দয়ার দান চান না, তাই ফিরিয়ে দিলেন প্রকল্পের টাকা। চাইলেন আত্মহত্যার অনুমতি। এমনটাই ঘটেছে উত্তরপ্রদেশে। প্রধানমন্ত্রীর কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের টাকা ফিরিয়ে দিলেন প্রদীপ শর্মা নামে এক কৃষিজীবী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে চিঠি লিখে জানালেন, তিনি আর বেঁচে থাকতে চান না। যোগীকে প্রধানমন্ত্রীর প্রকল্পের দু’ হাজার টাকাও ফিরিয়ে দিয়েছেন ৩৯ বছরের এই কৃষিজীবী।

উত্তরপ্রদেশের এই আলুচাষি তাঁর চিঠিতে জানিয়েছেন, প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা ঋণ রয়েছে তাঁর। এই ঋণ শোধ করা কখনই সম্ভব নয় তাঁর। তাই মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে আত্মহত্যার অনুমতি দিলে তিনি বেঁচে যাবেন।

প্রদীপ জানিয়েছেন, তিনি ও তাঁর পরিবার দৈনিক গ্রাসাচ্ছাদনের ব্যবস্থাটুকও করতে পারছেন না একেবারেই। এর আগেও তিনি জেলাশাসককেও চিঠি লিখেছেন। ২০১৬ সালে শস্যের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পরে সরকারের কাছে সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন প্রদীপ। কিন্তু তিনি উত্তর পাননি সে চিঠির।

আরও পড়ুন: মুম্বই হামলাকে ‘ন্যক্কারজনক’ বলে উল্লেখ করল চিন, সন্ত্রাসবিরোধী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে তৎপরতা​

পরবর্তীতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে দিল্লি দিয়েছিলেন প্রদীপ। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী রাধামোহন সিংহের সঙ্গেও দেখা করেছিলেন, কিন্তু ফিরেছিলেন খালি হাতে। সেই সময় তাঁর কাকাও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ঋণ শোধ করতে না পারার চিন্তায়, এমনটাই বলেন প্রদীপ। তাই বাধ্য হয়েই আত্মহত্যার পথই বেছে নিতে চাইছেন তিনি। সরকারি প্রকল্পের দু’ হাজার টাকা তাঁর কোনও কাজে আসবে না, তাই মুখ্যমন্ত্রীকে সেই টাকা ফেরত পাঠিয়েছিলেন, সংবাদ সংস্থাকে এমনটাই জানান প্রদীপ।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, ক্ষতির মুখে এয়ার ইন্ডিয়া

ফলন ভাল হলেও প্রায় প্রতি বছরই ফসলের দাম না পেয়ে হতাশ হতে হয় চাষিদের। মাঝেমধ্যেই আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটে। অথচ সরকার সেসব নিয়ে উদাসীন বলে অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে প্রতিবাদ বিক্ষোভও কম হয়নি। চাষিদের সেই চিরাচরিত ছবিই আরও একবার সামনে নিয়ে এলেন এবং প্রতিবাদ করলেন প্রদীপ। ভোটের মুখে যা মোদী সরকারের অস্বস্তি বাড়িয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট, এমনটাই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে এর আগে ফসল বিক্রির টাকা পাঠিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছিলেন মহারাষ্ট্রের কৃষক সঞ্জয় শাঠে। কৃষকদের দুর্দশার কথা জানাতেই, নাসিকের নিফাদ তহশিলের সম্ভ্রান্ত চাষি সঞ্জয় বলেছিলেন, ‘‘ফলন ভালই হয়েছিল। স্থানীয় নিফাদ পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি এক টাকা দর দেয় ব্যাপারীরা। শেষ পর্যন্ত এক টাকা চল্লিশ পয়সা দরে রফা হয়। ৭৫০ কেজি পেঁয়াজ বিক্রি করে হাতে পাই মাত্র ১০৬৪ টাকা। সেই টাকাই পাঠিয়েছি প্রধানমন্ত্রীকে।’’