কেন্দ্রের প্রস্তাবে সায় রাষ্ট্রপতির। দেশে চালু হয়ে গেল উচ্চবর্ণের জন্য সংরক্ষণ আইন। চলতি সপ্তাহে সংসদে বিলটি পাশ হয়ে গিয়েছিল। শনিবার তাতে স্বাক্ষর করলেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। নয়া এই আইনের আওতায়, এ বার থেকে শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে ১০ শতাংশ সংরক্ষণ পাবেন আর্থিকভাবে অনগ্রসর উচ্চবর্ণের মানুষরা। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের পাশাপাশি দেশের সব রাজ্যের মানুষই এর আওতায় পড়বেন। যদিও এই সুবিধে পাওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত আরোপ করা হয়েছে। যেমন, পরিবারের বার্ষিক আয় হতে হবে ৮ লক্ষ টাকার নীচে অথবা ৫ একরের বেশি জমি থাকা চলবে না।

লোকসভা নির্বাচনে মাত্র কয়েক মাস বাকি থাকতে, সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে সম্প্রতি বিলটি পেশ করে কেন্দ্রীয় সরকার। বিরোধী দলগুলির দাবি, দেশজুড়ে বেকারত্বের হার যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, তখন শুধু মাত্র ভোটের ঝুলি ভরতেই এই সংরক্ষণ, যা আসলে তোষণ ছাড়া আর কিছুই নয়।  মুখে এই বিরোধিতা করলেও আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে সংসদের মধ্যে বিলটির বিরোধিতা করতে  দেখা যায়নি কাউকেই। যে কারণে চলতি সপ্তাহে সংসদের দুই কক্ষেই বিপুল সংখ্যাধিক্যে পাশ হয়ে যায় এই বিল। মঙ্গলবার পাশ হয় লোকসভায়। আর রাজ্যসভায় পাশ হয় বুধবার। সার্বিক সহযোগিতার জন্য বিরোধী দলগুলিকে ধন্যবাদও জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

কিন্তু যে বিল নিয়ে এত হইচই, তাতে সাধারণ মানুষকি আদৌ উপকৃত হবেন? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, গত ১৫ মাসে ভারতে বেকারত্বের হার যা ছিল, পরিস্থিতি তার থেকে খারাপ হয়েছে গত মাসে।  সেন্টার ফর মনিটরিং ইন্ডিয়ান ইকনমি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, গতবছর দেশের ১ কোটি ১০ লক্ষ মানুষ কাজ হারিয়েছেন। যার মধ্যে ৮৫ শতাংশই গ্রামীণ এলাকার বাসিন্দা। একই সঙ্গে তাদের দাবি, নোটবন্দি এবং ২০১৭ সাল থেকে পণ্য পরিষেবা কর (জিএসটি) চালু হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দেশের অসংখ্য ছোট ব্যবসায়ী। এই পরিস্থিতিতে সংরক্ষণের আসল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হতে পারে বলে মত অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

আরও পড়ুন: বুলেটবিদ্ধদের নিয়ে হাসপাতালমুখো অ্যাম্বুল্যান্স আটকে পুলিশি তাণ্ডব ত্রিপুরায়, ভিডিয়ো ভাইরাল​

আরও পড়ুন: দুর্বল সরকার গড়ার চেষ্টা চলছে, বিরোধীদের জোট রাজনীতিকে কটাক্ষ মোদীর