আমেরিকার এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের মোকাবিলায় এ বার নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করল ইরান। পশ্চিম এশিয়ায় সামরিক সংঘাতের মাঝে ইরানের নয়া এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সম্প্রতি হরমুজ়ের কাছে মার্কিন রিপার ড্রোন ধ্বংস করে ইরান। সেই ড্রোন ধ্বংসে কারিগর আরাশ-এ-কামানগির নামে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এমনই দাবি করেছে তেহরান।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যমের দাবি, আরাশ-এ-কামানগির নামে নতুন এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি। হরমুজ় প্রণালীর কাশেম দ্বীপের কাছে মার্কিন ড্রোন গুলি করে নামিয়েছে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ইরানের দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে আন্তর্জাতিক মহলে। নতুন করে উপসাগরীয় অঞ্চলে আবার সামরিক উত্তেজনার মাঝে ইরানের এই দাবি আন্তর্জাতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। ইরানের দাবি, দেশীয় প্রযুক্তিতে সস্তার এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মার্কিন ড্রোনকে নিমেষে ধ্বংস করবে।
তবে এই প্রথম নয়, আমেরিকাকে ‘নাস্তানাবুদ’ করেছিল ইরানের সস্তার ড্রোন শাহেদ ১৩৬। ঝাঁকে ঝাঁকে সেই ড্রোন দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলিতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাতে সেই ড্রোন হামলা ঠেকাতে হিমশিম খেতে হয় মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে। ইরানের সেই সস্তার ড্রোনের আদলে পাল্টা সস্তার ড্রোন লুকাসকে সামরিক অভিযানে নামায়। উল্লেখ্য, পশ্চিম এশিয়া আবার নতুন করে অশান্ত হয়ে উঠছে। আমেরিকা এবং ইরান দু’দেশই পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে। এই আবহে ইরান দাবি করল প্রতিপক্ষ দেশের হামলা ঠেকাতে এ বার নয়া এবং আরও ঘাতক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করা হয়েছে।
পারস্য রূপকথার নায়ক আরাশের নামেই এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার নামকরণ। অত্যন্ত দক্ষ এবং শক্তিশালী যোদ্ধা ছিলেন আরাশ। ধনুর্বিদ্যায় পারদর্শী ছিলেন তিনি। লোককথা অনুযায়ী, ইরান এবং পশ্চিম এশিয়ার মধ্যে তির ছুড়ে সীমানারেখা টেনে দিয়েছিলেন আরাশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আরাশ নতুন কোনও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নয়। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আরও উন্নত রূপ।