কেউ বলছেন ক্ষমা চাইতে হবে। কারও দাবি, বরখাস্ত করা হোক আজম খানকে। আর যাঁর উদ্দেশে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন আজম খান, সেই বিজেপি সাংসদ রমা দেবীর মত, ‘ওঁর লোকসভায় থাকার আর কোনও অধিকার নেই’। শুধু শাসক দলের সাংসদরা নয়, সমাজবাদী পার্টির (এসপি) সাংসদ আজম খানের বিরুদ্ধে সরব বিরোধীরাও। কংগ্রেসের লোকসভার দলনেতা অধীর চৌধুরী থেকে তৃণমূলের নুসরৎ জাহান, মিমি চক্রবর্তীরাও আজম খানের বক্তব্যের নিন্দা করেছেন। স্পিকার ওম বিড়লা জানিয়েছেন, আজম খানকে ক্ষমা চাওয়ার নির্দেশ দিতে হবে।

বৃহস্পতিবার লোকসভায় ঠিক কী বলেছিলেন সমাজবাদী পার্টির সাংসদ আজম খান? স্পিকারের চেয়ারে তথন রমা দেবী। তিন তালাক বিল নিয়ে আলোচনার সময় রমা দেবীর উদ্দেশে হিন্দিতে আজম খান যা বলেছিলেন, তার বাংলা তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘‘আপনাকে আমার খুব ভাল লাগে। মনে হয় সব সময় আপনার চোখে চোখ রেখে কথা বলি।’’

প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই আজম খানের এই মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে বিজেপি। প্রতিবাদ করেন রমা দেবী নিজেও। আজম খানকে ক্ষমা চাওয়া এবং বরখাস্তের দাবিতে সরব হন বিজেপি সাংসদরা। তাঁদের বক্তব্য ছিল, এই ধরনের মন্তব্য শুধু যে নারী জাতির অপমান তাই নয়, স্পিকারের চেয়ারেরও অসম্মান ও মর্যাদাহানিকর। হই হট্টগোলের মধ্যেই স্পিকারের চেয়ারে চলে আসেন ওম বিড়লা। এসপি সাংসদের বক্তব্যের ওই অংশ বাদ দিতে বলেন স্পিকার। প্রবল চাপের মুখে পড়ে লোকসভা কক্ষ ছাড়েন আজম খান। ক্ষমা চাইতে রাজি হননি আজম খান। উল্টে তিনি বলেন, অসংসদীয় কিছু বললে তিনি ইস্তফা দিতেও রাজি। 

কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। শুক্রবার অধিবেশন শুরু হতেই ফের বিষয়টি নিয়ে শোরগোল শুরু হয়। আইনমন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদের দাবি, ‘‘আজম খানকে হয় ক্ষমা চাইতে হবে, নয়তো তাঁকে বরখাস্ত করতে হবে। এটা আমাদের দাবি।’’ অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের প্রশ্ন, ‘‘নারীর সম্মানের প্রশ্ন জড়িত এমন কোনও বিষয়ে রাজনীতি করা উচিত নয়। আমাদের সবাইকে একজোট হতে হবে। তবু কারও কারও মধ্যে এই দ্বিধা কেন? দ্বিমত কেন? আমি কারও নাম করছি না।’’ যদিও এই বক্তব্যের সময় তিনি আঙুল দেখাচ্ছিলেন কংগ্রেস সাংসদদের দিকেই।

আরও পড়ুন: চিঠির লড়াই! অপর্ণাদের স্বঘোষিত অভিভাবক বলে তোপ, পাল্টা খোলা চিঠি ৬১ বিশিষ্ট জনের

কড়া ভাষায় সমালোচনা করেন নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও। তিনি বলেন, সারা দেশ আপনাদের দেখছে। এই কক্ষেই পাশ হয়েছে কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের যৌন হেনস্থা বিরোধী বিল। সবাইকে এক সুরে কথা বলার দাবি করছি। কোনও মহিলার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করবেন, এবং তার পরও পার পেয়ে যাবেন, এটা হতে পারে না।’’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘‘এটা শুধুমাত্র পুরুষ বা নারীর বিষয় নয়, গোটা সংসদকেই কালিমালিপ্ত করা।’’

বৃহস্পতিবার যখন আজম খান ওই মন্তব্য করেন, তখনই রমা দেবী প্রতিবাদ করে বলেছিলেন, ‘‘আপনি এই ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না।’’ আর শুক্রবার তিনি বলেন, ‘‘উনি (আজম খান) কখনও মহিলাদের সম্মান করেননি। আমরা সবাই জানি, জয়াপ্রদা সম্পর্কে তিনি কী বলেছিলেন। লোকসভায় থাকার ওঁর কোনও অধিকার নেই। স্পিকারকে আবেদন জানাব, তাঁকে বরখাস্ত করার জন্য। আজম খানকে অবশ্যই ক্ষমা চাইতে হবে।’’

আরও পড়ুন: কেন্দ্রীয় হারেই মহার্ঘ ভাতা দিতে হবে রাজ্যকে, জানিয়ে দিল স্যাট, বকেয়া মেটানোরও নির্দেশ

শাসক দল তো বটেই, আজম খানের মন্তব্যের নিন্দায় সরব বিরোধী অধিকাংশ দলের সাংসদরাও। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দলনেতা অধীর চৌধুরী নিন্দা করে বলেন, ‘‘কংগ্রেস সব সময়ই নারীর অসম্মান, অবমাননার বিপক্ষে। কিন্তু সনিয়া গাঁধীকেও লোকসভায় কুকথা বলা হয়েছে। এমনকি, ‘ইতালি কি কাঠপুতলি’র মতো মন্তব্যও করা হয়েছে।’’

তৃণমূল সাংসদদের মধ্যে নুসরতজাহান মিমি চক্রবর্তীও আজম খানের এই মন্তব্যের নিন্দায় সরব ছিলেন এ দিন। মিমি এ দিন বলেন, সংসদে দাঁড়িয়ে কোনও সাংসদই বলতে পারে না, আমার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলুন। স্পিকার স্যার, সব মহিলাই আপনার কাছ থেকে বড় কোনও সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।’’ আজম খানের বিরুদ্ধে সরব হন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।