• সংবাদ সংস্থা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

২ বছরে এনকাউন্টারে খতম ১০৩ ‘অপরাধী’, মায়াবতীর আক্রমণের জবাবে বিস্ফোরক তথ্য যোগীর পুলিশের

Uttar Pradesh Police
এনকাউন্টারের তথ্য দিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। ছবি: টুইটার

Advertisement

হায়দরাবাদের গণধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় অভিযুক্তদের পুলিশি ‘এনকাউন্টার’-এ মৃত্যুর পর পরই উত্তরপ্রদেশ পুলিশের কর্মদক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তোপ দেগেছিলেন বিরোধী নেত্রী মায়াবতী। সেই খোঁচা খেয়ে এ বার পাল্টা ‘হুঙ্কার’ দিল যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশ। আর তাতেই প্রকাশ্যে এসে পড়ল বিস্ফোরক তথ্য। জানা গিয়েছে, গত দু’বছরে একাধিক এনকাউন্টারে ১০৩ জন ‘অপরাধী’-কে খতম করেছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

হায়দরাবাদের এনকাউন্টার নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত গোটা দেশ। এক দিকে ধর্ষণ এবং খুনে অভিযুক্ত চার জনের মৃত্যুতে দেশ জুড়ে উল্লাসে ফেটে পড়ছেন অনেকেই। উল্টো দিকে, পুলিশ নিজেদের ব্যর্থতা ধামাচাপা দিতেই ‘ট্রিগার হ্যাপি’ হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তুলছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি-সহ বিভিন্ন মহল। এই পরিস্থিতিতেই কার্যত বোমা ফাটিয়েছে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। শুক্রবার তেলঙ্গানার পুলিশের পাশে দাঁড়িয়ে যোগী সরকারের পুলিশকে বিঁধেছিলেন মায়াবতী। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ টুইট করে জানিয়েছে, ‘গত ২ বছরে ৫ হাজার ১৭৮টি এনকাউন্টারে ১০৩ জন অপরাধী নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ১ হাজার ৮৫৯ জন। এরা মোটেই সরকারি অতিথি নয়। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করছে উত্তরপ্রদেশে জঙ্গলরাজ এখন অতীত।’ উত্তরপ্রদেশ পুলিশের আরও দাবি, ১৭ হাজার ৭৪৫ জন অপরাধী হয় আত্মসমর্পণ করেছে নয় তাদের জামিন বাতিল করে সংশোধনাগারেই ফিরে গিয়েছে।

উত্তরপ্রদেশে অপরাধ জগতের রমরমা নিয়ে অভিযোগ উঠছে বেশ কয়েক দশক ধরেই। ২০১৭-র মার্চে ক্ষমতায় আসার পর উত্তরপ্রদেশ থেকে ‘জঙ্গলরাজ’ শেষ করার ‘পণ’ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। মানবাধিকার সংগঠনগুলির অভিযোগ, সেই কাজ করতে গিয়ে নানা অপরাধে অভিযুক্তদের নির্বিচার ভুয়ো সংঘর্ষে  ‘খুন’ করেছে পুলিশ। এ দিন উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দেওয়া তথ্য ফের সেই অভিযোগকে একেবারে সামনে এনে ফেলেছে।

আরও পড়ুন: রাতের কলকাতায় মহিলাদের সুরক্ষায় বিশেষ অভিযান, গ্রেফতার ৭৪​

যোগী সরকারের পুলিশ অপরাধ দমনে কতটা আন্তরিক তা পরিসংখ্যান দিয়ে প্রমাণের চেষ্টা করলেও উন্নাওয়ের গণধর্ষণের ঘটনাকে সামনে রেখে বিজেপিকে আক্রমণ শানিয়েছে কংগ্রেস। হাসপাতালে দগ্ধ অবস্থায় উন্নাওয়ের নির্যাতিতার মৃত্যুর পর পরই তাদের অফিশিয়াল টুইটার হ্যান্ডল থেকে যোগী সরকারকে বিঁধেছে কংগ্রেস। টুইটে লেখা হয়েছে, ‘উন্নাওয়ের পুলিশের পুরোপুরি রাজনীতিকরণ হয়েছে। তারা তাদের রাজনৈতিক মনিবের অনুমতি ছাড়া এক ইঞ্চিও নড়বে না। তাদের এই আচরণই অপরাধীদের উৎসাহ দিচ্ছে।’

 

আরও পড়ুন: উন্নাও গেলেন প্রিয়ঙ্কা, ধর্নায় অখিলেশ, ফাস্ট ট্র্যাক কোর্টে বিচারের ঘোষণা যোগীর

উত্তরপ্রদেশ সরকার এবং বিএসপি (বহুজন সমাজ পার্টি) নেত্রী মায়াবতীর এই সংঘাতের প্রেক্ষাপট রচনা হয়েছিল শুক্রবার। উন্নাওয়ের নির্যাতিতাকে জ্বালিয়ে দেওয়া নিয়ে যোগী সরকারকে তোপ দাগেন বিএসপি নেত্রী। পঞ্চমুখে হায়দরাবাদ পুলিশের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘উত্তরপ্রদেশে মহিলাদের উপর নির্যাতনের ঘটনা বা়ডছে, কিন্তু সরকার ঘুমোচ্ছে। এখানবার ও দিল্লির পুলিশের হায়দরাবাদের পুলিশের থেকে উৎসাহ নেওয়া উচিত। কিন্তু, দুর্ভাগ্যজনক ভাবে অপরাধীদের সঙ্গে সরকারি অতিথির মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। উত্তরপ্রদেশে এই মুহূর্তে জঙ্গলরাজ চলছে।’ মায়াবতীর আক্রমণের উত্তরে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের দেওয়া এই তথ্য নিঃসন্দেহে এ বার নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে।

সবাই যা পড়ছেন

Advertisement

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন