Advertisement
E-Paper

আইন আদালত

আজ থেকে ৫০ বছর আগে বাবা ও জ্ঞাতি দাদু ধানচাষের জমি বিনিময় করেছিলেন। যদিও সে সংক্রান্ত কোনও রকম দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। রেকর্ডে নাম উঠেছে।

শেষ আপডেট: ২৬ মার্চ ২০১৫ ০০:১২

• আজ থেকে ৫০ বছর আগে বাবা ও জ্ঞাতি দাদু ধানচাষের জমি বিনিময় করেছিলেন। যদিও সে সংক্রান্ত কোনও রকম দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। রেকর্ডে নাম উঠেছে। বাবা জমি নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পুকুর কেটেছেন ও বাগানবাড়ি তৈির করেছেন।

ওই জ্ঞাতি দাদুর নাতিরা পুকুরে মাছ ও বাগানবাড়ি দেখে হিংসেয় এখন জমি ফেরত চাইছেন। সে জন্য তাঁরা নানা ভাবে অত্যাচার করছেন। আমরা কিছুতেই জমি ফেরত দিতে রাজি নই। আমার প্রশ্ন, ৫০ বছর আগের বিনিময়ের জায়গা ওঁরা কি ফেরত পেতে পারেন? আমরা এখন কী করব?

পরিতোষ ঘোড়ই, পূর্ব মেদিনীপুর

আপনার বাবা ও জ্ঞাতি দাদুর মধ্যে কোনও দলিল রেজিস্ট্রি হয়নি। অর্থাৎ ওই জমি দু’টি পরস্পর বিনিময়ের মাধ্যমে উভয়েই দখল রেখেছেন। প্রায় ৫০ বছর দখলদারির ভিত্তিতে আপনার বাবা ও জ্ঞাতি দাদু ওই জমি দুটি স্থানীয় পঞ্চায়েত অথবা মিউনিসিপ্যালিটিতে ‘মালিক’ হিসেবে নাম নথিভুক্ত করেছেন। এই পরিস্থিতিতে জ্ঞাতি দাদু বা তাঁর উত্তরাধিকারীরা জমি ফেরত চাইছেন।

প্রথম কথা, জমি ফেরত নেওয়ার জন্য তাঁরা আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। তা না করে তাঁরা আপনাদের নানা ভাবে অত্যাচার করছেন। এটা সম্পূর্ণ ভাবে বেআইনি কাজ।

আপনারা বরং স্থানীয় থানায় ঘটনার বিবরণ দিয়ে অভিযোগ জারি করুন। তার পর প্রয়োজনে আপনাদের জমিতে ১৪৪ ধারা জারি করুন ও তাতেও কাজ না হলে সিভিল ইনজাংশন জারি করতে পারেন। তা ছাড়া, আপনার জ্ঞাতি দাদুর পরিবার যদি জমি ফেরত চেয়ে মামলা করতেন, তা হলে সেই মামলায় আপনারা লড়াই করতে পারতেন। কিন্তু তা না করে এ ভাবে আপনাদের উপর যে জুলুম করাটা অন্যায়। তবে, যতটা আপনি বর্ণনা করেছেন, এই পরিস্থিতিতে পুকুর, বাগান বা জমি আপনার জ্ঞাতিদের ফিরিয়ে দেবার আইনত কোনও কারণ নেই। এমনকী এমনটা তাঁরা দাবি করলেও সেটা নাকচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

• গত ১৯৮৭ সালে প্রোমোটারের থেকে ফ্ল্যাট কিনেছিলাম। চুক্তিপত্র করার সময় তিনি বলেছিলেন যে, ফ্ল্যাটের দখল দেওয়ার তিন বছরের মধ্যে জমির মালিকেরা দলিল রেজিস্ট্রি করে দেবেন। কিন্তু ১৯৯০ সালে ফ্ল্যাটের দখল পেলেও প্রোমোটার ‘কমপ্লিশন সার্টিফিকেট’ বা ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’ দেননি। ১৫ জন ফ্ল্যাট মালিকদের কেউই ‘টাইটেল ডিড’ পাননি। অর্থাত্‌ কারওই ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি হয়নি।

এ দিকে, পুরসভায় ১৯৯০ সাল থেকে সম্পত্তি কর দিচ্ছি। কিন্তু কলকাতা পুরসভার কাছে জলের জন্য কয়েক বারই লিখিত ও মৌখিক আবেদন করা হলেও, এখন পর্যন্ত পুরসভা লিখিত ভাবে কিছুই জানায়নি এবং জল দেবার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ নেয়নি। পাশাপাশি, ২০০৪ সালের পর থেকে প্রোমোটারেরও কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় আমার প্রশ্ন, ১) মালিকানা স্বত্ব (টাইটেল ডিড) পাওয়ার আইনগত কোনও উপায় আছে কিনা। ২) আপনারা কলকাতা পুরসভাকে বাড়িতে জল দিতে বাধ্য করার জন্য আইনগত কোনও ব্যবস্থা নেওয়া যায় কিনা।

সুজিত কুমার দে, কলকাতা

উত্তরে আমি প্রথমেই বলব, আপনি অনেক দেরি করে ফেলেছেন। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে এত দেরি না করলেই ভাল হত।

আবার অনেক খারাপের মধ্যেও একটা ভাল ব্যাপার লক্ষ করলাম। সেটা হল, আপনি দখলে আছেন। বাংলায় একটা চালু কথা আচে, “দখল যার, জোর তার।” আইনেও তাই। আপনারা যে ফ্ল্যাটের দখলে রয়েছেন, এটা আপনাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

১) যদি আপনি প্রোমোটার ও মালিকদের নাম ও ঠিকানা জানেন, তা হলে তাঁদের বিরুদ্ধে কনজিউমার ফোরামে বা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতে মামলা করে সঠিক রিলিফ চাইতে পারেন। যাতে তাঁরা আপনার পক্ষে দলিল সই সম্পাদন করে দেন। এ ছাড়া আপনি ‘ডিক্লারেটরি স্যুট’ মামলা দায়ের করে সম্পত্তির মালিক হিসেবে আপনার নাম পত্তন করার জন্যও আবেদন অবশ্যই জানাতে পারেন।

২) মনে রাখবেন, পুরসভার জল সরবরাহর মাধ্যমে জল পাওয়াটা আপনার অধিকার। আপনার আবেদনে যদি পুরসভার আধিকারিকরা সাড়া না দেন, তাহলে আপনাকে জলের দাবিতে হাইকোর্টে ‘রিট’ মামলা দায়ের করতে হবে।

আইনি পরামর্শ জয়ন্ত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

bishoy ashoy law tips Jayanta Narayan Chattopadhay Court law Paritosh Ghorui Sujit kumar dey Promoting Tips on law
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy