মোদীর রাজ্যে বেতন চেয়ে চাকরি যায় চৌকিদারের
মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন ২০০১ সালে। দু’বছর পর তাঁর সরকার মঙ্গলভাইকে চৌকিদারির চাকরি দেয়। বেতন সব মিলিয়ে ১৫০০ টাকা।
Narendra Modi

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।- ফাইল চিত্র।

দেশের ‘চৌকিদার নরেন্দ্র মোদী’ তখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী। সেই আমলে মঙ্গলভাই ভিকাভাই ঠাকুরের চাকরি কেড়ে নিয়েছিল তাঁর সরকার। অপরাধ, ন’বছর ধরে ঠকার পরে ন্যূনতম বেতনের দাবি তুলেছিলেন এই চৌকিদার। 

মোদী গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী হন ২০০১ সালে। দু’বছর পর তাঁর সরকার মঙ্গলভাইকে চৌকিদারির চাকরি দেয়। বেতন সব মিলিয়ে ১৫০০ টাকা। টানা ন’বছর ওই বেতনে কাজ করার পরে সরকার ঘোষিত ন্যূনতম পারিশ্রমিক দাবি করায় ২০১২ সালের ২৩ মার্চ চাকরি যায় মঙ্গলভাইয়ের। মোদী তখন তৃতীয় দফায় রাজপাট চালাচ্ছেন গুজরাতে। 

মঙ্গলভাই নালিশ ঠুকেছিলেন শ্রম আদালতে। সেখানে রায় হয়, বরখাস্তের নির্দেশ অবৈধ। পুনর্বহাল করতে হবে তাঁকে। রাজ্য সরকার তাঁকে নিতে রাজি হয়নি। তারা শ্রম আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে গুজরাত হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। উচ্চ আদালত ২০১৫ সালের ২ জানুয়ারি সরকারের ওই আর্জি খারিজ করে দেয়। এর পরে ন্যূনতম বেতন নিয়ে মামলাতেও উচ্চ আদালতে হেরে যায় রাজ্য সরকার। বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা জানিয়ে দেন, মঙ্গলভাইয়ের ক্ষেত্রে সরকারি নিয়ম ও রাজ্য সরকার গৃহীত সিদ্ধান্ত মানা হয়নি। নির্ধারিত ন্যূনতম পারিশ্রমিক দিতেই হবে। মঙ্গলভাই যে নিষ্ঠার সঙ্গে তাঁর কাজ করে যাচ্ছিলেন, তা-ও আলাদা করে রায়ে উল্লেখ করেন বিচারপতি। লেখেন, ‘‘রেকর্ড বলছে, কোনও ছেদ নেই, এই কর্মী ২৪০ দিনের বেশি কাজ করেছেন প্রতি বছর। এমনকি বরখাস্তের নির্দেশে যখন বেতন পাচ্ছিলেন না, সেই ১২ মাসেও।’’ সেটা ২০১৬-র ৪ মে। তত দিনে দেশের ‘চৌকিদার’ হিসেবে দু’বছর দেশ শাসন করা হয়ে গিয়েছে নরেন্দ্র মোদীর। 

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

বিজেপি অভিযোগ তুলেছে, রাফাল প্রশ্নে ‘চৌকিদার চোর’ স্লোগান তুলে কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী এই পেশার সব মানুষকে অপমান করছেন। কংগ্রেসের তোলা অভিযোগ মোকাবিলায় ভোটের মুখে মোদী এখন ‘ম্যায় ভি চৌকিদার’ অভিযান শুরু করেছেন। দলের নেতা-মন্ত্রীরা টুইটার অ্যাকাউন্টে নিজেদের নামের আগে ‘চৌকিদার’ বসাচ্ছেন। কিন্তু এর মধ্যেই গত সপ্তাহে খবর প্রকাশিত হয়েছে, ঝাড়খণ্ডের বিজেপি সরকার ১০ হাজার ঝাড়ুদারকে চার মাস ধরে বেতন দিচ্ছে না। মাসে তাঁদের বেতন ২০ হাজার টাকা। এর পর সংবাদমাধ্যমে সামনে এল চৌকিদার মঙ্গলভাইকে তার হক না দেওয়ার বৃত্তান্ত। বিজেপি ও বিরোধী দুই শিবিরেই একাংশ নেতা-কর্মী মানছেন, চৌকিদার হিসেবে মোদী অত বেশি বুক না ঠুকলে হয়তো বিরোধীরা এ জাতীয় ঘটনাগুলি খুঁচিয়ে তোলার উৎসাহ পেত না এতটা।

২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ফল

আপনার মত