বাঙালি কন্যার সঙ্গে প্রথম ছবি, অডিশনে বাদ বার বার, বাবার খ্যাতির ছায়ায় ঢাকা পড়েন, এখন কী করছেন গব্বর-পুত্র?
এক সাক্ষাৎকারে শাদাব খান জানিয়েছিলেন, তারকা-পুত্র হওয়া সত্ত্বেও বলিউডে কাজ পেতে তাঁকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে। ৬০ বারেরও বেশি অডিশন দিয়ে বাদ পড়েছিলেন তিনি।
বাবা ছিলেন বলিউডের প্রথম সারির খলনায়ক। শতাধিক ছবিতে অভিনয়ও করে ফেলেছিলেন। কিন্তু বলি অভিনেতার পুত্র তাঁর বাবার খ্যাতির ছায়ায় কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছেন। তাঁর অভিনীত ছবির সংখ্যা গুনতে বসলে দু’আঙুলের করও শেষ হয় না। আলোর রোশনাইয়ের আড়ালে এখন কী করছেন ‘শোলে’র গব্বর আমজাদ খানের পুত্র শাদাব খান?
১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বরে মহারাষ্ট্রের মুম্বইয়ে জন্ম শাদাবের। বাবা-মা এবং ভাই-বোনের সঙ্গে থাকতেন শাদাব। শাদাবের ভাই সীমাব পেশায় একজন ক্রিকেটার। ক্রিকেটের পাশাপাশি তিনি নাটকও প্রযোজনা করেন। শাদাবের বোন অহলাম থিয়েটার অভিনেত্রী। অভিনেতা জাফর করাচিওয়ালাকে বিয়ে করেছেন তিনি।
মুম্বইয়ের এক বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা শাদাবের। এই স্কুলে বহু বলি তারকার সন্তান পড়াশোনা করতেন। টুইঙ্কল খন্না, রিঙ্কি খন্না, তেজস্বিনী কোলাপুরে, জোয়া আখতার, ফরহান আখতার, সাজিদ খান এবং মেঘনা গুলজ়ারের মতো অনেকেই ছিলেন শাদাবের স্কুলের সহপাঠী।
১৯৮৫ সালে ‘প্যারি ভাবী’ নামের একটি ছবিতে শিশু অভিনেতা হিসাবে কাজ করেন শাদাব। তখন তাঁর বয়স মাত্র ১২ বছর। তবে অভিনয়ের চেয়ে লেখালিখির দিকে ঝোঁক বেশি ছিল শাদাবের। মাত্র ৮ বছর বয়স থেকে লেখালিখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।
১৯৯২ সালে যখন আমজাদ মারা গিয়েছিলেন, তখন শাদাব ১৮ বছরের কিশোর। বাবার আকস্মিক মৃত্যু শাদাবকে মানসিক ভাবে পুরোপুরি ভেঙে দিয়েছিল। কানাঘুষো শোনা যায়, বাবার মৃত্যুর সময় তাঁর ওজন ছিল প্রায় ১৪৫ কেজি। কিন্তু চরম অবসাদের কারণে কয়েক বছরের মধ্যে তাঁর ওজন কমে মাত্র ৬৭ কেজিতে নেমে যায়।
আরও পড়ুন:
শাদাবের প্রথম ছবি ‘রাজা কি আয়েগি বরাত’ মুক্তি পায় ১৯৯৭ সালে। শাদাবের বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন বাঙালি কন্যা রানি মুখোপাধ্যায়। রানির কেরিয়ারেরও প্রথম ছবি ছিল সেটি। কিন্তু কেরিয়ারের প্রথম ছবি রানির পেশাজীবনে যে প্রভাব ফেলেছিল, তার বিপরীত প্রভাব ফেলেছিল শাদাবের কেরিয়ারে।
‘রিফিউজি’, ‘বেতাবি’ এবং ‘হে রাম’-এর মতো একাধিক হিন্দি ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শাদাব। কিন্তু তিন-চার বছরের মধ্যেই বলিপাড়া থেকে ‘উধাও’ হয়ে যান তিনি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, তারকা-পুত্র হওয়া সত্ত্বেও বলিউডে কাজ পেতে তাঁকে কঠোর সংগ্রাম করতে হয়েছে।
শাদাবের দাবি, ৬০ বারেরও বেশি অডিশন দিয়ে বাদ পড়েছিলেন তিনি। বাবার বিশাল খ্যাতির ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাওয়া এবং নিজের ভাগ্য সহায় না থাকায় অভিনেতা হিসাবে তিনি বলিউডে থিতু হতে পারেননি।
অভিনয়ে আশানুরূপ সাফল্য না পেয়ে শাদাব তাঁর সৃজনশীল সত্তাকে লেখার মাধ্যমে প্রকাশ করতে শুরু করেন। ২০১৩ এবং ২০১৫ সালে থ্রিলার ঘরানার দু’টি বই প্রকাশ করেন তিনি। শোনা যায়, লেখালিখির প্রতি তাঁর আগ্রহ জেগেছিল আমজাদকে দেখে। বলিউডে কাজ শুরুর আগে নাটক লিখতেন আমজাদ।
আরও পড়ুন:
অভিনয় ছেড়ে চিত্রনাট্য লেখার কাজে মন দেন শাদাব। ‘লকীড়’ এবং ‘সন্ধ্যা’ ছবির চিত্রনাট্যও লিখেছিলেন তিনি। কিন্তু চিত্রনাট্যকার হিসাবেও সফল হতে পারেননি আমজাদের পুত্র।
কয়েক সেকেন্ডের জন্য আমজাদকে বাঁচাতে পারেননি শাদাব। সেই ঘটনার উল্লেখ করে শাদাব এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, বাবা যখন হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছিলেন তখন চিকিৎসক তাঁকে তাড়াতাড়ি একটি ইনজেকশন এনে দিতে বলেছিলেন।
চিকিৎসকের জরুরি নির্দেশ মেনে ইনজেকশন এনে দিয়েছিলেন শাদাব। কিন্তু মাত্র কয়েক সেকেন্ড দেরি হওয়ার কারণে আমজাদকে বাঁচানো যায়নি। এই ধাক্কা সহ্য করতে না পেরে তিনি হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছিলেন। রাগের মাথায় চিকিৎসককে পর্যন্ত আঘাত করে ফেলেছিলেন।
২০০৫ সালে রুমানা অছওয়া নামে এক তরুণীকে বিয়ে করেন শাদাব। বর্তমানে আলোর রোশনাই থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রেখেছেন শাদাব। ২০১৯ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রোমিয়ো আকবর ওয়ালটার’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল শাদাবকে। তার পর আর বড়পর্দায় দেখা যায়নি গব্বর-পুত্রকে।