প্রধান অতিথিকে নিয়ে দিল্লির রাজপথে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এসে পৌঁছননি তখনও। প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজ শুরুর আগে ভিভিআইপি দর্শকাসনে সৌজন্য বিনিময় করতে করতে এগোচ্ছিলেন নরেন্দ্র মোদী। 

পরপর আসনে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া, মনমোহন সিংহ...। মোদী দাঁড়িয়ে পড়লেন মনমোহনের হাত ধরে। মনমোহনের পরেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তাঁর পাশে রাহুল গাঁধী এবং নিতিন গডকড়ী। 

হঠাৎ দেখা গেল, রাজনাথ পর্যন্ত আর গেলেন না মোদী। মুখ ঘুরিয়ে ফিরে এসে দাঁড়িয়ে পড়লেন নিজের নির্ধারিত জায়গায়। স্পষ্টতই কংগ্রেস সভাপতির সঙ্গে মুখোমুখি সাক্ষাৎ এড়িয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী। সন্ধেয় রাষ্ট্রপতি ভবনের সম্মেলনীতেও ছিলেন না রাহুল এবং সনিয়া গাঁধী। ফলে মোদী জমানার শেষ প্রজাতন্ত্র দিবসে ন্যূনতম সৌজন্য বিনিময়ও হল না দুই সেনাপতির।

আরও পড়ুন: প্রজাতন্ত্রে নারীশক্তির জয়জয়কার 

রাফাল চুক্তি নিয়ে ‘চৌকিদারকে’ রোজ আক্রমণ করছেন রাহুল। মোদীও ‘নামদার’ বলে বিঁধছেন কংগ্রেস সভাপতিকে। গত কালই রাহুল বলেছেন, মোদীর আক্রমণের জবাব তিনি দেবেন আলিঙ্গনে। ইতিমধ্যে বোন প্রিয়ঙ্কাকে রাজনীতিতে এনে বিজেপির রণকৌশলে ধাক্কাও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কেন প্রজাতন্ত্র দিবসের মঞ্চেও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠতে পারলেন না, সেই প্রশ্ন উঠেছে। এ কথা ঠিক যে, বিরোধীদের সঙ্গে মোদীর সম্পর্ক তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্বের গোড়া থেকেই মসৃণ নয়। জিএসটি চালুর আগে মনমোহন-সনিয়ার সঙ্গে চা-চক্র নেহাত ব্যতিক্রম। এমনকি এর আগে প্রজাতন্ত্র দিবসে রাহুলকে প্রথম সারিতে আসনও দেয়নি সরকার। 

আজ অবশ্য প্রথম সারিতে বসেই গডকড়ীর সঙ্গে টানা কথা বলে গিয়েছেন রাহুল। সূত্রের খবর, কথা হয়েছে নানা রাজ্য নিয়ে, প্রজাতন্ত্র দিবসের ট্যাবলো নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, গডকড়ী যখন মোদীর বিরুদ্ধে কার্যত বিদ্রোহ করে বিরোধী শিবিরের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে চাইছেন, তখন রাহুলের সঙ্গে তাঁর এই বার্তালাপ তাৎপর্যপূর্ণ। এনডিএ শিবির থেকে ইতিমধ্যেই গডকড়ীকে প্রধামন্ত্রী পদপ্রার্থী করার দাবি উঠেছে। রসিকতা করে অনেকে বলছেন, আসলে পাশাপাশি বসে ছিলেন এমন দু’জন, যাঁদের দু’জনেরই নজর কুর্সিতে! 

নাটক অবশ্য গড়াল অন্তিম পর্বেও। কুচকাওয়াজ শেষের পরে তখন রাষ্ট্রপতি, উপরাষ্ট্রপতি, প্রধান অতিথি চলে গিয়েছেন। দেখা গেল, রাজপথে নেমে এসে হাত নাড়তে নাড়তে হাঁটছেন মোদী। এই রেওয়াজটা অবশ্য তিনিই শুরু করেছিলেন। কিন্তু আজ মোদী হাঁটছেন তো হাঁটছেনই। রাস্তার এ-পার থেকে চলে যাচ্ছেন ও-পারে। অর্ধেক রাজপথই পেরিয়ে গেলেন এ ভাবে। যা দেখে আনন্দ শর্মা, যশবন্ত সিন‌্হা-রা বলছেন, লোকসভা ভোট সত্যিই ভাবাচ্ছে মোদীকে। তাই মরিয়া হয়ে সরকারি অনুষ্ঠানকেও ব্যবহার করছেন নিজের প্রচারের কাজে।