হোটেলের ঘর থেকে চা, কফি, টুথব্রাশ ব্যাগে পোরার আগে সাবধান! কোন কোন জিনিস নিলে চুরির অপবাদ গায়ে লাগবে জানেন তো?
আজকাল কমবেশি সব হোটেল, হোমস্টে প্রভৃতিতেই গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য নানা জিনিস দেওয়া হয়। সেগুলির সব কিছু সঙ্গে নিয়ে আসা যায় না। কিছু জিনিস আনায় যেমন ক্ষতি নেই, তেমনই কিছু জিনিস সঙ্গে নিলে চুরির দায় গায়ে লাগতে পারে।
ঘুরতে যাওয়ার সময় যদি সঙ্গে দুটো ব্যাগ যায়, তা হলে ফেরার সময় আসে তিনটে বা তারও বেশি। কেন? কারণ, জিনিস কেনাকাটা বাদে ঘুরু ঘুরু অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এমনটাই দাবি বেশির ভাগ মানুষজনের। বিশেষ করে ভারতীয়দের।
তবে আজকাল ঘুরতে গিয়ে কেবলমাত্র সেই স্থান থেকে বিশেষ জিনিসপত্র কিনেই ক্ষান্ত হন না মানুষজন। যে হোটেলে রাত্রিবাস করেন, সেখান থেকেও ‘তুলে আনেন’ নানা জিনিসপত্র। মাঝেমধ্যে হোটেলের কর্মীদের কাছে ধরাও পড়ে যান। ঘটে মানহানি।
সম্প্রতি সমাজমাধ্যমের পাতায় ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে বালিতে ঘুরতে গিয়ে কিছু ভারতীয় তরুণ-তরুণী ব্যাগে করে হোটেলের তোয়ালে থেকে শুরু করে হেয়ার ড্রায়ার, সমস্ত কিছুই সঙ্গে করে নিয়ে আসছেন। এর ফলে যে বিদেশের মাটিতে ভারতীয়দের নাম ডুবছে তা আর বলার অপেক্ষা থাকে না।
তবে হাজার হাজার টাকা খরচ করে হোটেলে যখন থাকা হচ্ছে, সেখানে ব্যবহার করতে দেওয়া জিনিসগুলিও নিজেদের মনে করে নেওয়া ভুল কিছু নয়। হোটেল ছাড়ার পরও সেগুলি সঙ্গে করে নিয়ে আসার ইচ্ছা জাগা স্বাভাবিক। কিন্তু সে ক্ষেত্রে একটা সীমারেখা মেনে চলা জরুরি। না হলে সম্মান ধুলোয় মিশে যাওয়া অবধারিত।
আজকাল কমবেশি সব হোটেল, হোমস্টে প্রভৃতিতে গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য নানা জিনিস দেওয়া হয়। তা প্যাকেজের সঙ্গেই আসে। অর্থাৎ, হোটেল কর্তৃপক্ষ নিজের পকেট থেকে দেন না। আপনি রাত্রিবাসের জন্য যে টাকা দিচ্ছেন, তার মধ্যেই উক্ত জিনিসগুলির খরচাপাতিরও হিসাব করা থাকে। হোটেলের মান যত ভাল হয়, ব্যবহার করতে দেওয়ার জিনিসের তালিকাও তত বৃদ্ধি পায়।
আরও পড়ুন:
কিন্তু ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে বলেই সব কিছু ব্যাগে ভরে নিয়ে চলে আসা যায় না। এ ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কিছু জিনিস যেমন সঙ্গে আনা যায়, তেমনই কিছু জিনিসের মালিকানা থাকে উক্ত হোটেলেরই। তা ব্যাগে ভরে নেওয়ার অর্থ, চুরি।
এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন জাগে, কোন জিনিসগুলি নিয়ে আসা যেতে পারে। আর কোন জিনিসটা খুব মনে ধরলেও লোভ সংবরণ করে না নিয়েই ফিরে আসতে হবে। এই প্রতিবেদন থেকে জেনে নিন সবটা।
