তাঁর হাতে ‘মার খেয়েছেন’ সুনীল শেট্টিও, এক বছর জেল খেটে ছাড়া পেলেন অক্ষয়-সলমনের সহঅভিনেতা
২০২১ সালের অগস্ট মাসে মাদক রাখার অপরাধে জেলে গিয়েছিলেন অভিনেতা আরমান কোহলি। সম্প্রতি জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন তিনি।
২০২১ সাল। নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো (এনসিবি) তখন বলিউডের নামী তারকাদের অন্দরমহলে মাদক দ্রব্যের তল্লাশি চালাচ্ছে। সেই বছর অগস্ট মাসেই এনসিবির হাতে ধরা পড়ে আরমান কোহলি।
তাঁর বাড়ি থেকে ১.২ গ্রাম মাদক উদ্ধার করা হয়। আরমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, তিনি শুধু বেআইনি পদ্ধতিতে মাদক কিনতেনই না, তা বিক্রিও করতেন।
তদন্ত শুরু হলে আরমানের কল রেকর্ড, মেসেজ-সহ সবকিছুই দেখা হয়। আরমানের সঙ্গে এই প্রসঙ্গে যাঁদের যোগাযোগ ছিল, তাঁদেরও গ্রেফতার করে এনসিবি।
মাদক রাখার অভিযোগে এক বছর জেলে ছিলেন অভিনেতা। অবশেষে বম্বে হাই কোর্টের নির্দেশে এক লক্ষ টাকার ব্যক্তিগত জামিনে ছাড়া পেলেন আরমান।
প্রতি মাসে অন্তত এক বার আরমানকে দক্ষিণ মুম্বইয়ের এনসিবি দফতরে হাজিরা দিতে হবে বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট।
আরও পড়ুন:
এই প্রথম নয়, এর আগেও বহু মামলায় নাম জড়িয়েছে আরমানের। প্রেমিকাকে মারধর করা থেকে শুরু করে গাড়ি চাপা দেওয়া— বিভিন্ন কারণে আরমানের নাম সামনে এসেছে। তিনি যেন বাস্তবের খলনায়ক।
তবে, বড় পর্দার সঙ্গেও তাঁর পরিচিতি বহু দিনের। আরমানের বাবা-মা দু’জনেই ফিল্মজগতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তাঁর বাবা রাজকুমার কোহলি ছিলেন বলিউডের বিখ্যাত পরিচালক। মা নিশি ছিলেন অভিনেত্রী। পঞ্জাবি ও হিন্দি ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।
২০০২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জানি দুশমন: এক আনোখি কাহানি’ ছবিতে অক্ষয় কুমার, সানি দেওল, মনীষা কৈরালা, সুনীল শেট্টির মতো তারকারা অভিনয় করলেও এই ছবিতে কাজ করে নজর কাড়েন আরমান। ছবিতে তাঁর হাতে মার খেতে হয় সুনীল শেট্টি, অক্ষয় কুমারদের।
তবে এর আগে শিশু অভিনেতা হিসাবে ‘রাজ তিলক’, ‘বদলে কি আগ’ ছবিতে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছে আরমানকে।
আরও পড়ুন:
এর পরে তাঁর বাবার পরিচালনায় ‘বিদ্রোহী’ ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন আরমান। এর পর দু’তিনটি ছবিতে অভিনয় করলেও তিনি জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেননি।
ঋষি কপূর, শাহরুখ খান এবং দিব্যা ভারতী অভিনীত ‘দিওয়ানা’ ছবিটি বলিউডে ভাল সাড়া ফেলে। কিন্তু শাহরুখ নন, পরিচালক-প্রযোজকের সেই চরিত্রের জন্য প্রথম পছন্দ ছিলেন আরমান।
শ্যুটিংয়ের কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে কাজ ছেড়ে বেরিয়ে যান আরমান। তাঁর মনে হয়েছিল, যে ছবিতে ঋষি কপূরের মতো দক্ষ অভিনেতা রয়েছেন, সেখানে আরমান অভিনয় করলেও তাঁর কাজ কেউ দেখবেন না।
আরমান কাজ ছেড়ে যাওয়ায় শাহরুখকে সেই চরিত্রের জন্য বাছা হয়। পরে সেই ছবিই জনপ্রিয় করে তোলে শাহরুখ খানকে। ‘দিওয়ানা’ ছবিটি শাহরুখের অভিনয় জীবনের একটি মাইলফলক হিসাবে ধরা হয়।
শুধু ‘দিওয়ানা’ নয়, ‘বাজিগর’ ছবিতেও মুখ্যচরিত্রে কাজ করার সুযোগ হারান আরমান। পরে শাহরুখকে অভিনয়ের প্রস্তাব দেন পরিচালক-প্রযোজক।
‘দিলওয়ালে দুলহনিয়া লে জায়েঙ্গে’ ছবিতে একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পেলে তা-ও খারিজ করে দেন আরমান। পরে সেই চরিত্রেই অভিনয় করেন পরমিত শেট্টি।
২০০৩ সালে ‘এলওসি: কার্গিল’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। এই ছবিতেও একটি পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আরমান।
শোনা যায়, ‘তারক মেহতা কা উল্টা চশমা’র অভিনেত্রী মুনমুন দত্তের সঙ্গে সম্পর্কে ছিলেন আরমান। অভিযোগ, সম্পর্কে থাকাকালীন মুনমুনকে মারধর করেন আরমান। পরে যদিও মুনমুন তাঁদের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন।
এর পর বহু দিন রুপোলি পর্দা থেকে দূরে ছিলেন তিনি। ২০১৩ সালে ‘বিগ বস’-এ প্রতিযোগী হিসাবে অংশগ্রহণ করেন আরমান। সেই অনুষ্ঠানের অন্য প্রতিযোগী সোফিয়া হায়াতকে নিগ্রহের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় আরমানকে।
ঘটনার এক দিন পরেই জামিন পেয়ে সলমন খানের অনুরোধে আবার অনুষ্ঠানে ফিরে আসেন আরমান। অভিনেত্রী তানিশার সঙ্গেও সম্পর্কে জড়ান তিনি। কিন্তু তাঁর বদরাগী স্বভাবের জন্য তানিশা এই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসেন।
এর পর অভিনেত্রী নীরু রণধাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান আরমান। নীরুর অভিযোগ, প্রায়ই তাঁর গায়ে হাত তুলতেন আরমান। অভিনেতার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও দায়ের করেন নীরু। কিন্তু অর্থের অভাবে নীরু মামলা চালাতে না পারায় জামিনে ছাড়া পেয়ে যান আরমান।
দু’বছরের বিরতির পর ‘প্রেম রতন ধন পায়ো’ ছবিতে খলনায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আরমান। ছবি হিট করলেও আরমান দর্শক মহলে নজর কাড়তে পারেননি।