আকাশে শয়ে শয়ে ‘ইউএফও’, মহাজাগতিক আনাগোনা কি বেড়ে গিয়েছে আচমকাই?
আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের হেডকোয়ার্টার পেন্টাগনে সম্প্রতি নতুন একটি অফিস খোলা হয়েছে। তাদের কাজ আকাশে ‘ইউএফও’ বা এই ধরনের অচেনা বস্তুর সন্ধান এবং তার গতিবিধির দিকে নজর রাখা।
আমেরিকার আকাশে গত এক বছরে প্রচুর ‘ইউএফও’ বা ভিন্গ্রহীদের মহাকাশযানের দেখা মিলেছে। তেমনটাই জানাচ্ছে সে দেশের প্রতিরক্ষা বিভাগ।
আমেরিকার প্রতিরক্ষা বিভাগের হেডকোয়ার্টার পেন্টাগনে সম্প্রতি নতুন একটি অফিস খোলা হয়েছে। এই দফতরের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অল-ডোমেন অ্যানোমালি রেজ়োলিউশন অফিস’ বা এএআরও।
এই অফিসে যাঁরা কর্মরত, তাঁদের কাজ আকাশে ‘ইউএফও’ বা এই ধরনের অচেনা বস্তুর সন্ধান এবং তাদের গতিবিধির দিকে নজর রাখা। এএআরও-র পরিসংখ্যান চমকে দেওয়ার মতো।
ইউএফও বা আকাশে অজানা উড়ন্ত বস্তুর দেখা মেলা আমেরিকায় নতুন নয়। প্রায়ই কোনও না কোনও উড়ন্ত চাকি দেখা যায় দেশের নানা প্রান্ত থেকে। তা নিয়ে দানা বাঁধে ভিন্গ্রহী সংক্রান্ত গুঞ্জনও।
পেন্টাগনের ডিরেক্টর অফ ন্যাশানাল ইনটেলিজেন্স অফিসের পরিসংখ্যান বলছে, ২০০৪ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত আমেরিকার নানা প্রান্তে মোট ১৪৪টি ‘ইউএফও’-র দেখা মিলেছে।
আরও পড়ুন:
তবে ২০২১ সালের পর থেকে আমেরিকার আকাশে এই ধরনের অজানা বস্তুর আনাগোনা যেন বেড়ে গিয়েছে কয়েক গুণ।
এএআরও-র পরিসংখ্যান বলছে, ২০২১ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে কয়েকশো ‘ইউএফও’ দেখতে পাওয়া গিয়েছে। মাঝেমধ্যেই নানা প্রান্ত থেকে অচেনা উড়ন্ত বস্তুর খবর এসেছে। ভেঙে গিয়েছে আগের সব রেকর্ড।
তবে এই উড়ন্ত বস্তু সত্যিই ভিন্গ্রহীদের ‘ইউএফও’ কি না, তা স্পষ্ট নয়। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
চিন, রাশিয়া বা অন্য কোনও দেশ থেকে অজানা কোনও প্রযুক্তি ব্যবহার করে আমেরিকার উপর নজরদারি চালানো হচ্ছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছেন এএআরও-র আধিকারিকরা।
আরও পড়ুন:
মূলত, পৃথিবীর বাইরে মহাবিশ্বে অন্য কোনও প্রাণের অস্তিত্ব আছে কি না, পৃথিবী নিয়ে মহাবিশ্বে অস্তিত্বশীল কারও কোনও কৌতূহল আছে কি না, সে সব বিষয়ে খতিয়ে দেখার জন্যই এএআরও-র উৎপত্তি।
তবে আকাশে ‘ইউএফও’ আমেরিকার সামরিক বাহিনীর জন্যও ডেকে আনতে পারে বিপদ। এতে দেশের নিরাপত্তায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে। এএআরও গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সে বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়েছিল।
‘ইউএফও’ চিহ্নিত করার প্রযুক্তি আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে পেন্টাগনের এএআরও। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ভবিষ্যতে আমেরিকা বা চিনে তৈরি বেশ কিছু উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন মিসাইলকে ‘ইউএফও’ বলে ভুল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে উন্নত প্রযুক্তির প্রয়োজন।
আকাশে যাবতীয় ‘ইউএফও’-র সাক্ষাৎ সম্পর্কে দেশের সরকারকে তথ্য সরবরাহ করছে এএআরও। নিয়মিত এই সংক্রান্ত খবরাখবর রাখছে সরকার।
আমেরিকার সংবাদমাধ্যমেও ‘ইউএফও’ সংক্রান্ত যাবতীয় খবর প্রকাশিত হচ্ছে। ফলে জনসাধারণ জানতে পারছেন কবে, কোথায় আকাশে কী দেখা গিয়েছে।
এএআরও জানিয়েছে, নির্ভুল তথ্য প্রদান এবং জনসাধারণকে নিয়মিত এ বিষয়ে সচেতন রাখতে তারা বদ্ধপরিকর।