আট বছর আগে লেক কালীবাড়িতে মালাবদল করে অলকা কেডওয়ালকে ‘বিয়ে করেছিলেন’ সোনালি রায়। আজ সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পরে সোনালি বলছেন, ‘‘আইনের পরিবর্তন হয়েছে, ঠিকই। এ বার সমাজের মানসিকতার পরিবর্তন হওয়া প্রয়োজন। লড়াই আরও অনেক বাকি।’’

এ বার আর একটু সসম্মান বাঁচা যাবে, আশা সমলিঙ্গের দম্পতিদের। তবে এই আশাটুকুর বাইরে লড়াই থামার লক্ষণ নেই । অন্যায় আইনে শাস্তি পাওয়ার সম্ভাবনা নির্মূল হলেও যৌথ জীবনে পদে-পদে সমস্যা। এক সঙ্গে ঋণ নিয়ে সম্পত্তি কেনা, সন্তান দত্তক নেওয়া থেকে পরস্পরের জন্য বীমা বন্দোবস্ত করা— কোনও কিছুই সম্ভব নয়। তা ছাড়া, প্রকাশ্যে নাম-পরিচয় দিয়ে মুখ দেখানোর পথে এখনও বাদ সাধছে সামাজিক চোখরাঙানি। বেলঘরিয়ার নিমতার বাসিন্দা সমকামী নারী জুটির অন্যতম যেমন স্বীকার করছেন, ‘‘আমি ছাত্রদের পড়াই। অনেকে গ্রাম, মফস্‌সল থেকে আসে। আমার লেসবিয়ান পরিচয়ের কথা জানলে লোকে মেনে নেবে কি না, ভরসা নেই।’’ উত্তরপাড়ার বাসিন্দা কলেজের তৃতীয় বর্ষের যুবক তোর্শো এবং তাঁর প্রেমিক মনে করেন অনুকূল সামাজিক পরিবেশ এখনও দুর্লভ।

শাশ্বত লাহিড়ি ও দিয়াসা ওরফে দীপমাল্য ভট্টাচার্যের লড়াইটাও কম নয়। ছোটবেলায় বাড়ি থেকে বিতাড়িত দিয়াসার নারীতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এক সঙ্গে ডিজাইনিংয়ের ব্যবসা করেন দু’জনে। দিয়াসার কথায়, ‘‘লড়াই চলছে। রূপান্তরকামী-সমকামী ছাড়াও বহু মানুষই পাশে আছেন। এতে খানিকটা ভরসাও পাচ্ছি।’’

আরও পড়ুন: মা বললেন, মুখ বন্ধ হবে কাকু-কাকিমার?

সাধারণত ৩৭৭ ধারায় সমকামী পুরুষদের নিশানা করা হলেও, ধারাটির বিলুপ্তি ব্যক্তিগত পরিসরে পছন্দমাফিক যৌনতার স্বাধীনতা হিসেবেই দেখছেন অনেকেই। স্বাস্থ্য দফতরের কর্মী এক সমকামী যুবকের সঙ্গে বৃহস্পতিবার তাঁর কয়েক জন সহকর্মী একাডেমি অব ফাইন আর্টস চত্বরে উদ্‌যাপনের জন্য জড়ো হয়েছিলেন। ১৯৯৯-তে এ দেশে প্রথমবার সংখ্যালঘু, রূপান্তরকামীদের শোভাযাত্রা বা প্রাইড ওয়াক (তখন নাম ছিল ফ্রেন্ডশিপ ওয়াক)-এ নেতৃত্ব দিয়েছিল কলকাতাই। সমাজকর্মী বাপ্পাদিত্য মুখোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ইতিমধ্যে কলকাতার ডাকেই দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, চেন্নাই-সহ পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, মায়ানমারকে নিয়েও ‘সায়ন’ বলে একটি নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে।