মালবাজার বিপর্যয়: হড়পা বান কেন হয়? স্বাভাবিক বন্যার সঙ্গে এর ফারাকই বা কোথায়?
বুধবার বিজয়া দশমীর রাতে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় মালবাজারের মাল নদীতে হড়পা বান আসে। জলস্রোতের প্রবল তোড়ে ভেসে যান অনেকে। কিন্তু হড়পা বান হঠাৎ আসেই বা কেন?
বুধবার রাত সাড়ে ৮টা। দশমীর রাতে দুর্গা প্রতিমা নিরঞ্জনের মুহূর্তে মালবাজারের মাল নদীতে আচমকা জলস্রোতে ভেসে যান নদীতে থাকা বহু মানুষ। সরকারি ভাবে এখনও পর্যন্ত আট জনের মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। জলপাইগুড়ির এই দুর্ঘটনায় সকলেই আতঙ্কিত, শঙ্কিত। মৃতের তালিকা প্রকাশিত হলেও এখনও নিখোঁজ অনেকেই। এখনও চলছে উদ্ধারকাজ।
এই প্রথম নয়। এর আগে ভারতের বহু জায়গায়, এমনকি এ রাজ্যেও হড়পা বানের প্রভাবে প্রাণ হারিয়েছেন বহু মানুষ।
কিন্তু হঠাৎ নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ার কারণ কী? স্বাভাবিক বন্যার সঙ্গে হড়পা বানের পার্থক্য কোথায়? কেনই বা আসে হড়পা বান?
সাধারণত, একনাগাড়ে অনেক ক্ষণ বৃষ্টি হলে নদীর জলস্তর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। সেই জল উপচে পড়ে নদীর তল ছাপিয়ে ছড়িয়ে পড়ে সমতল এলাকাতেও। কিন্তু হড়পা বান আসার সময় জলস্তর হঠাৎ করে অনেকটা বেড়ে যায়।
হড়পা বানের স্থায়িত্ব এবং সময় স্বাভাবিক বন্যার তুলনায় অনেকটাই কম।
আরও পড়ুন:
স্বাভাবিক বন্যার সময় জলপ্রবাহের গতিবেগ পরিমাপ করা গেলেও হড়পা বান কম সময়ের মধ্যে এত দ্রুত গতিতে আসে যে, তার জলপ্রবাহের গতিবেগ পরিমাপ করা বেশ কঠিন।
সমতলে বয়ে যাওয়া নদীর চেয়ে পার্বত্য হিমালয়, পশ্চিমঘাট পর্বতমালা-সহ সকল পার্বত্য অঞ্চলেই হড়পা বান আসার সম্ভাবনা অনেকটাই বেশি।
সাধারণত এই অঞ্চলগুলিতে একনাগাড়ে বৃষ্টি হলে তার ছয় ঘণ্টার মধ্যে হড়পা বান নেমে আসে। ক্ষেত্রবিশেষে, কয়েক মিনিটের মধ্যেও এই বান আসতে পারে।
পাহাড়ি এলাকায় মাঝেমধ্যেই মেঘ বিস্ফোরণের ফলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে দেখা যায়। ফলে এক লহমায় প্রবল জলস্রোত পাহাড়ের ঢাল বেয়ে নদীতে নেমে আসে। আচমকা নদীতে জলের পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় হড়পা বান দেখা যায়।
আরও পড়ুন:
এই অঞ্চলগুলিতে যে নদী বয়ে যায়, তার নদীখাত সমতলে বয়ে যাওয়া নদীগুলির তুলনায় অনেকটাই সঙ্কীর্ণ। তাই সেখানে জলস্রোতের প্রাবল্যও বেশি।
তা ছাড়াও পার্বত্য অঞ্চলে নদীর ধারণ অববাহিকার মধ্যে বরফের বিশাল স্তূপ জমাট বাঁধলে সেখানে জল আটকে থেকে যায়।
এমনকি, মারাত্মক ভূমিধসের কারণে পাহাড়ের বিশাল পাথরগুলি নদীবক্ষে সঞ্চিত হতে থাকে। ওই অঞ্চলেও নদীর জল জমা হতে থাকে। পরবর্তী কালে এই এলাকায় অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের ফলে সেখানে জমা জল প্রবল বেগে নেমে আসে।
সামগ্রিক ভাবে ভূমণ্ডলের উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য পার্বত্য এলাকায় তুষার ও বরফের গলন লক্ষ করা যায়। পরে বৃষ্টি হলে নদীতে জলের পরিমাণ হঠাৎ করে বেড়ে যায়। এর ফলে দেখা দেয় হড়পা বান।
তবে, সমতল অঞ্চলে স্থিতিশীল নদী অববাহিকাতে হড়পা বান আসার কারণ ভিন্ন। এই এলাকায় বয়ে যাওয়া নদীগুলির খাত প্রশস্ত। এ ক্ষেত্রে ভূমির ঢালের দিক, ভূমির উচ্চতার উপর হড়পা বানের আগমন নির্ভর করে।