ফের ছেলেধরা গুজব। ফের হোয়াটসঅ্যাপ এবং গণপিটুনিতে মৃত্যু! এই তালিকায় এ বার কর্নাটকের বিদার। সেখানে হোয়াটসঅ্যাপে ছেলেধরা গুজব ছড়ানোয় গণপিটুনির বলি হলেন গুগলের এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন এক জন এবং গুরুতর আহত আরও তিন জনের চিকিৎসা চলছে। শনিবারের ঘটনা।

বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বেড়িয়ে রাস্তার ধারে গাড়ি দাঁড় করিয়ে কয়েকজন শিশুকে চকোলেট বিলি করছিলেন এক বিদেশি। কাতারের নাগরিক মহম্মদ সালাম নামে ওই বিদেশি আরও চার বন্ধুর সঙ্গে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন।

পুলিশ জানিয়েছে, একটি গাড়িতে কাতারের মহম্মদ সালাম, হায়দরাবাদের বাসিন্দা মহম্মদ আজম-সহ পাঁচ বন্ধু লং ড্রাইভে গিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে মহম্মদ আজমই হলেন গণহিংসার বলি ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি গুগলে কাজ করতেন। কর্নাটকের বিদারে পৌঁছনোর পর তাঁরা রাস্তার পাশে গাড়িটা দাঁড় করান। তারপর ছোট ছেলেমেয়েদের চকোলেট বিলি করতে শুরু করেন। ওই এলাকায় আগে থেকেই ছেলেধরা গুজবের একটা চাপা জনরোষ ছিলই। তার উপর বহিরাগতকে এ ভাবে চকোলেট বিলি করতে দেখে অনেকেই ঘাবড়ে যান। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপেও অনেকেই এই বার্তা পৌঁছে দেন।

আরও পড়ুন: দিল্লির মিউজিয়ামে কোটিপতি চোর! ধরিয়ে দিল সিসিটিভি

কিছু ক্ষণের মধ্যেই আশপাশ থেকে প্রচুর লোক জমায়েত হতে শুরু করেন। সেই ভিড় থেকে তাঁদের মারের হুমকি ছুটে আসতে থাকে। প্রথমে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করলেও পরে প্রাণভয়ে গাড়িয়ে চেপে পালানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু তাতেও রক্ষা পাননি।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রামবাসীরাও মোটরবাইকে পিছু ধাওয়া করেন। পরে গাড়িটি একটি মোটরসাইকেলে ধাক্কা মেরে পাশে পড়ে যায়। এর পর তাঁদের গাড়ি থেকে টেনে বার করে বেধড়ক মারধর করা হয়। পুলিশ পৌঁছনোর আগেই মারের চোটে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় ওই সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের। বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় মোট ৩২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন মহিলাও রয়েছেন।

শুরু হয়েছিল ত্রিপুরা দিয়ে। হোয়াটসঅ্যাপে শিশু অপহরণের গুজব ছড়িয়ে পড়ায় সে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনা ছড়ায়। বেশ কয়েকটি গণপিটুনির ঘটনা ঘটে। তারপর সেই গুজব দেশের অন্যান্য প্রান্তেও ছড়িয়ে পড়ে। গণপিটুনির জেরে অন্তত তিন জনের মৃত্যু হয়। মহারাষ্ট্রের ধুলেতে ভিক্ষা করতে এসে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হন পাঁচ জন। একটি ঘরে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর করা হয় তাঁদের। পাঁচ জনেরই মৃত্যু হয়। তারপরই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। ভুয়ো খবর ছড়ানো বা ফরওয়ার্ড করার প্রমাণ পেলে কড়া পদক্ষেপের বার্তা দেয়। জনগণের পাশাপাশি হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষকেও কড়া বার্তা দেয় তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিস্থতির যে খুব পরিবর্তন হয়নি তা প্রমাণ করে দিল কর্নাটক।

(মহম্মদ আজম অ্যাক্সেঞ্চারের কর্মী। গুগলের  একটি প্রকল্পে তিনি কর্মরত ছিলেন। এই সংবাদে তাঁকে গুগল ইঞ্জিনিয়ার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য আমরা দুঃখিত)