিসংখ্যানই বলছে, এ দেশে জন্মের হার কমছে। সেই সঙ্গে কমেছে কন্যাসন্তান জন্মের হারও। দেশের মানুষ এখন কম সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। কিন্তু বেশি সংখ্যায় পুত্র-সন্তানের জন্ম দিচ্ছেন। এবং গ্রামের তুলনায় শহরে এই প্রবণতা বেশি। যা থেকে স্পষ্ট, শহরে কন্যাভ্রূণ হত্যা বেশি হচ্ছে।

সদ্য প্রকাশিত রেজিস্ট্রার জেনারেল-এর ২০১৭-র স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সার্ভে বলছে, ২০১৫ থেকে ২০১৭, এই তিন বছরে প্রতি ১ হাজার পুত্র সন্তানের পাশাপাশি মাত্র ৮৯৬টি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়েছে। গ্রামে ১ হাজার ছেলের জন্ম হলে ৮৯৮টি মেয়ের জন্ম হয়েছে। শহরে ১ হাজার ছেলের জন্ম হলে ৮৯০টি মেয়ের জন্ম হয়েছে। অথচ স্বাভাবিক নিয়মে ১০০০টি ছেলের জন্ম হলে ৯৫০ থেকে ৯৫৫টি মেয়ের জন্ম হওয়ার কথা।

প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যন গত বছর তাঁর আর্থিক সমীক্ষায় বলেছিলেন, এ দেশে ২.১০ কোটি ২৫ বছরের কমবয়সি মেয়ে রয়েছে, যারা আসলে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছিলেন, অনেক বাবা-মা ছেলে না হওয়া পর্যন্ত সন্তানের জন্ম দিতে থাকেন। স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সার্ভে থেকে স্পষ্ট, এখন একটি সন্তানের জন্ম দিতে চাইলে বাবা-মায়েরা ছেলেই চাইছেন। বিশেষ করে শহরে। তার ফলে দিল্লির মতো শহর-ভিত্তিক রাজ্যেও জন্মের সময় পুত্র-কন্যার অনুপাত ২০১৫ থেকে ২০১৭-র মধ্যে ৯১৮ থেকে ৮৯৭-তে নেমে এসেছে।

গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির সর্বভারতীয় সভানেত্রী মালিনী ভট্টাচার্যর মতে, গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ আইনত বেআইনি। তা সত্ত্বেও অত্যাধুনিক আলট্রাসোনোগ্রাফির সাহায্যে গর্ভস্থ ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণ সম্ভব। তারই সুযোগ নেওয়া হচ্ছে। শহরে এইসব প্রযুক্তি সহজলভ্য বলে শহরে কন্যাভ্রূণ হত্যাও বেশি হচ্ছে বলে মালিনীর মত। কন্যাসন্তানের প্রতি কেন এখনও এ রকম দৃষ্টিভঙ্গি? সমাজতত্ত্ববিদ অভিজিৎ মিত্র মনে করাচ্ছেন, ভারতীয়রা অন্য দেশের লোকের তুলনায় পুরনো ধ্যান-ধারণা আঁকড়ে থাকতে বেশি পছন্দ করেন। ছেলে হলে বৃদ্ধ বয়সে দেখাশোনা করবে, এই জাতীয় চিন্তাভাবনা এখনও বিদ্যমান। পণপ্রথা এখনও চালু রয়েছে বলে মেয়েদের ‘আর্থিক দায়’ হিসেবে দেখাও বন্ধ হয়নি।  

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।