কানাডা, অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ব্রিটেনেও শিখ মৌলবাদ ক্রমশ বাড়ছে। এবং এর অদৃশ্য চাবি পাকিস্তানের হাতে রয়েছে বলে অভিযোগ ভারতের।

ব্রিটেনে আগামী ১৮ এবং ১৯ এপ্রিল কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রগুলির শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেখানেই তিনি এই প্রসঙ্গটি তুলবেন। কূটনৈতিক সূত্রের খবর, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেজা মে-র সঙ্গে মোদীর পৃথক বৈঠকে শিখ মৌলবাদ নিয়ে ভারতের উদ্বেগের দিকটি তুলে ধরা হবে। ভারতীয় গোয়েন্দা সূত্রের বক্তব্য, ব্রিটেন, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা এমনকী ইতালিতেও শিখ মৌলবাদের বাড়বাড়ন্ত হচ্ছে। ভারতের অভিযোগ, ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যেতে এগুলোর পৃষ্ঠপোষকতা করছে ইসলামাবাদ। একই সঙ্গে নয়াদিল্লির এটাও অভিযোগ যে, এই ধরনের মৌলবাদী আওয়াজ ঠেকানোর জন্য ব্রিটেন উপযুক্ত পদক্ষেপ এখনও করেনি। এবং সে কারণেই এই বিষয়টি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি করছে।

মোদীর আসন্ন ব্রিটেন সফরে শিখ মৌলবাদীরা বিক্ষোভ দেখাবেন বলে আগাম খবর পৌঁছেছে গোয়েন্দাদের কাছে। তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে গত ফেব্রুয়ারি মাসে কানাডার প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময়েই ব্রিটেনে একটি কট্টরবাদী শিখ সংস্থা ঘোষণা করেছিল, সে দেশের ২৭০টি গুরুদ্বারের ২২৫টিতেই ভারতীয় কর্তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে ‘রাজনৈতিক’ কারণে। এর আগে অস্ট্রেলিয়াতেও একটি গুরুদ্বারে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। এই বিষয়গুলি তুলে ধরে ব্রিটেনের কাছে নিজেদের ক্ষোভ জানাবে নয়াদিল্লি।

আরও পড়ুন: গায়ককে গুলি করে ফেসবুকে গর্ব

জনগণনার সময় তাঁদের ভারতীয় হিসেবে চিহ্নিত না করার জন্য গত সেপ্টেম্বরে আন্দোলন শুরু করেন শিখ সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশ। এ নিয়ে তাঁরা ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন করেন। প্রায় শ’দেড়েক ব্রিটিশ সাংসদের সমর্থন সে সময় তাঁরা জোগাড়ও করেছিলেন। এই মুহূর্তে ব্রিটেনে বসবাসকারী শিখের সংখ্যা কমবেশি ৪ লাখ ৩০ হাজার। ব্রিটেনে শিখদের একাধিক সংগঠন কোহিনূর হিরে ভারতকে ফেরৎ দেওয়ার বিরুদ্ধে সওয়াল করেছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ এনেছে নয়াদিল্লি।