একটু বুদ্ধি করে চললেই না কি ধর্ষণ এড়ানো যেত! বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে চণ্ডীগড়ের এক গণধর্ষণ কাণ্ড প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন বিজেপি সাংসদ, অভিনেত্রী কিরণ খের। বৃহস্পতিবার দিনভর সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে গলা ফাটিয়েছেন নেটিজেনরা। যদিও কিরণের বক্তব্য, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। বিষয়টিতে অনর্থক রাজনৈতিক রঙ চড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন বিরোধীরা বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।

কিন্তু চণ্ডীগড়ের রাস্তায় ঠিক কী ঘটেছিল? তা নিয়ে কিরণই  বা কী বলেছেন? ঘটনাটা কয়েক দিন আগের। ১৭ নভেম্বর সন্ধে নাগাদ বাড়ি ফেরার পথে অটোর জন্য অপেক্ষা করছিলেন ২১ বছরের এক তরুণী। কিছু ক্ষণ অপেক্ষার পর অটোর দেখাও মেলে। অটোয় চালক ছাড়াও ছিল আরও দুই যাত্রী। তরুণীর অভিযোগ, কিছুটা এগিয়েই অন্য পথ ধরে ওই চালক। এর পর নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে তিন জনে মিলে তরুণীকে ধর্ষণ করে। বুধবার চণ্ডীগড়ে এক সাংবাদিক বৈঠকে কিরণ এই প্রসঙ্গে বলেন,  ‘‘একটু বুদ্ধি করে চলা উচিত ছিল মেয়েটির। অটোর ভিতরে তিন জনকে বসে থাকতে দেখে তাতে না ওঠাই উচিত ছিল ওঁর।’’

কিরণের এই মন্তব্যকে ঘিরেই এর পর সমালোচনার ঝড় ওঠে। দিল্লির মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল বৃহস্পতিবার টুইটারে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘‘অনেকের মতোই নিগৃহীতা তরুণীর কাছেও হয়তো নিজস্ব গাড়ি বিলাসিতার নামান্তর ছিল। আমরা অনেকেই কত বার গাড়ি না পেয়ে রাস্তায় অপেক্ষা করি আর শেষ পর্যন্ত বাধ্য হই অন্যদের সঙ্গে ভাড়ার গাড়িতে উঠতে। আর শুধু মাত্র এই কারণে এক জনের দোষ অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া যায় না।’’ সাংসদ পদ থেকে কিরণের ইস্তফার দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ।

অবশ্য চুপ থাকেননি কিরণও। নিজের বিতর্কিত মন্তব্যের স্বপক্ষে এ দিন তিনি বলেন, ‘‘মহিলাদের বলছি, চণ্ডীগড় পুলিশ আপনাদের একটি বিশেষ পরিষেবা দেয়। ফাঁকা রাস্তায় গাড়ি না পেলে ১০০ ডায়াল করুন। পুলিশ তাদের গাড়িতে করে আপনাকে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে। তা  ছাড়া এখন সকলের হাতে হাতে স্মার্টফোন। অটোর নম্বর বা চালকের ছবি তুলে রাখুন। নিজের খেয়াল নিজেদেরই রাখতে হবে। কোনও রাজনীতিক হিসেবে নয়, এক জন মা হিসেবে কথাগুলো বলছি।’’

এ দিন সমালোচনাকারীদেরও এক হাত নেন তিনি। সাংসদ, অভিনেত্রী কিরণের পাল্টা অভিযোগ, ‘‘আমাদের দেশে কথায় কথায় রাজনৈতিক রঙ লাগানোর একটা প্রবণতা রয়েছে। এটা দুভার্গ্যজনক। আমি এক জন মা, এক জন মেয়েও। আর সংসদের ভেতরে হোক বা বাইরে, মেয়েদের অধিকার নিয়ে আমি বরাবরই সরব।’’