পুলওয়ামার অবন্তীপোরায় জঙ্গি হামলা নিয়ে ভারতকে সতর্ক করল পাকিস্তান। তার জেরে দক্ষিণ কাশ্মীরের ওই এলাকায় সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে। বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে খবর, পাকিস্তানের কাছ থেকে এমন সতর্কবার্তা বিরল তবে বেনজির নয়। নওয়াজ় শরিফ জমানাতেও এক বার এমন তথ্য দিল্লিকে জানিয়েছিল ইসলামাবাদ।

পুলওয়ামাতেই এক আত্মঘাতী জঙ্গির গাড়ি নিয়ে হামলার জেরে ফেব্রুয়ারি মাসে ভারত-পাক সম্পর্কে উত্তেজনা বেড়েছিল। এ বার সেই পুলওয়ামাতেই জঙ্গি হামলার সম্ভাবনার কথা ইসলামাবাদের ভারতীয় হাইকমিশনকে জানিয়েছে পাক সরকার। পাশাপাশি আমেরিকাকেও এ নিয়ে সতর্ক করেছে তারা। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রে খবর, অবন্তীপোরায় জঙ্গিরা গাড়িবোমা হামলা চালাতে পারে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি কাশ্মীরে বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছে আইএস কম্যান্ডার জ়াকির মুসা। তারই বদলা নিতে এই হামলা চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছে ইমরান খান সরকার।

ফেব্রুয়ারি মাসের উত্তেজনার পরেও অবশ্য কাশ্মীরে অশান্তি থামেনি। কয়েক দিন আগেই অনন্তনাগে জঙ্গি হামলায় নিহত হয়েছেন পাঁচ সিআরপিএফ জওয়ান। তাই পাকিস্তানের সতর্কবার্তাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই দেখছে দিল্লি।

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের মতে, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে পাকিস্তান যে পদক্ষেপ করেছে তাতে এখনও সন্তুষ্ট নয় আমেরিকা-সহ বহু দেশ। জঙ্গি কাজে অর্থ জোগানোর উপরে নজরদারি করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স’ (এফএটিএফ)। তাদের তরফে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়ে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছতে পারেনি ইসলামাবাদ। এফএটিএফ-র স্থির করা ২৭টি কাজের (অ্যাকশন পয়েন্ট) মধ্যে ২৫টি পূরণ করতেই ব্যর্থ হয়েছে তারা। এ নিয়ে আমেরিকার ফ্লরিডায় আজ শুরু হওয়া এফএটিএফ-র বৈঠকে বিপাকে পড়তে পারে ইমরান সরকার। এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলে আর্থিক সঙ্কটে থাকা পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার, বিশ্ব ব্যাঙ্কের মতো সংস্থার কাছ থেকে সাহায্য পাওয়া আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে। নরেন্দ্র মোদী সরকার সূত্রের মতে, এই পরিস্থিতিতে দায় এড়াতে ও গোটা বিশ্বকে সদর্থক বার্তা দিতে পাকিস্তান এই সতর্কবার্তা দিয়ে থাকতে পারে।

পাশাপাশি মুসার সংগঠনের পিছনে পাক মদত ছিল কি না তা নিয়েও প্রশ্ন আছে। এক সময়ে নিহত হিজবুল কম্যান্ডার বুরহান ওয়ানির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও পরে মুসার সঙ্গে হুরিয়ত নেতাদের মতান্তর হয়। তাই হিজবুল ছেড়ে আলাদা সংগঠন গড়েছিল সে। সেই সংগঠনকে আলাদা আলাদা ভাবে সমর্থন করে আইএস এবং আল কায়দা। একাধিক বার লস্কর ই তইবার মতো পাক মদতে পুষ্ট সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে,  মুসার সংগঠন কাশ্মীরের ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম’-কে নষ্ট করার জন্য তৈরি হয়েছে। এর পিছনে দিল্লিরই মদত আছে। তাই মুসার সংগঠন কোনও ছক কষলে তা নিয়ে পাকিস্তান তথ্য দিতে পারে বলে মনে করছে দিল্লি। তবে এখনও এই তথ্যের সত্যাসত্য যাচাই করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।