গাঁধীনগর থেকে আডবাণীকে সরিয়ে প্রার্থী অমিত, ‘মার্গদর্শক’ বিদায়ে কটাক্ষ কংগ্রেসের
মোদী-শাহ জুটি বিজেপির দায়িত্বে আসার পরেই ‘মার্গদর্শক মণ্ডলী’তে ঠাঁই হয়েছিল প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশীর মতো প্রবীণ নেতাদের।
Advani

১৯৯১ সালে গাঁধীনগর কেন্দ্র থেকে লালকৃষ্ণ আডবাণী যখন মনোনয়ন পেশ করছেন, পাশে নরেন্দ্র মোদী। পিছনের সারিতে দাঁড়িয়ে অমিত শাহ (চিহ্নিত)। ফাইল চিত্র

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বারাণসী, লখনউয়ে রাজনাথ সিংহ, নাগপুরে নিতিন গডকড়ী, রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধে অমেঠীতে স্মৃতি ইরানি লড়বেন প্রত্যাশিতই ছিল। কিন্তু শুভ মুহূর্ত বেছে ঘোষিত বিজেপির প্রথম প্রার্থী তালিকায় গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হল গুজরাতের গাঁধীনগর আসন থেকে লালকৃষ্ণ আডবাণীর বদলে প্রথমবার লোকসভা ভোটে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহের লড়ার সিদ্ধান্ত। 

মোদী-শাহ জুটি বিজেপির দায়িত্বে আসার পরেই ‘মার্গদর্শক মণ্ডলী’তে ঠাঁই হয়েছিল প্রবীণ নেতা লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশীর মতো প্রবীণ নেতাদের। পাঁচ বছরে যে ‘মণ্ডলী’র নেতাদের এক বারও ‘মার্গদর্শন’ করতে দেওয়া হয়নি। বিজেপির উত্থানের নেপথ্যে থাকা আডবাণীকে এ বারে প্রার্থী না করার পিছনে দলের যুক্তি, ভোটে জয়কেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দলের সমীক্ষাতেও উঠে এসেছে, আডবাণীর বদলে অমিত শাহ প্রার্থী হলেই জয়ের সম্ভাবনা আছে। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী গতবার নিজের রাজ্যের আসন ছেড়ে দেওয়ার পরে অমিত শাহ গুজরাতের জমি শক্ত করতে পারবেন। গত বিধানসভা ভোটে রাহুল গাঁধীর তৎপরতার ফলে এই গুজরাতেই বেশ বিপাকে পড়েছিল বিজেপি। 

দিল্লির অলিন্দে প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে কি বিজেপিতে আডবাণী-যুগের পাকাপাকি ভাবে অবসান হল? সক্রিয় রাজনীতি থেকে কি তাহলে এ বারে বিদায় নিতে হল একদা ‘লৌহপুরুষ’ হিসেবে পরিচিত আডবাণীকে? বিজেপির আসন ঘোষণার পরেই রাহুল গাঁধীর দল আডবাণীকে প্রার্থী না করা নিয়ে কটাক্ষ করেছে। দলের নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, ‘‘প্রথমে জোর করে লালকৃষ্ণ আডবাণীকে মার্গদর্শক মণ্ডলীতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এ বার তাঁর আসনও কেড়ে নেওয়া হল। মোদী যখন দলের প্রবীণ নেতাদেরই সম্মান করতে পারেন না, দেশের জনতাকে কী করে করবেন? বিজেপি ভাগাও, দেশ বাঁচাও।’’

প্রথম তালিকায় ২৮ প্রার্থীর নাম ঘোষণা হতেই ক্ষোভ-বিতর্ক শুরু রাজ্য বিজেপির অন্দরে 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

কিন্তু বিজেপি সূত্র বলছে, প্রবীণ নেতা আডবাণীকে ইতিমধ্যেই দলের মনোভাব জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। সঙ্ঘ-বিজেপির যোগসূত্র রক্ষার দায়িত্বে থাকা নেতা রামলাল আডবাণীর কাছে বার্তা নিয়ে যান। ৭৫ বছরের বেশি বয়সি নেতাদের জয়ের সম্ভাবনা না থাকলে এমনিতেই প্রার্থী করা হবে না, সেটি আগেই স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যে কারণে আজ আর এক প্রবীণ নেতা কলরাজ মিশ্র ঘোষণা করেছেন, তিনি ভোটে লড়বেন না। মুরলীমনোহর জোশী, ভগৎ সিংহ কোশিয়ারি, ভুবনচন্দ্র খান্ডুরির মতো প্রবীণ নেতাদের নামও প্রথম তালিকায় ঠাঁই পায়নি। কিন্তু বিজেপিরই একটি অংশের মতে, গাঁধীনগর আসন ১৯৮৯ সাল থেকে বিজেপির গড়। সেখানে আডবাণী জিততে পারতেন না, এ ধারণা ভুল। অমিত শাহ যে বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জিতে এসেছেন, সেটিও আডবাণীরই সংসদীয় কেন্দ্রের অধীনে। 

বিজেপি জানিয়েছে, আজ যে ১৮৪ জনের তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে, তাতে দু’ডজনের মতো বর্তমান নাম বাদ পড়েছে। মোদী সরকারের কৃষি মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী কৃষ্ণা রাজও টিকিট পাননি। আজকের তালিকা অনুসারে উত্তরপ্রদেশে আধা ডজন নাম বাদ পড়েছে। পূর্ণ তালিকা ঘোষণা হলে সে রাজ্যে ২০ শতাংশ নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা। বারাণসী ছাড়া প্রধানমন্ত্রী অন্য কোনও আসনে লড়বেন কি না, সেটি অবশ্য এখনও স্থির করা বাকি। সপ্তাহখানেক আগে হ্যাক হয়ে যাওয়া বিজেপির ওয়েবসাইট আজ চালু হয়েছে। প্রথম তালিকা সেখানে আপলোড করা হয়েছে। বিজেপি আজ জানিয়েছে, বিহারের ১৭টি আসনেও প্রার্থী চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। রাজ্য নেতৃত্ব সেটি ঘোষণা করবেন। 

কিন্তু কংগ্রেসের কটাক্ষ, বিজেপি এত ভেবেচিন্তে প্রার্থী বাছাই করলে ধর্ষণে অভিযুক্ত নিহালচন্দ্র, গোষ্ঠী সংঘর্ষে অভিযুক্ত সঞ্জীব বালিয়ানের নাম কী করে রইল? স্মৃতি ইরানির নামের পাশে ‘পার্সি’ লেখা আছে। অথচ বিজেপি দাবি করে, তারা জাতপাতে বিশ্বাস করে না। রাজস্থানের একমাত্র মহিলা বিজেপি সাংসদ সন্তোষ আহলাওয়াতও টিকিট পাননি। বিজেপির বক্তব্য, ‘‘যিনি জিততে পারবেন, তাঁকেই প্রার্থী করা হবে। সে কারণে এখনও রমন সিংহ, বসুন্ধরা রাজে সিন্ধিয়ার মতো হেরে যাওয়া প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীদের রাখা হয়নি। জনপ্রিয়তার নিরিখেই হেমা মালিনীকে ফের মথুরায় প্রার্থী করা হয়েছে। আর সুষমা স্বরাজ আগেই ভোটে না লড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। অরুণ জেটলিও অসুস্থ।’’

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত