এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা, ধরা পড়েন গাঁজা-সহ, বিয়ে করলেন মহাকুম্ভে ভাইরাল সেই ‘আইআইটি বাবা’
গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির দিনে হিমাচল প্রদেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রতীকা এবং অভয়। পরে ওই দম্পতি অভয়ের নিজের শহর হরিয়ানার ঝাজ্জরে ফিরে যান। এর পরেই প্রকাশ্যে আসে তাঁদের বিয়ের খবর।
গাঁজা রাখা থেকে শুরু করে ক্রিকেটে ভারতের জয় নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণী, নানা বিষয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন মহাকুম্ভে ভাইরাল সেই ‘আইআইটি বাবা’। অভয় সিংহ ওরফে ‘আইআইটি বাবা’ তাঁর বক্তব্যের জন্য প্রায়শই খবরের শিরোনামে থাকেন। কিন্তু এ বার তিনি খবরের শিরোনামে উঠে এলেন বিয়ে করে।
গত বছর মহাকুম্ভ মেলার সময় একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্য করে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ‘আইআইটি বাবা’। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন তিনি। কর্নাটকের ইঞ্জিনিয়ার প্রতীকার সঙ্গে চার হাত এক করেছেন অভয়।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মহাশিবরাত্রির দিনে হিমাচল প্রদেশে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন প্রতীকা এবং অভয়। পরে ওই দম্পতি অভয়ের নিজের শহর হরিয়ানার ঝাজ্জরে ফিরে যান। এর পরেই প্রকাশ্যে আসে তাঁদের বিয়ের খবর।
বিয়ের পর স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পর অভয়ের মা দু’জনের আরতি করেন। ঐতিহ্য এবং রীতি মেনে স্বাগত জানান নবদম্পতিকে। এর পর অভয় এবং প্রতীকার সঙ্গে দেখা করতে এবং ছবি তুলতে দর্শনার্থীদের অবিরাম আনাগোনা শুরু হয়।
স্বামীকে নিয়ে কী মত প্রতীকার? বেঙ্গালুরুর প্রযুক্তিবিদ সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, প্রায় এক বছর আগে অভয়ের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। বন্ধুত্ব থেকে শুরু হয়েছিল তাঁদের সম্পর্ক। ধীরে ধীরে সেই বন্ধুত্ব প্রেমে পরিণত হয়।
আরও পড়ুন:
প্রতীকার মতে, অভয় এক জন সরল, সৎ এবং সত্যবাদী মানুষ। বিয়ের পর তাঁরা একসঙ্গে সুখে আছেন বলেও জানিয়েছেন প্রতীকা।
নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বলতে গিয়ে দম্পতি সংবাদমাধ্যম ‘দৈনিক জাগরণ’কে জানান, তাঁরা একটি সনাতন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা করছেন। সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক শিক্ষার সঙ্গে আধ্যাত্মিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানোই নাকি তাঁদের লক্ষ্য।
কিন্তু কে এই অভয় ওরফে ‘আইআইটি বাবা’? হরিয়ানার ঝাজ্জরের বাসিন্দা অভয়। অভয় পড়াশোনা করেছেন আইআইটি বম্বে থেকে। আইআইটি থেকে এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। আইআইটি বম্বেতে চার বছর পড়াশোনা শেষ করে কেরিয়ারে পথ পরিবর্তন করেন তিনি। স্নাতকোত্তর করেন ডিজ়াইনিং নিয়ে।
