সুযোগ পেলেই বাঙ্কারে ঢুকে যাবেন। সেই আশঙ্কা ছিল আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের। তাই ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা খামেনেইকে কোনও সুযোগই দেয়নি তারা। শনিবার সকালে অভিযান শুরুর মুহূর্তে প্রথমেই ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল তাঁর বাসভবনে। কিন্তু কেন ওই দিন, ওই সময়ই বেছে নিয়েছিল হামলাকারীরা? সূত্র বলছে, নেপথ্যে রয়েছে গোয়েন্দাদের তথ্য।
আমেরিকার প্রশাসনের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় তেহরানে একটি বৈঠক করার কথা ছিল খামেনেইয়ের। কিন্তু ইজ়রায়েলের গোয়েন্দারা কোনও ভাবে জানতে পেরেছিলেন, শনিবার সন্ধ্যা নয়, আসলে সকালে তেহরানে বৈঠকটি করতে চলেছেন খামেনেই। তাই তড়িঘড়ি হামলার সময় এগিয়ে আনা হয় বলে দাবি করেছে সেই সূত্র। তেহরানের কোথায় বৈঠক করার কথা ছিল খামেনেইয়ের, তা যদিও প্রকাশ করেনি গোয়েন্দাদের সেই সূত্র।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্স বলছে, এর পর আর দেরি করেনি ইজ়রায়েল, আমেরিকা। তেহরানে খামেনেই যে কম্পাউন্ডে ছিলেন, সেখানে শনিবার ভোরেই প্রথম হামলাটি চালায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা। সেই এলাকায় উচ্চ নিরাপত্তা ছিল। তা ভেদ করেই এসে পড়েছিল ক্ষেপণাস্ত্র। তার পর ইরানে হামলা শুরু হয়ে যায়। উপগ্রহচিত্রে দেখা গিয়েছে, খামেনেইয়ের ওই বাসভবন, দফতর গুঁড়িয়ে গিয়েছে। ইরানের সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শনিবার ভোরে তেহরানে নিজের দফতরে বসে কাজ করছিলেন খামেনেই। তখনই ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মৃত্যু হয় তাঁর। ওই হামলায় মৃত্যু হয় তাঁর কন্যা, জামাই এবং নাতনিরও।
আরও পড়ুন:
আমেরিকা, ইজ়রায়েল হামলার চালানোর অতর্কিত পরেই ইজ়রায়েল, কাতার, বাহরিন, আরব আমিরশাহি, জর্ডন, কুয়েতে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান। ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে শুরু করে দেয় তারা। ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল, তাদের উপর হামলা চালালে পশ্চিম এশিয়ার যেখানে আমেরিকার সেনাঘাঁটি আছে, সেখানেও হামলা চালাবে তারা। সেই মতো শনিবার থেকে শুরু করে দিয়েছে।
খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরেও যে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ বন্ধ হচ্ছে না, তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে শান্তি ফেরাতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ সেখানে বোমাবর্ষণ চলবে। ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও সেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- ইরানের বাহিনী তীব্র প্রত্যাঘাতের হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নতুন বিবৃতি দিলেন ট্রাম্প। লিখেছেন, ‘‘ওরা নাকি বলেছে প্রত্যাঘাত করবে। সেটা করার সাহস যেন না দেখায়। যদি করে, আমরা এমন আঘাত করব যা আগে কখনও দেখা যায়নি।’’
- আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে তেহরান এই সংবাদ নিশ্চিত করেছে। তেহরানের রাস্তায় কান্নার রোল। মহিলারা খামেনেইয়ের ছবি হাতে রাস্তায় নেমেছেন। ইরান জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট-সহ তিন সদস্যের কাউন্সিলের হাতে আপাতত দেশ চালানোর ভার থাকবে।
- শনিবার সকাল থেকে ইরানের উপর হামলা শুরু করেছিল ইজ়রায়েল। নেতানিয়াহু দাবি করেন, খামেনেই এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। আমেরিকাও সেই হামলায় ইজ়রায়েলকে সমর্থন করেছে। ইজ়রায়েলি ও মার্কিন বাহিনীর যৌথ হামলায় মুহুর্মুহু ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়েছে তেহরান-সহ ইরানের বড় শহরগুলিতে। ইরান প্রত্যাঘাত করছে। পশ্চিম এশিয়া জুড়ে যুদ্ধের আবহ।
-
‘বন্ধু ট্রাম্প ফোন করেছেন’! ৪০ মিনিট ধরে কথা বলার পরে জানালেন মোদী, হরমুজ় ছাড়াও আর কী কী নিয়ে আলোচনা
-
আমেরিকাকে ফাঁকি দিয়ে হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে গেল ইরান বন্দর থেকে ছাড়া দুই জাহাজ! দাবি রিপোর্টে
-
নেতানিয়াহুদের সঙ্গে প্রতিরক্ষাচুক্তি স্থগিত করে দিলেন মেলোনি! জানালেন, উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণেই এই সিদ্ধান্ত
-
মার্কিন মধ্যস্থতায় ইজ়রায়েল-লেবানন শান্তি বৈঠকের আগে বেইরুটকে চাপ হিজ়বুল্লা গোষ্ঠীর! দাবি, বৃথা যাবে চেষ্টা
-
ইরানের সঙ্গে আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কেউ যেন নাক না গলায়! হরমুজ় অবরুদ্ধ করতেই আমেরিকাকে হুমকি চিনের