বয়স ১৮ বছর হলেও আর পাঁচ জনের থেকে অনেকটাই আলাদা গণেশ বারাইয়া। কারণ তার উচ্চতা মাত্র ৩ ফুট। আর ওজন? ১৫ কেজি। আসলে তিনি ৭২ শতাংশ বিশেষভাবে সক্ষম ছাত্র। কিন্তু এই বাধা তার স্বপ্নকে কোনও দিন দমিয়ে দিতে পারেনি। গণেশ ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন দেখত ডাক্তার হবে। এবার তাঁর স্বপ্ন সফল হতে চলেছে।

গত বছরই দ্য ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্ট (এনইইটি) পাশ করেন গুজরাতে ভাবনগরের গোর্খি গ্রামের বাসিন্দা গণেশ বারাইয়া। ডাক্তারি পড়ার জন্য এই পরীক্ষায় পাশ করতে হয়। কিন্তু পাশ করলেও ডাক্তারিতে ভর্তি হওয়া তার কপালে জোটেনি। গুজরাত সরকার জানিয়ে দেয়, ডাক্তারির মতো কঠিন বিষয়ে সফল হতে পারবে না গণেশ। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে যান গণেশ ও তাঁর স্কুল নীলকান্ত বিদ্যাপীঠ। এই লড়াইয়ে বরাবরই গণেশের পাশে থেকেছে তার স্কুল।

হাইকোর্ট, গুজরাত সরকারের সিদ্ধান্তই বহাল রাখে। গণেশের স্বপ্ন ধাক্কা খায়। কিন্তু দমে যাননি গণেশ ও তাঁর স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টে যান। অবশেষে সেখানে তাঁদের জয় হয়। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, নিয়ম অনুযায়ী ৪০ থেকে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিশেষভাবে সক্ষমদের মেডিক্যাল পড়ার সুযোগ দিতে হবে। এই আইনি লড়াইয়ে গণেশের স্কুল প্রায় ৪ লক্ষ টাকা খরচ করেছে।

আরও পড়ুন : ৯৬ বছরে এই গতি, ভাবতে পারেন!

আরও পড়ুন : ‘মেয়েদের জন্য বিয়ার’ আনার কথা প্রচার করে বিতর্কে গুরুগ্রামের পানশালা

নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই গণেশ স্বপ্ন দেখে চিকিত্সকর হওয়ার। এবার তার সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে। আর চিকিত্সক হয়ে বেরলেই নাম উঠবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড। কারণ এত কম উচ্চতার কোনও চিকিত্সক পৃথিবীতে নেই।