সে সময় ছবি তোলার কাজ করতে শুরু করেন অভয়। পাশাপাশি, শিক্ষার্থীদের পদার্থবিদ্যার প্রশিক্ষণ দিতেন তিনি। তবে শেষমেশ বিজ্ঞান এবং মহাকাশের জগৎ ছেড়ে নিজেকে আরও ‘চিনতে’ আধ্যাত্মিকতার পথে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন। ঈশ্বরকে বোঝার জন্য দীক্ষা নিয়ে সাধু হয়ে ওঠেন।
আরও পড়ুন:
অভয়ের দাবি, দীক্ষা নেওয়ার পর তাঁর নাম পরিবর্তন হয়ে মাসানি গোরখ রাখা হয়। শিবের উদ্দেশে জীবন উৎসর্গ করেন তিনি। নিজেকে রাঘব এবং জগদীশ বলেও পরিচয় দেন।
সদাহাস্য এবং শান্ত স্বভাবের ‘আইআইটি বাবা’ মহাকুম্ভে দাবি করেছিলেন, জীবনের অর্থ বোঝার জন্য উত্তর-আধুনিকতাবাদ, সক্রেটিস এবং প্লেটোর দর্শন নিয়েও পড়াশোনা করেছেন তিনি। বেশ কয়েক বার কেরিয়ার বদলে ‘মৌলিক বিষয়গুলিতে’ মনোযোগ দিয়েছেন।
মহাকুম্ভ মেলার সময় অনর্গল ইংরেজিতে আধ্যাত্মিক ধারণা প্রকাশ করার দক্ষতার জন্য ভক্তদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ‘আইআইটি বাবা’। সমাজমাধ্যমে আলোড়নও ফেলেন। তবে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে একাধিক বার বিতর্কের মুখে পড়েছেন অভয়।
২০২৫ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের খেলার আগে সেই খেলার ভবিষ্যদ্বাণী করেন ‘আইআইটি বাবা’। অভয় আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছিলেন যে, আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেই ম্যাচে ভারতকে পরাজিত করবে পাকিস্তান। অনেক চেষ্টা করেও জিততে পারবে না ভারত।
কিন্তু ওই ম্যাচে পাকিস্তানকে ধরাশায়ী করে ভারত। ভবিষ্যদ্বাণী না মেলায় এবং ফল উল্টো হতেই সুর বদলান ‘আইআইটি বাবা’। ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীদের ক্ষোভের মুখে পড়ে ক্ষমাও চান। দাবি করেন, মুখে যা-ই বলুন, তিনি মনে মনে জানতেন যে ভারতই জিতবে।
এর পর একটি টিভি চ্যানেলে বিতর্কসভায় গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হয় অভয়কে। তাঁর অভিযোগ ছিল, নিউজ়রুমে আচমকাই কয়েক জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ঢুকে পড়েন। তাঁদের সকলের পরনে ছিল গেরুয়া পোশাক। নিউজ়রুমেই ‘আইআইটি বাবা’র সঙ্গে প্রথমে দুর্ব্যবহার করেন ওই অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা। তার পর তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি।
ঘটনা ঘটেছিল নয়ডার একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের বিতর্কসভায়। সেই ঘটনার পর ১২৬ সেক্টর থানার বাইরে প্রতিবাদে ধর্নায় বসেন ‘আইআইটি বাবা’। যদিও পুলিশ তাঁকে বুঝিয়ে ধর্না থেকে তুলে দেয়।
এর পর ‘আইআইটি বাবা’কে গাঁজা-সহ পাকড়াও করে পুলিশ। যদিও অভয়ের দাবি ছিল, সেগুলি আসলে ‘প্রসাদ’। ঘটনাটি ঘটেছিল রাজস্থানের জয়পুরে। সেখানে একটি হোটেলে থাকছিলেন ‘আইআইটি বাবা’।
কিছু হট্টগোলের খবর পেয়ে ওই হোটেলে পুলিশ পৌঁছোয়। তখনই ‘আইআইটি বাবা’র থেকে গাঁজা উদ্ধার হয়েছিল। ঘটনার জেরে কিছু ক্ষণের জন্য তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। যদিও পরে আবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তাঁর থেকে স্বল্প পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার হওয়ার কারণেই রক্ষা পেয়েছিলেন তিনি। সেই ‘আইআইটি বাবা’ই এ বার খবরের শিরোনামে উঠে এলেন বিয়ে করে।