২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে যে বিজেপি বিরোধী জোট তৈরির চেষ্টা চলছে, তা আসলে দেশকে উপহার দেবে দুর্বল সরকার। শক্তিশালী এবং মজবুত সরকার তৈরি করতে পারে বিজেপিই। শনিবার নয়াদিল্লিতে বিজেপি জাতীয় পরিষদের বৈঠকে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে বিরোধীদের জোট প্রচেষ্টাকে এ ভাবেই কটাক্ষ করলেন নরেন্দ্র মোদী

সকালেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির জন্য কঠিন লড়াই অপেক্ষা করছে উত্তরপ্রদেশে। দীর্ঘ দিনের শত্রুতা ভুলে কাছাকাছি এসে জোটবদ্ধ ভাবে লোকসভা নির্বাচনে লড়ার কথা ঘোষণা করেছে সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টি। গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ৮০টি আসনের মধ্যে ৭৩টি আসনে জেতায় দিল্লি দখলের লড়াইটা অনেকটা সহজ হয়ে গিয়েছিল বিজেপি শিবিরের সামনে। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য,আগামী লোকসভা নির্বাচনে মায়া-অখিলেশ জোটের দাপটে বেশ কিছু আসন হারাতে হতে পারে বিজেপি শিবিরকে। তাই শনিবার বিজেপি জাতীয় পরিষদের বৈঠকে দলীয় কর্মীদের চাঙ্গা করতে কী বার্তা দেন মোদী, সে দিকে নজর ছিল সব পক্ষেরই।

নয়াদিল্লিতে ভাষণ দিতে গিয়ে শুরু থেকেই বিরোধীদের জোট প্রচেষ্টাকে কটাক্ষ করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর কথায়, ‘‘স্বাধীন ভারতের ইতিহাসে মহাজোটের প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হয়েছে। সেই ব্যর্থ প্রচেষ্টা নিয়ে ফের পরীক্ষা নিরীক্ষা করার চেষ্টা চালাচ্ছে বিরোধীরা।’’ একই সঙ্গে তাঁর দাবি, বিরোধীরা দেশে ‘মজবুর’ অর্থাৎ দুর্বল সরকার গড়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপিই পারে দেশকে ‘মজবুত’ সরকার উপহার দিতে বলে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করার চেষ্টা করেছেন মোদী।

আরও পড়ুন: বিজেপির রক্তচাপ বাড়িয়ে জোট ঘোষণা মায়াবতী, অখিলেশের

অবশ্য উত্তরপ্রদেশ বা সপা-বসপা জোট নয়, মোদীর আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কংগ্রেসই। দুর্নীতির জন্য ২০০৪-২০১৪, এই ১০ বছরে ভারতকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলে কংগ্রেসের উদ্দেশে তোপ দেগেছেন তিনি। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিজেপি বিরোধী জোট প্রশ্নে তিনি তুলে আনেন কর্নাটক এবং তেলঙ্গানা প্রসঙ্গও। তেলগু দেশম পার্টির সঙ্গে জোট করলেও তেলঙ্গানায়  যে ভাবে ধরাশায়ী হয়েছে কংগ্রেস, সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘‘পরাজয় নিশ্চিত জেনেও জোট তৈরিতে ব্যর্থ চেষ্টা চালাচ্ছে কংগ্রেস।’’ অন্যদিকে কর্নাটক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘কংগ্রেসের চাপে জোট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামীর অবস্থা এখন করণিকের পর্যায়ে গিয়েছে।’’ রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশেও জোট শরিকরা বিভিন্ন মামলা তুলে নিতে কংগ্রেসকে চাপ দিচ্ছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন: ‘অকৃতজ্ঞ, দেশবিরোধী শক্তির সঙ্গে যুক্ত’, শাহ ফয়জলকে তোপ বিজেপির

এ ভাবেই শনিবার মোদীর ৯০ মিনিটের ভাষণে বিভিন্ন সময় উঠে আসে জোট প্রসঙ্গ। যা থেকে স্পষ্ট, বিজেপি বিরোধী জোট রাজনীতিকে বেশ গুরুত্ব দিয়েই দেখছে গেরুয়া থিঙ্ক ট্যাঙ্ক।

(ভারতের রাজনীতি, ভারতের অর্থনীতি- সব গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের দেশ বিভাগে ক্লিক করুন।)