বাক্‌স্বাধীনতার প্রশ্নে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬এ ধারা। নজরদারি প্রশ্নে গত শুক্রবার জারি হওয়া কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশিকার ভবিতব্যও তা-ই হতে পারে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞদের অনেকে। 

জাতীয় নিরাপত্তার খাতিরে মোবাইল থেকে কম্পিউটার সবই এখন সরকারের নজরবন্দি। দেশের ১০টি তদন্তকারী সংস্থাকে দেশদ্রোহী সন্দেহে যে কোনও ব্যক্তির মোবাইল বা কম্পিউটারে আড়িপাতার অধিকার দিয়েছে নরেন্দ্র মোদী সরকার। অভ্যন্তরীণ সুরক্ষা, সার্বভৌমত্বের যুক্তি দেখিয়ে সরকার ওই পদক্ষেপ করলেও, বিরোধীদের মতে ভোট বাজারে তাঁদের উপর নজরদারি চালাতেই ওই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আইনজীবীদের একাংশও মনে করছেন, মূলত অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার কারণে যে আইন আনা হয়েছিল, তা-ই এখন সরাসরি ব্যবহার করা হবে জনগণের নজরদারির কাজে। যা এত দিন হত আড়ালে, তাকেই এখন সরকারি রূপ দিল মোদী সরকার। 

স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ওই বিজ্ঞপ্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে। ফেসবুক-টুইটারে রসিকতা করার অপরাধে জেলে পোরার আইন তৈরি হয়েছিল ইউপিএ জমানায়। কিন্তু নাগরিক অধিকার রক্ষায় এগিয়ে এসে সুপ্রিম কোর্ট তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৬এ ধারা বাতিল করে দেয়। রায়ে বলা হয়, এতে নাগরিকের মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ হচ্ছে। প্রবীণ আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহের অভিযোগ, তার পরেও মোদী সরকার ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। যা বাক্‌স্বাধীনতার পাশাপাশি ব্যক্তিপরিসরে সরাসরি সরকারি হস্তক্ষেপ। যদিও মোদী সরকারের দাবি, তারা নতুন কিছুই করেনি। কারা তদন্ত করতে পারবে শুধু সেই অধিকারের সীমানা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের যুক্তি, এটার প্রয়োজন ছিল। কারণ, তা না হলে যে কোনও এজেন্সির তদন্তকারী অফিসার সেই কাজ করতে পারতেন। কিন্তু ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়ায় তা অপব্যবহারের সুযোগ রইল না। 

কিন্তু মিজোরামের প্রাক্তন অ্যাডভোকেট জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবের বক্তব্য, ‘‘আগের আইনে কারুর উপরে নজরদারি চালাতে গেলে নির্দিষ্ট কারণ দেখাতে হত। কিন্তু এখন সে সব এড়িয়ে ‘ব্ল্যাঙ্কেট অর্ডার’ জারি করা হয়েছে। তা ছাড়া, তথ্যপ্রযুক্তি আইনের ৬৯এ ধারায় কোথাও বলা নেই যে, দশটি এজেন্সির হাতে ওই দায়িত্ব তুলে দিতে হবে।’’ তাঁর মতে, আসলে এ হল বিরোধীদের উদ্দেশে সরকারের বার্তা। সরকার বিরোধী যে কোনও পদক্ষেপের উপর নজর রাখছে তদন্তকারী সংস্থারা। সরকারের ওই বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিম কোর্টের মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণকেও চ্যালেঞ্জ করছে বলে মনে করেন প্রাক্তন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল বিশ্বজিৎ ভট্টাচার্য।দুই প্রবীণ আইনজীবীই মনে করেন ওই বিজ্ঞপ্তি সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে চলেছে। বিশ্বজিৎ দেবের মতে, ‘‘দেশের নিরাপত্তার প্রশ্নে ৬৯এ-ধারার প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু যে ভাবে বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে তা নিশ্চিত ভাবে শীর্ষ আদালতে চ্যালেঞ্জ হবে। সরকারকে যুক্তি দিয়ে বোঝাতে হবে, কোন নিরাপত্তাজনিত কারণে তারা ওই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে বাধ্য হল।’’