নিকষ অন্ধকার, দড়ি বেঁধে নামতে হয়! ২২৫ বছরের পুরনো খনিতে থাকার খরচ শুনলে আঁতকে উঠবেন
পায়ের তলায় তিরতির করে বয়ে চলেছে জলধারা। ভূগর্ভের ১৩০০ ফুট তলায় সময় কাটাতে যান পর্যটকেরা। ২২৫ বছরের পুরনো খনিই বর্তমানে পরিণত হয়েছে বিলাসবহুল হোটেলে।
গুহার চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। ছাদ থেকে টিপটিপ করে জল ঝরেই চলেছে। পায়ের তলায় তিরতির করে বয়ে চলেছে জলধারা। ভূগর্ভের ১৩০০ ফুট নীচে সময় কাটাতে যান পর্যটকেরা। ২২৫ বছরের পুরনো খনিই বর্তমানে পরিণত হয়েছে বিলাসবহুল হোটেলে।
হোটেলটির নাম ‘ডিপ স্লিপ’। সুইডেনের একটি ছোট শহরে অবস্থিত সেটি। এটি বিশ্বের গভীরতম হোটেল হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ওয়েলসের স্নোডোনিয়া পর্বতমালার একটি গুহার ভিতরে নির্মিত হোটেলটি মাটির ১,৩০০ ফুট গভীরে অবস্থিত। এত গভীরেও যে কোনও হোটেল থাকতে পারে তা চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।
হোটেলটি একটি পুরনো খনির ভিতর তৈরি যা একসময় রুপো এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর জন্য বিখ্যাত ছিল।
খনিটি পরবর্তীতে একটি পর্যটন আকর্ষণে রূপান্তরিত হয় এবং এখন বিশ্ব জুড়ে অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীরা এখানে ঘুরতে আসেন।
আরও পড়ুন:
হোটেলের ভিতর পৌঁছনোর জন্য রয়েছে বিশেষ আয়োজন। অতিথিদের গুহার পাথরের উপর পা রেখে সামান্য নীচে নামতে হয়। তার পর ‘জ়িপলাইন’-এ বেঁধে তাঁদের হোটেলে পৌঁছে দেওয়া হয়।
হোটেলের ভিতর রয়েছে চারটি কেবিন। সেই কেবিনগুলিতে এক রাত থাকতে খরচ হয় ৩৭৫ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৪ হাজার টাকা)।
কেবিনের পাশাপাশি হোটেলের মধ্যে রয়েছে একটি বিলাসবহুল কক্ষও। প্রাচীন খনির ভিতর সুড়ঙ্গপথে সেই ঘরটি তৈরি করা হয়েছে।
এই বিশেষ ঘরে এক রাত থাকতে খরচ হয় ৫৭৫ ইউরো (ভারতীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৫২ হাজার টাকা)।
আরও পড়ুন:
হোটেলের ঘরগুলি পাথর খোদাই করে তৈরি এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধায় সজ্জিত। হোটেলের ঘরগুলি এমন ভাবে তৈরি করা যে বাইরে থেকে কোনও শব্দ আসবে না। অত্যন্ত শান্ত এবং আরামদায়ক এই পরিবেশে থেকে অতিথিরা এক ভিন্ন অভিজ্ঞতার স্বাদ পান।
হোটেলটি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে বিদ্যুৎ এবং ওয়াই-ফাইয়ের মতো সমস্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে। হোটেলে থাকা অতিথিরা ভূগর্ভে বাস করার আনন্দ উপভোগ করতে পারেন।
হোটেলের ভিতর একটি রেস্তরাঁ রয়েছে যেখানে অতিথিরা সুস্বাদু সুইডিশ খাবারের স্বাদ নিতে পারেন। তবে সেখানে রান্নাবান্নার সুবিধা নেই।
সকালের জলখাবার থেকে শুরু করে সন্ধ্যাকালীন খাবারও পাওয়া যায় সেই হোটেলে। তবে সব খাবারই ফ্রিজে সঞ্চয় করে রাখা। সেই খাবারগুলিই গরম করে খান অতিথিরা।
তবে হোটেলের দরজা অতিথিদের জন্য সব সময় খোলা থাকে না। সপ্তাহে এক দিনই অতিথিদের আপ্যায়ন করা হয় এই হোটেলে।
প্রতি সপ্তাহে শনিবার রাতে অতিথিদের জন্য হোটেলের দরজা খোলা হয়। রবিবার সকালে আবার অতিথিরা হোটেল থেকে বেরিয়ে যান।