রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করার প্রয়োজন রয়েছে মনে করলে সুপ্রিম কোর্ট অনুমতি দেবে বলে মন্তব্য করলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার, বর্তমানে এডিজি-সিআইডি রাজীবকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই শিলংয়ে সিবিআইয়ের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। সে সময় রাজীবকে গ্রেফতার করা যাবে না বলে ‘রক্ষাকবচ’ও দিয়েছিল শীর্ষ আদালত।

সিবিআইয়ের অভিযোগ, শিলংয়ে সত্যি কথা বলেননি রাজীব। তাই সুপ্রিম কোর্ট ‘রক্ষাকবচ’ সরিয়ে নিক। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হোক। এ নিয়ে শুনানির সময় প্রধান বিচারপতি আজ মন্তব্য করেন, ‘‘আমরা যদি সন্তুষ্ট হই যে গ্রেফতারির প্রয়োজন হয়েছে, তা হলে আগের নির্দেশ প্রত্যাহার করা হবে।’’ সিবিআইয়ের অভিযোগের জবাব দেওয়ার জন্য রাজীব কুমারকে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। সেদিন পরবর্তী শুনানি।

রাজ্য সরকারের আর্জি, সিবিআই সুপ্রিম কোর্টে যে সব দাবি বা আবেদন করছে, তা সিবিআইয়ের ডিরেক্টরকেই হলফনামা দিয়ে জানাতে বলা হোক। সেটিও খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের শুনানি দেখে আইনজীবীদের  একাংশের মত, সিবিআই রাজীব কুমার এবং রাজ্যের উপর চাপ বাড়াচ্ছে। সিবিআইয়ের হয়ে সওয়াল করতে একইসঙ্গে কেন্দ্রের দুই শীর্ষ আইনজীবী, অ্যাটর্নি জেনারেল ও সলিসিটর জেনারেলকে পাঠানো হচ্ছে।

আরও পড়ুন: দিল্লি দখলের লড়াই, লোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

সিবিআইয়ের অভিযোগ ছিল, সারদা-কাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেন ও দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের সম্পূর্ণ ‘কল ডিটেল রেকর্ডস’ সিবিআইকে দেননি রাজীব। এয়ারটেল-ভোডাফোন থেকেও যাতে সিবিআই সেই তথ্য না পায়, তার জন্যও ‘প্রভাব খাটানোর’ চেষ্টা করেছিলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কে কে বেণুগোপাল আজ অভিযোগ জানান, ভোডাফোনের থেকে পাওয়া তথ্য থেকে স্পষ্ট হচ্ছে, রাজীব কুমারের তত্ত্বাবধানে এসআইটি সিবিআইকে তথ্য দেওয়ার সময় কয়েক দিনের ‘কল ডিটেল রেকর্ডস’ বাদ দিয়েছিল।

প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ আজ প্রশ্ন তোলে, সিবিআই ডিরেক্টরকেই হলফনামা দিতে হবে, রাজ্য এমন নির্দিষ্ট দাবি করছে কেন? রাজ্যের আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি দাবি করেন, সিবিআইয়ের ‘দ্বিতীয় কর্তা’ এম নাগেশ্বর রাও ও তাঁর স্ত্রী-র বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলায় কলকাতা পুলিশ তদন্ত করছে, ২০১৭ থেকে। তাঁর বক্তব্য, সিবিআইয়ে ‘নানা রং’ রয়েছে। প্রথমে সিবিআই রাজীব কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলল, তার পর সিবিআই ডিরেক্টরের হলফনামায় সুর নরম হল। এর পর সিবিআই মুখবন্ধ খামে গুরুতর অভিযোগ তুলল! সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেন, নাগেশ্বরের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই পারে। কিন্তু তিনি হলফনামা জমা দেননি। প্রসঙ্গত, শিলংয়ে রাজীবকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরুর আগে কলকাতা পুলিশ ‘অ্যাঞ্জেলা মার্কেন্টাইল প্রাইভেট লিমিটেড’ নামে একটি সংস্থার অফিসে হানা দেয়। নাগেশ্বরের স্ত্রী সংস্থার অন্যতম শেয়ারহোল্ডার বলে দাবি। আর সিবিআইয়ের কার্যনির্বাহী ডিরেক্টর পদে নাগেশ্বরের শেষ দিনে রাজীবের বাসভবনে গিয়েছিল সিবিআই।