পড়াশোনা বা সৌন্দর্য, টক্কর দিতে পারেন টিনা দাবিকে, তবু দিদি অনুপ্রেরণা নন আইএএস রিয়ার
টিনা যদি প্রথম হন, রিয়াও কিছু কম যান না। সৌন্দর্যে হোক বা সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়, এমনকি পড়াশোনার বিষয়েও টিনার থেকে খুব একটা পিছিয়ে নন রিয়া।
টিনা যদি প্রথম হন, রিয়াও কিছু কম যান না। সৌন্দর্যে হোক বা সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকার বিষয়, এমনকি পড়াশোনার বিষয়েও টিনার থেকে খুব একটা পিছিয়ে নন রিয়া। টিনা সম্পর্কে এত দিন অনেক কিছুই প্রকাশিত হয়েছে, এ বার রিয়াকে নিয়েও সমাজমাধ্যমে বেশ চর্চা হচ্ছে।
টিনা, অর্থাৎ আইএসএস টপার টিনা দাবি। আর রিয়া হলেন টিনার বোন। তিনিও টিনার মতো এক জন আইএএস।
টিনার পথ অনুসরণ করে আজ তিনি এক জন আইএএস অফিসার। ২০২০ সালে ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসেছিলেন রিয়া। প্রথম প্রচেষ্টাতেই তিনি পরীক্ষায় পাশ করেছেন।
ইউপিএসসি পরীক্ষায় রিয়ার র্যাঙ্ক ১৫। টিনা অবশ্য এই পরীক্ষায় প্রথম হয়েছিলেন।
রিয়া বর্তমানে রাজস্থানের অলওয়ার জেলার অ্যাসিস্ট্যান্ট কালেক্টর এবং এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট পদে কর্মরত। অন্য দিকে, টিনা দাবি রাজস্থানের জয়সলমেরের জেলাশাসক।
আরও পড়ুন:
১৯৯৮ সালে ভোপালে জন্ম রিয়ার। কিন্তু তাঁর পড়াশোনার পুরোটাই দিল্লিতে। টিনার যখন ৭ বছর বয়স সেই সময় তাঁদের পরিবার দিল্লিতে চলে আসে।
দিল্লির শ্রীরাম কলেজ থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক করেন রিয়া। ঘটনাচক্রে, এই কলেজ থেকেই পড়াশোনা করেছেন টিনাও।
দুই বোন আইএএস ঠিকই, তবে তাঁদের মা-বাবাও কম যান যান না। তাঁরাও ইউপিএসসি-র ইন্ডিয়ান ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিসেস (আইইএস) পরীক্ষায় পাশ করেছিলেন। বাবা যশবন্ত দাবি দিল্লিতে বিএসএনএলের জেনারেল ম্যানেজার। মা হিমানি দেবী প্রাক্তন আইইএস।
স্নাতক পাশ করার পর রিয়া ইউপিএসসির প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করেন। এক সাক্ষাৎকারে রিয়া বলেন, “আমি কলেজে পড়াশোনা করতে করতেই ইউপিএসসি পরীক্ষা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। পড়াশোনাও শুরু করেছিলাম। কিন্তু কলেজ এবং ইউপিএসসি দুটো একসঙ্গে সামাল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল না। তাই স্নাতক হওয়ার পরই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি।”
আরও পড়ুন:
রিয়া বলেন, “ইউপিএসসি পাশ করতে হলে অবশ্যই প্রয়োজন পরিশ্রম, শৃঙ্খলা এবং ধৈর্য। এই তিনটি বিষয় ঠিক মতো মেনে চলতে পারলে তবেই সাফল্য আসবে।”
রিয়া জানান, দিনে তিনি ১০ ঘণ্টা পড়তেন। একটি কোচিং সেন্টারেও ভর্তি হয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “দিদি যখন ইউপিএসসিতে প্রথম হয়, আমার বয়স তখন ১৮ বছর। যদি আমাকে জিজ্ঞাসা করা হয়, এই পেশায় আসার অনুপ্রেরণা কে, আমি অবশ্যই বলব, দিদি নয়, আইএএস হওয়ার অনুপ্রেরণা পেয়েছি আমার মায়ের কাছ থেকে।”
সৌন্দর্যের দিক থেকেও দিদিকে টেক্কা দিতে পারেন রিয়া। সমাজমাধ্যমেও অত্যন্ত সক্রিয় তিনি। ইনস্টাগ্রামে তাঁর অনুগামীর সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৮ হাজার। টিনা দাবির ইনস্টাগ্রাম অনুগামীর সংখ্যা ১৬ লক্ষ।
২০১৫ সালের ইউপিএসসিতে প্রথম হয়েছিলেন টিনা দাবি। ওই বছরেই ইউপিএসসিতে দ্বিতীয় হওয়া আতহর আমির খানকে বিয়ে করে সাড়া ফেলে দিয়েছিলেন। যদিও তাঁদের সেই সম্পর্ক বিয়ের কয়েক বছর পরই ভেঙে যায়।
টিনা দাবির দ্বিতীয় বিয়ে হয় প্রদীপ গাওয়ান্ডের সঙ্গে। তিনিও এক জন আইএএস অফিসার। ঘটনাচক্রে, টিনাও রাষ্ট্রবিজ্ঞান নিয়ে স্নাতক পাশ করেছিলেন।