লখনউয়ে রোড শো করে সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে নেমে পড়েছেন প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা। এবার নজর সংগঠনে। মঙ্গলবার লখনউয়ে প্রায় দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক করলেন প্রিয়ঙ্কা। বোঝার চেষ্টা করলেন সংগঠনের খোলনলচে, দলের বর্তমান অবস্থা। আর দীর্ঘ বৈঠক শেষে সংবাদ মাধ্যমে বললেন, ‘‘নেতাদের মতামত নিচ্ছি। শিখছি, কীভাবে ভোটে লড়াই করতে হয়।’’ বঢরাকে লাগাতার ইডির জেরা নিয়ে সুক্ষ্ম খোঁচা দিলেন মোদী সরকারকেও।

লোকসভা ভোটের আগে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রিয়ঙ্কা গাঁধী দায়িত্ব পেয়েছেন পূর্ব উত্তরপ্রদেশের।সোমবারই লখনউ বিমানবন্দর থেকে কংগ্রেস কার্যালয় পর্যন্ত রোড শোয়ে কংগ্রেস কর্মীদের ব্যাপক উন্মাদনার ছিল চোখে পড়ার মতো। সেটা ছিল আনুষ্ঠানিক অভিষেক। এ বার বাস্তবের মাটিতে লড়াই। যে ‘কুরুক্ষেত্রে’ উল্টো শিবিরে রয়েছেন যোগী আদিত্যনাথের জাতপাতের রাজনীতি। রয়েছে অখিলেশ-মায়াবতীর মতো জোটবদ্ধ শক্তি। ৪৭ বছরের প্রিয়ঙ্কাও বুঝতে পারছেন, সেই ‘রণক্ষেত্র’ অনেক কঠিন।

যে কোনও লড়াইয়ের মন্ত্র, নিজের এবং শত্রুর শক্তি ও দুর্বলতা সম্পর্কে আগে ভাল করে পর্যবেক্ষণ, নিরীক্ষণ করা। মঙ্গলবার রাতে লখনউয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সেই কাজটিই সারলেন প্রিয়ঙ্কা। দলের নেতা-নেত্রীদের সূত্রে খবর, প্রতিটি এলাকা, প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিনিধিদের কথা আলাদা করে শুনেছেন রাজীব-কন্যা। কংগ্রেস যে সব এলাকায় দুর্বল, সেই সব এলাকার অধিকাংশের কাছেই প্রশ্ন ছিল, কংগ্রেস কেন দুর্বল বা বিরোধী দল কেন শক্তিশালী। আবার কংগ্রেস শক্তিশালী হলে, বিরোধীরা কোন কোন দুর্বলতার সুযোগ নিতে পারে, এসেছে তেমন প্রশ্নও। তার সঙ্গেই ভোট ম্যানেজমেন্ট, দলের গঠনতন্ত্র, পদাধিকার, নেতা-কর্মীদের এক্তিয়ার বা কার্যক্ষেত্র— এ সব সম্পর্কে বর্ষীয়ান নেতাদের কাছ থেকে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন প্রিয়ঙ্কা।

কংগ্রেসের নতুন মহারথী প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরার সম্পর্কে কতটা জানেন

আরও পডু়ন: আজ দিল্লিতে বিরোধীদের ধর্নায় মমতা-সহ তিন মুখ্যমন্ত্রী, রাহুলকে নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

মঙ্গলবার দুপুর থেকে বৈঠকে বসেন প্রিয়ঙ্কা। শেষ হয় গভীর রাতে। তার পর সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ‘‘সংগঠন, দলের কাঠামো সম্পর্কে শেখার চেষ্টা করছি। সেই অনুযায়ী কী কী পরিবর্তন করা দরকার, সেটা নিয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে। কীভাবে ভোটে লড়তে হয়, সে সম্পর্কে তাঁদের (নেতা-কর্মীদের) মতামত নিচ্ছি।’’

কিন্তু গোটা বৈঠকের পরিবেশ কেমন ছিল? দলের নেতা-কর্মীদের সূত্রে খবর, অত্যন্ত খোলামেলা পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। অনেকের সঙ্গে হালকা মেজাজে সেলফিও তুলেছেন প্রিয়ঙ্কা। তার মধ্যেই অনেকে তাঁকে লখনউ থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন। দলের নেতা-কর্মীরাও যে প্রিয়ঙ্কার কার্যকলাপে খুশি, তা তাঁদের ‘বডি ল্যাঙ্গুয়েজ’ থেকেই স্পষ্ট।

আরও পড়ুন: ‘প্রধানমন্ত্রীর জেল হওয়া উচিত’, রাফালে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ তুলে মন্তব্য রাহুলের

বেআইনি সম্পত্তি মামলায় তাঁর স্বামী রবার্ট বঢরাকে টানা জেরা করছে ইডি। প্রতিদিন হাজিরা দিতে হচ্ছে রবার্টকে। কোনও দিন নিজেই রবার্টকে ইডির দফতরে পৌঁছে দিচ্ছেন। আগেও বলেছেন, পরিবারের পাশেই তিনি রয়েছেন। কিন্তু তা নিয়ে এত দিন রাজনৈতিক মতামত প্রকাশ করা বা জল্পনা উস্কে দেওয়ার মতো কোনও মন্তব্যও করেননি প্রিয়ঙ্কা। বুধবার সকালে এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘এই রকম বিষয় চলতেই থাকবে। আমি আমার কাজ করছি।’’ এই মন্তব্য করে আসলে মোদী সরকারের প্রতিহিংসা পরায়ণতার দিকেই প্রিয়ঙ্কা ইঙ্গিত করেছেন বলে মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)