ইমরান খান শেষ মুহূর্তেও কাশ্মীরের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। ভারত চাইছে কাশ্মীর প্রসঙ্গ পাশে সরিয়ে রেখে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নতি। এমনই আবহে ভারতে পা রাখলেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি চিনফিং। ঘরোয়া বৈঠকে তিনি মিলিত হবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। আগেই পৌঁছে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আগেই পৌঁছে গিয়েছেন। এ বার শি চিনফিংও নামলেন চেন্নাই বিমানবন্দরে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানালেন তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রী। সেই সঙ্গে বিমানবন্দরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমেও চিনের প্রেসিডেন্টকে অভ্যর্থনা জানানো হয়।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে খোলামেলা পরিবেশে সংলাপই এই সফরের সারকথা। শিংফিং এদিন বিমানবন্দরে পা রাখার কিছুক্ষণের মধ্যেই টুইটারে তাঁকে স্বাগত জানান নরেন্দ্র মোদী। 

দেখুন সেই টুইট:

 

বিদেশ মন্ত্রক সূত্রের খবর, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখাকে সংঘাতহীন রাখতে আরও আস্থাবর্ধক পদক্ষেপ, সন্ত্রাস এবং পরিবেশ দূষণ দমনে বাড়তি সহযোগিতা, সর্বোপরি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে ভারতের ঘাটতি কমানোর বিষয়গুলিকে অগ্রাধিকার দিতে চাইছেন মোদী। চেষ্টা করা হচ্ছে আলোচনাকে কাশ্মীর-কেন্দ্রিকতা থেকে বের করে আনতে।

বেজিঙে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে বৈঠকের পর শি-ইমরান, যৌথ বিবৃতিতেও চিন-পাকিস্তানকে কাঁধে কাঁধ মেলাতে দেখা গিয়েছে কাশ্মীর প্রশ্নে। ভারতে আসার ৪৮ ঘণ্টা আগে শি-র বক্তব্য, পাকিস্তান যেগুলিকে মূল বিষয় বলে মনে করে, তার প্রতি চিনের সমর্থন রয়েছে এবং কাশ্মীরের দিকে চিন নজর রেখেছে।

 

আরও পড়ুন: চিনফিংয়ের ভারত সফরের আগের মুহূর্তে ফের কাশ্মীর ইস্যু খুঁচিয়ে তুললেন ইমরান

তার মধ্যে আজ শুক্রবার চিনফিং চেন্নাই বিমানবন্দরে নামার কয়েক ঘণ্টা আগেই ফের কাশ্মীর ইস্যু খুঁচিয়ে তুলেছেন ইমরান খান। কাশ্মীরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইমরান বলেছেন, বিতর্কিত ভূখণ্ডে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম কেন কাশ্মীরের খবর তুলে ধরছে না, তা নিয়েও সমালোচনা করেছেন ইমরান।

সূত্রের মতে, মমল্লপুরমে কাশ্মীর নিয়ে দিল্লি কথা বলতে না চাইলেও ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের প্রভাব প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় পড়বে কি না, তা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলবেন চিনফিং। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের এটাও মত যে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতকে চাপে রাখতে পাকিস্তান তাস খেলে বেজিং। ফলে আগামী দু’দিন কাশ্মীরকে এড়িয়ে চলা যাবে কিনা সন্দেহ। তবে এ নিয়ে সংঘাত এড়ানোই লক্ষ্য সাউথ ব্লকের। বরং মমল্লপুরমের সংলাপকে অন্যান্য দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার প্রশ্নে কার্যকর করে তুলতে কোমর বাঁধছে তারা।

আরও পড়ুন: মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিমানের ধাঁচেই তৈরি হচ্ছে নরেন্দ্র মোদীর বিমান, বিপুল খরচে উঠছে প্রশ্ন

আগামিকাল শনিবার তাজ ফিশারম্যানস কোভ রিসর্টে প্রথমে দুই শীর্ষ নেতা বৈঠক করবেন। তার পর বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের সঙ্গে কথা বলবেন চিনা কমিউনিস্ট পার্টির দুই শীর্ষ নেতা ইয়াং জিয়েচি এবং ওয়াং ই। শনিবার চেন্নাই থেকে নেপাল রওনা হবেন চিনফিং। 

অন্য দিকে চিনফিংয়ের সফর উপলক্ষে সেজে উঠেছে গোটা মমল্লপুরম। নিরাপত্তার কড়াকড়িও রয়েছে এই সৈকত শহর জুড়ে। সমুদ্রেও নজরদারি চালাতে নৌবাহিনী ও উপকূলরক্ষী বাহিনী অতিরিক্ত জাহাজ মোতায়েন করেছে।