হাজার বছরেও ক্ষয় হবে না! রামমন্দির নির্মাণে লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি কেন, জানালেন ইঞ্জিনিয়ার
রামমন্দির তৈরির দায়িত্বে ছিল সুব্রহ্মণ্যমের সংস্থা। এমন একটি দায়িত্ব পেয়ে তিনি ‘ধন্য’ বলে জানিয়েছেন নামী নির্মাণ সংস্থার সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুব্রহ্মণ্যম।
রামলালার মূর্তিতে সোনার কাঠি দিয়ে অঞ্জন পরিয়ে, দর্পণ দর্শন করিয়ে ‘প্রাণপ্রতিষ্ঠা’ সম্পন্ন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রামমন্দির উদ্বোধনের পর কেটে গিয়েছে দু’দিন। ভক্ত এবং দর্শনার্থীদের ভিড়ে জমজমাট অযোধ্যা। মন্দিরের চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য নজর কেড়েছে বিশ্ববাসীর। যে নির্মাণ সংস্থা ‘ঐতিহাসিক’ স্থাপত্যকীর্তির দায়িত্বে ছিল, তাদের দাবি, অম্তত হাজার বছর মন্দিরের সৌন্দর্যে কোনও টান ধরবে না।
রামমন্দির তৈরি এবং তার সৌন্দর্যবৃদ্ধিতে হাত রয়েছে অনেকের। তাঁদের মধ্যে এক জন এসএন সুব্রহ্মণ্যম। যে নির্মাণ সংস্থা অযোধ্যার রামমন্দির তৈরি করেছে, তার প্রধান তিনি। ওই ইঞ্জিনিয়ারের দাবি, স্থাপত্যকীর্তিতে একটি নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে রামমন্দির।
রামমন্দির তৈরির দায়িত্বে ছিল সুব্রহ্মণ্যমের সংস্থা। এমন একটি ‘প্রকল্প’ পেয়ে তিনি ধন্য বলে জানিয়েছেন নামী নির্মাণ সংস্থার সিইও এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর সুব্রহ্মণ্যম।
রামমন্দির তৈরির নকশা তৈরি থেকে ভিত্তিপ্রস্তর— সবেতেই তিনি ছিলেন। সুব্রহ্মণ্যম আদতে চেন্নাইয়ের বাসিন্দা। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করার পর এমবিএ করেন তিনি।
এমবিএ ডিগ্রি নিয়ে সুব্রহ্মণ্যম পড়াশোনা করতে চলে যান বিদেশে। লন্ডন বিজনেস স্কুলেও ম্যানেজমেন্ট নিয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে কাজের শুরু একটি বেসরকারি সংস্থায়। পরে নামী নির্মাণ সংস্থায় চাকরি করেন। সেখানেই বর্তমানে সিইও পদে রয়েছেন।
কাজ শুরু করেছিলেন ১৯৮৪ সালে। প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে চাকরি শুরু করা সুব্রহ্মণ্যম ২০১৭ সাল থেকে সিইও এবং এমডি হিসাবে দায়িত্ব নেন।
২০২২ অর্থবর্ষে ৬১ কোটি ২৭ লক্ষ টাকার প্যাকেজ ছিল সুব্রহ্মণ্যমের। প্রতি দিন গড়ে পারিশ্রমিক পান ১৬,৭০,০০০ টাকা। তার আগের বছর নাকি ব্যবসায়িক সমস্যায় বেতন কমে গিয়েছিল সুব্রহ্মণ্যমের।
সুব্রহ্মণ্যমের স্ত্রীর নাম মীনা। ওই দম্পতির দুই সন্তান। রামমন্দিরের ইঞ্জিনিয়ারের কথায়, ‘‘শ্রীরাম জন্মভূমি মন্দিরের নকশা এবং নির্মাণের দায়িত্ব পাওয়ার আমরা গর্বিত। আমরা অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।’’
আরও পড়ুন:
রামমন্দিরের ইঞ্জিনিয়ার জানান, ৭০ একর জমির উপর তৈরি মন্দিরে প্রাচীন নগরসভ্যতার স্থাপত্যশৈলির ছাপ রাখতে চেয়েছেন। মন্দিরটি উচ্চতায় ১৬১.৭৫ ফুট এবং প্রস্থে ২৪৯.৫ ফুট।
সুব্রহ্মণ্যমের দাবি, তাঁদের নির্মাণ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একটি বিস্ময়কর কাজ। হাজার বছর কোনও ক্ষতি হবে না মন্দিরের। এই নির্মাণ ধৈর্যের প্রতীক।
রামমন্দিরের ইঞ্জিনিয়ার সুব্রহ্মণ্যম জানিয়েছেন, রামমন্দির তৈরিতে ব্যবহার হয়েছে বিশেষ পাথর। রাজস্থানের ভরতপুর থেকে সেই পাথর আনা হয়েছিল। এই পাথরগুলি নিরীক্ষণের জন্য কিউআর কোড ব্যবহার করা হয়।
সব মিলিয়ে ৩৯০টি স্তম্ভ আছে রামমন্দিরে। মজার ব্যাপার এত বড় নির্মাণে লোহার রড ব্যবহার করা হয়নি। ব্যবহৃত হয়নি স্টেনলেস স্টিলও। বছরের পর বছর গেলেও যাতে নির্মাণের ভিতরে কোনও ক্ষয় না হয়, তাই এই ব্যবস্থা।
রামমন্দির তরির কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের মে মাসে। স্বতন্ত্র স্থাপত্যকীর্তির নজির রাখার যাবতীয় প্রয়াস করেছেন বলে জানান সুব্রহ্মণ্যম। এই জন্য তাঁর নির্মাণ সংস্থা আইআইটি মাদ্রাজের সাহায্য নিয়েছে।
সুব্রহ্মণ্যমের সংস্থা শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বড় বড় নির্মাণকাজের বরাত পায়। সব মিলিয়ে ৫০টি দেশে কাজ করছে ওই নির্মাণ সংস্থা।