বাংলাদেশে নির্বাচিত নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে, এক মাসও হয়নি। এর মধ্যেই উত্তপ্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম। সেখানকার বান্দরবন এলাকায় সোমবার পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বা জেএসএস-মূল-এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষে এক জন প্রাণ হারিয়েছেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলাতেই সেনা অভিযান চালিয়েছিল। আর এক অংশের দাবি, সেনাবাহিনী বলপ্রয়োগ করে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ভাষ্য তৈরি করতে চাইছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলের একাংশের আশঙ্কা, পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকা নতুন করে উত্তপ্ত হলে তার প্রভাব আশপাশের এলাকাতেও পড়তে পারে। এই এলাকা মায়ানমার ও ভারতের সীমান্তবর্তী এবং কৌশলগত ভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্ব বাড়াতে সম্প্রতি সক্রিয় হয়েছে ঢাকা। এই সময়ে গোটা এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে তাতে হিতে বিপরীত না-হয়ে যায়, আশঙ্কা একটি মহলে।
স্থানীয় সূত্রের খবর, সোমবার স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা নাগাদ রোয়াংছড়ি উপজেলার মুরুং বাজার এলাকায় জেএসএস (মূল)-এর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ হয়। অভিযোগ, জেএসএস (মূল) দলের সশস্ত্র সদস্যরা গাড়ি আটকে চাঁদা আদায় করছিল। খবর পেয়ে সেনার টহলদারি দল সেখানে অভিযান চালালে জেএসএসের এক সদস্য প্রাণ হারান। আইএসপিআর সূত্রের বক্তব্য, পার্বত্য চট্টগ্রামে সব জাতি-জনজাতির নিরাপত্তার দায়িত্ব সেনারই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এলাকার আদিবাসীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কারণ, তাঁদের অভিযোগ, সরকারি মদতে জমি কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পার্বত্য এলাকায় স্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করে জনবিন্যাস পাল্টানোর চেষ্টা হচ্ছে। ফলে সশস্ত্র সংগঠনের যে সব কর্মী মূলস্রোতে ফিরে গিয়েছিলেন, তাঁরাও ধীরে ধীরে সক্রিয় হচ্ছেন। যদিও আর একটি অংশের বক্তব্য, জেএসএস সদস্যেরা তোলাবাজি-সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। কূটনীতিকদের একাংশের মতে, ভারতের উত্তর-পূর্বের সীমান্তবর্তী পার্বত্য চট্টগ্রাম নতুন করে উত্তপ্ত হওয়ায় চিন্তা বাড়তে পারে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)