প্রথমেই আসে ব্যবহার করতে দেওয়া সাবান, শ্যাম্পু, টুথব্রাশ, টুথপেস্ট, অর্থাৎ বিভিন্ন প্রসাধন সামগ্রীর নাম। খেয়াল করলে দেখবেন, সে সকল জিনিসের বোতলগুলি হয় অত্যন্ত ছোট। বাজারে তা কিনতে পাওয়া যায় না। কারণ, হোটেলগুলি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে গ্রাহকদের ব্যবহারের জন্য সেগুলি তৈরি করান। উক্ত সংস্থার নির্দিষ্ট সেই শ্যাম্পুই যদি আপনি বাইরে কিনতে যান, তা হলে তার ধরন আর হোটেল থেকে দেওয়া শ্যাম্পুটির ধরনেও পার্থক্য দেখতে পাবেন।
এ সকল প্রসাধন সামগ্রী আপনি নিশ্চিন্তে নিজের মনে করে ব্যাগে ভরে নিয়ে চলে আসতে পারেন। এগুলি একান্তই আপনার ব্যবহারের জন্যই দেওয়া। আপনার থেকে নেওয়া টাকার মধ্যেই ধরা রয়েছে তার হিসাব। তাই তাতে মালিকানা রয়েছে আপনারই।
আরও পড়ুন:
হোটেলের ঘরে পরার জন্য চপ্পলও দেওয়া হয়। সেগুলিও আপনি সঙ্গে করে নিয়ে আসতে পারেন। তাতে কোনও ক্ষতি নেই।
বহু হোটেলেই চা, কফি, গুঁড়ো দুধ, চিনি প্রভৃতির ছোট প্যাকেট দেওয়া হয়। ঘুরতে গিয়ে ঘরের মধ্যে বসে এ সব খাওয়ার সময় না-ই হতে পারে। তা বলে কি সেগুলি দিয়ে চলে আসবেন? একদমই না। এই জিনিসগুলিও ভাড়ার অন্তর্গত। তাই এই জিনিসগুলিও নিঃসন্দেহে সঙ্গে করে নিয়ে আসা যায়।
হোটেলের ঘরে থাকা ছোট ডায়েরি, নোটপ্যাড, পেন, খবরের কাগজ, পত্রিকা প্রভৃতি জিনিসও নিয়ে আসতে পারেন। এতেও কোনও সমস্যা হবে না।
তবে প্রসাধন সামগ্রী আনায় বাধা নেই ভেবে হোটেলের দেওয়া ধবধবে সাদা নরম তোয়ালেটি যতই মনে ধরুক না কেন, তা সঙ্গে করে নিয়ে আসা যাবে না। বাথরোবটিও ফেরত দিয়ে আসতে হবে। কারণ এগুলি হোটেলের সম্পত্তি। তার আরাম হোটেলে গিয়েই উপভোগ করতে হবে, বাড়িতে এনে উপভোগ করার অধিকার আপনার নেই।
বালিশের ঢাকনা, কম্বল, চাদর প্রভৃতি জিনিসও হোটেলেই রেখে আসতে হবে। সেগুলিও নিয়ে আসা যায় না।
ভাইরাল হওয়া ভিডিয়োটিতে দেখা গিয়েছে, পর্যটকেরা ব্যাগে করে হেয়ার ড্রায়ার ভরে নিয়ে আসছেন। তেমনটা করা অনুচিত। হোটেল থেকে ব্যবহার করতে দেওয়া কোনও বৈদ্যুতিন সামগ্রী, যেমন বৈদ্যুতিন কেটলি, ইস্ত্রি, টিভি বা টিভির রিমোট, হেয়ার ড্রায়ার, স্ট্রেটনার প্রভৃতি কিছুই নিজের মনে করে ব্যাগে ভরে নেওয়া যাবে না। জানাজানি হলে আইনি ঝামেলায় পড়তে হতে পারে।
নিয়ে আসা নিষেধ ব্যবহার করতে দেওয়া থালা-বাসন, চামচ, ছুরি, কাপ প্রভৃতিও। এরই সঙ্গে হোটেলের ঘর সাজানোর জন্য যে সমস্ত গৃহসজ্জা সামগ্রী যেমন বাঁধানো ছবি, আলো, ঘড়ি প্রভৃতিও আনা যাবে না। ধরা পড়লে হোটেল কর্তৃপক্ষ চাইলেই আপনাকে নিয়ে পুলিশের কাছে ছুটতে পারেন।
প্রসাধনীর ছোট বোতল যেমন নিয়ে আসা যায়, তেমনই কোনও হোটেলে যদি সুন্দর বোতলে সাবান, শ্যাম্পু ভরা থাকে, আর তাতে যদি কোনও সংস্থার নাম না থাকে— সহজ ভাষায়, সেই কায়দার বোতল দেখে যদি মনে হয় তা হোটেলেরই সম্পত্তি, তা হলে যতই পছন্দ হোক না কেন সেটি সঙ্গে করে আনা যাবে না। কারণ তা প্রকৃত পক্ষেই হোটেলের সম্পত্তি, আপনার নয়। সেটি নেওয়াও চুরিরই সমান।