বিদেশে যাওয়ার আগে দিল্লির ভার শীলা দীক্ষিতের হাতেই তুলে দিলেন রাহুল গাঁধী। 

দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরীবালের সঙ্গে সমঝোতার পথ প্রশস্ত করতে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকে অজয় মাকেনের ইস্তফা আগেই নিয়ে নেওয়া হয়েছিল। শীলা মুখ্যমন্ত্রী কেজরীবালের বিরোধী হলেও মাকেনের মতো গোঁড়া নন। আপের সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে সম্প্রতি তিনি বলেছিলেন, হাইকম্যান্ড চাইলে এ ব্যাপারে আপত্তি নেই তাঁর। কেজরীবাল অবশ্য পরে বলেন, দিল্লির সাতটি লোকসভা আসনেই লড়বে আপ। কিন্তু মুখে এ কথা বললেও আপাতত পাঁচটিতে প্রার্থী বাছাই করে কংগ্রেসের জন্য দু’টি আসন ছেড়ে রেখেছেন কেজরীবাল। কিন্তু কংগ্রেস চাইছে চারটি আসন।

সেই জটের কথা মাথায় রেখেই দিল্লির ভারপ্রাপ্ত কংগ্রেস নেতা পি সি চাকো আজ বলেন, ‘‘এখনও পর্যন্ত সমঝোতার কোনও আলোচনা হয়নি। দিল্লিতে কংগ্রেস সাতটি আসনেই লড়ার জন্য প্রস্তুত।’’ অর্থাৎ, জোটের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি তিনি। কিন্তু অজয় মাকেন আজ শীলাকে অভিনন্দন জানানোর সময় স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, এ বারে নরেন্দ্র মোদী ও কেজরীবালের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তিনি পাশে আছেন। শীলা শুধু বলেছেন, ‘‘দায়িত্ব পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি।’’

কাল থেকে দু’দিন সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে যাচ্ছেন রাহুল। যে দেশের মাটি মোদীর ‘গড়’ বলে পরিচিত। বিজেপি নেতারা দাবি করেন, মোদীর বিদেশনীতির সাফল্যের অনেকটাই সে দেশ থেকে এসেছে। সেখানেই দু’দিনের সফরে যাচ্ছেন রাহুল। দুবাই স্টেডিয়ামে সভাও করবেন। তার আগে দলের নেতাদের তিনি বলেছেন, ‘‘৫০ বছর বয়সি প্রদেশ সভাপতি অজয় মাকেন স্বাস্থ্যের কারণে পদ ছাড়লেন। আর ৮০ বছরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হার্ট সার্জারি করে এসে বললেন, তিনি দায়িত্ব নিতে তৈরি।’’ শীলার স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে দিল্লিতে একই সঙ্গে তিন জন কার্যনির্বাহী সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে। দেবেন্দ্র যাদব, রাজেশ লিলোথিয়া ও হারুন ইউসুফ। কংগ্রেসের এক সূত্রের মতে, দলের জমি শক্ত করেই কেজরীর সঙ্গে দর কষাকষি চালিয়ে যাওয়া হবে।  বিরোধী জোট গড়ার চেষ্টায় চন্দ্রবাবু নায়ডু সম্প্রতি দিল্লি এসে রাহুল ও কেজরীর সঙ্গে দেখা করেন। অনেকেই মনে করছেন, মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনার মতো  দিল্লিতেও আপ-কংগ্রেসের স্নায়ুযুদ্ধের ফলাফলের ভিত্তিতেই আসনরফা হবে।