• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

হঠাৎ জয় শ্রীরাম ধ্বনি বাবুল-দেবশ্রীর শপথে

babul-deboshree
বাবুল সুপ্রিয় ও দেবশ্রী চৌধুরী।

Advertisement

বাংলার থেকে মন্ত্রী দু’জনেই। বাবুল সুপ্রিয় আর দেবশ্রী চৌধুরী। আজ যেন তাঁদের শপথের জন্যই ওত পেতে ছিল বিজেপি শিবির। দু’জনের নাম ঘোষণা হতেই আজ বিজেপি বেঞ্চে গর্জন উঠল ‘জয় শ্রীরাম’।

যেন তৃণমূল শিবিরকে অস্বস্তিতে ফেলতেই এই কৌশল। যাতে সে বার্তা পৌঁছে যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত।

কিন্তু দুই মন্ত্রীর শপথের সময় উপস্থিত ছিলেন না তৃণমূলের কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতা, যিনি সাধারণত এ ধরনের কোনও ‘উস্কানি’ এলে পাল্টা ঝাঁপিয়ে পড়েন। ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সব শুনেও উপেক্ষা করেন। এবং দলের অন্য নেতারাও।

বিজেপির এই অতর্কিত শ্রীরাম-খোঁচার কোনও তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া না-দেখানোর কারণ হিসেবে তৃণমূল শিবির বলছে, একে তো আজ সংসদের প্রথম দিন। তার উপর দলের নেত্রী তখন চিকিৎসকদের ধর্মঘট নিয়ে প্রবল ব্যস্ত। ফলে এই খোঁচার জবাব কী ভাবে দিতে হবে, তার কোনও স্পষ্ট দিশানির্দেশ ছিল না।  তা ছাড়া তৃণমূল নিজেও এখন ‘জয় শ্রীরাম’ বিতর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে চাইছে। তাই বিজেপির এমন কোনও ফাঁদে পা না-দেওয়াই শ্রেয় বলে মনে করছেন নেতারা। পরে তৃণমূলের লোকসভার নেতা সুদীপ বলেন, ‘‘ওরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলুন বা ‘জয় হনুমান’— আমাদের কিছু যায় আসে না। মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি আটকে রাস্তার মধ্যে চিৎকার করা হয়েছিল বলে উনি ক্রুদ্ধ হয়েছিলেন। পরে এই নিয়ে আর কিছু তো বলেননি! রাস্তার দু’পাশে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ ভাবে কিছু বললে সমস্যা কেন হবে?’’ কল্যাণেরও বক্তব্য, ‘‘যাঁরা জয় শ্রীরাম বলে চিৎকার করছেন, তাঁরা কেউ মঞ্চে উঠে রামস্তুতি বা হনুমান চল্লিশা মুখস্থ বলতে পারবেন?’’

তবে সংসদের প্রথম দিনে যখন পুরনো সাংসদদের পুনর্মিলন হচ্ছে, নতুন মুখের সঙ্গেও আলাপ হচ্ছে, সেই সময় বিজেপির এই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি অনেকেই পছন্দ করছেন না। মহারাষ্ট্রের অমরাবতী থেকে জিতে আসা নির্দল সাংসদ নবনীত রানা বলেন, ‘‘সংসদ তো জয় শ্রীরাম ধ্বনি তোলার স্থান নয়। মন্দিরে গিয়ে করুন না।’’ কিন্তু বিজেপি সূত্রের মতে, আগামিকাল যখন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদরা শপথ নেবেন, তখন ফের উঠবে এই ধ্বনি।

দেবশ্রী আজ বাংলায় শপথ নিয়েছেন। বাংলার বাকি বিজেপি সাংসদদেরও তেমন ইচ্ছা। আজ প্রথম দিনে দিলীপ ঘোষদের সঙ্গেই বসেন বঙ্গ-বিজেপির সাংসদরা। ব্যতিক্রম ছিলেন লকেট চট্টোপাধ্যায়। দলের নতুন সচেতক হিসেবে তিনি বসেছিলেন মন্ত্রীদের সঙ্গেই। সেখান থেকেই ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনি তোলায় নেতৃত্ব দেন লকেট। 

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন