E-Paper

‘বিচিত্রা’র বৈচিত্র‍ বাংলা সাময়িকীর উজ্জ্বল গৌরব

বিজ্ঞাপনী চমকে সবাইকে বিস্মিত করে প্রকাশিত হয়েছিল পত্রিকাটি। রবীন্দ্রনাথ, শরৎচন্দ্র, বিভূতিভূষণের মতো প্রথিতযশারা লিখেছেন এই পত্রিকায়। এ বছর শতবর্ষের সূচনা হল তার প্রথম প্রকাশের ।

পীতম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ২১ জুন ২০২৬ ০৬:১৩
বর্ণময়: ‘বিচিত্রা’-র প্রথম সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ছবি ও কবিতা

বর্ণময়: ‘বিচিত্রা’-র প্রথম সংখ্যার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ছবি ও কবিতা

১৩৩৫ বঙ্গাব্দ। প্রেসিডেন্সি কলেজের ক‍্যান্টিনে কয়েক জন ছাত্রের মধ‍্যে বাংলা সাহিত‍্য নিয়ে তুমুল আলোচনা চলছে। মাসিকপত্রের সম্পাদকদের বুদ্ধিহীনতা, পক্ষপাতিত্ব, দলাদলি ও উদাসীনতা নিয়ে অনেকেই ক্ষিপ্ত। তারা নাকি নামকরা বা দলের লেখক ছাড়া কারও লেখা ছাপায় না। তর্কযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী এক ছাত্রের তিনটি লেখা পত্রিকা-অফিস থেকে ফেরত এসেছিল, রাগে দুঃখে সে সম্পাদকদের গাল পাড়তে থাকে। সেই তর্কে প্রায় নীরব ভূমিকা পালন করছিলেন আর এক ছাত্র, প্রবোধকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বন্ধুটিকে বলেছিলেন, “কেন বাজে কথা বকছ? ভাল লেখা কি এত সস্তা যে হাতে পেয়েও সম্পাদকেরা ফিরিয়ে দেবেন? সম্পাদকরা কি পাগল যে, ভাল গল্প ফিরিয়ে দিয়ে বাজে গল্প ছাপবে?”

তুমুল তর্কাতর্কির পর বাজি রাখা হল যে, প্রবোধচন্দ্রকে একটি গল্প লিখে তিন মাসের মধ‍্যে ‘ভারতবর্ষ’, ‘প্রবাসী’ বা ‘বিচিত্রা’য় ছাপিয়ে তাঁর যুক্তির প্রমাণ দিতে হবে। প্রবোধচন্দ্র একটি জটিল ট্র‍্যাজিক প্লটের প্রেমের গল্প লিখে ‘বিচিত্রা’ অফিসে গিয়ে অচিন্ত‍্যকুমার সেনগুপ্তের হাতে জমা দিয়ে আসেন। পরে ‘গল্প লেখার গল্প’-এ সেই ছাত্র লিখেছিলেন, “ভাবলাম, এই উচ্ছ্বাসময় গল্প, নিছক পাঠকের মন ভুলানো গল্প, এতে নিজের নাম দেব না।” তাই ডাকনাম ‘মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়’ নামে গল্পটি জমা করেছিলেন। বাজি জিতেও যান তিনি— ‘অতসীমামী’ নামের সেই গল্প ‘বিচিত্রা’-র ১৩৩৫ সনের পৌষ সংখ‍্যায় ছাপা হল, সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ গঙ্গোপাধ‍্যায় পনেরো টাকা সাম্মানিক-সহ ‘বিচিত্রা’র সেই সংখ‍্যাটি হাতে করে নিয়ে গিয়ে আরও গল্পের দাবি জানিয়ে যান সেদিনের কলেজ-পড়ুয়া গল্পলেখককে। ‘বিচিত্রা’-র সৌজন‍্যে বাংলা সাহিত‍্য পেল এক অমর কথাসাহিত‍্যিক, মানিক বন্দ‍্যোপাধ‍্যায়কে।

বাংলা সাময়িকপত্রের জগতে ‘বিচিত্রা’র আত্মপ্রকাশ উল্লেখযোগ্য। তখন বাংলা সাহিত‍্যজগতে ‘প্রবাসী’, ‘ভারতবর্ষ’, ‘ভারতী’, ‘বঙ্গবাণী’, ‘শনিবারের চিঠি’ বা ‘কালিকলম’ যেমন ছিল, পাশাপাশি ‘সবুজপত্র’ বা ‘কল্লোল’ও বিখ‍্যাত হয়ে উঠেছিল। এরই মধ‍্যে ১৩৩৪ সনের পয়লা আষাঢ় আলোড়ন তুলে ‘বিচিত্রা’র আত্মপ্রকাশ। এ বছর সে ঘটনা শতবর্ষে পড়ল। ‘আলোড়ন’ কেন? সম্পাদক উপেন্দ্রনাথ ‘স্মৃতিকথা’য় চতুর্থ খণ্ডে লিখেছেন তা। উপেন্দ্রনাথের সহযোগী সম্পাদকমণ্ডলীর বাকি তিন সদস‍্য কান্তিচন্দ্র ঘোষ, অমল হোম ও যতীন্দ্রনাথ ঘোষের নেতৃত্বে বৈশাখ মাস থেকে ‘বিচিত্রা’র কাজ পূর্ণোদ‍্যমে শুরু হয়। সঙ্গে মুদ্রণের কাজও শুরু হয় ‘ক‍্যালকাটা মিউনিসিপ্যাল গেজ়েট’-এর সম্পাদক অমল হোমের উদ‍্যোগে। অমলবাবু প্রথমে ‘বিচিত্রা’র একটি ডামি তৈরিতে মনোযোগী হন, যেমন ছাপা হবে আকারে-প্রকারে ঠিক তার অবিকল প্রতিকৃতি। ‘বিচিত্রা’র আকার ঠিক হয়েছিল ডবল-ক্রাউন আট-পেজি, আয়তন— বিষয়বস্তুর জন‍্য একুশ ফর্মা এবং বিজ্ঞাপনের জন‍্য পাঁচ ফর্মা, অর্থাৎ মোট ছাব্বিশ ফর্মা। ডামিও সেই একই আকার ও আয়তনের হল। প্রচ্ছদে বড় অক্ষরের ব্লকে ‘বিচিত্রা’ নামটি। তার নীচে প্রথম বর্ষ, প্রথম খণ্ড— আষাঢ় ১৩৩৪, প্রথম সংখ‍্যা। তার নীচে সম্পাদকের নাম। অমলবাবুর উদ্দেশ‍্য ছিল, এই ডামি দেখিয়ে বিজ্ঞাপন আদায় ও তার দর নির্ণয়। উপেন্দ্রনাথ লিখেছেন, “দফতরির বাড়ি থেকে দুশো আড়াই শো কপি বাঁধিয়ে এলে ডামির নীলরেখাঙ্কিত দুগ্ধশুভ্র মূর্তি দেখে চোখ জুড়িয়ে গেল। বোবারই এত মহিমা, — এ যখন মুখর হবে, তখন না-জানি কি কাণ্ডই উৎপন্ন করবে!”

‘বিচিত্রা’ যখন মহাসমারোহে বেরোল, সম্পাদকের স্বপ্ন যেন সত‍্যি হয়ে উঠল। এর আগে বাংলা সাময়িকপত্রের বাজারে এভাবে কখনও ডামি প্রস্তুত হয়েছে বলে জানা যায়নি। সজনীকান্ত দাস ‘আত্মস্মৃতি’তে লিখেছেন, “কলিকাতার পথঘাট, প্রাচীর ও প্রান্তর ‘বিচিত্রা’র বিচিত্র বিজ্ঞাপনী-কলরবে মুখর হইয়া উঠিল।”

অভিষেকেই মুখর হওয়ার অন্যতম কারণ, রবীন্দ্রনাথের উজ্জ্বল উপস্থিতি। পত্রিকার ডামি নিয়েই এক দিন সম্পাদকমণ্ডলী হাজির হলেন জোড়াসাঁকোয়। ‘বিচিত্রা’র প্রথম সংখ্যায় চৌষট্টি পাতা জুড়ে রবীন্দ্রনাথের সমগ্র কাব‍্য ‘নটরাজ-ঋতুরঙ্গশালা’ প্রকাশিত হবে। সঙ্গে থাকবে প্রতিটি পাতায় নন্দলাল বসুর আঁকা অলঙ্কারচিত্র। এই লেখার জন‍্য কবির হাতে অগ্রিম এক হাজার টাকার চেক তুলে দেন সম্পাদকরা। এর পর ‘যোগাযোগ’ উপন‍্যাস ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশ উপলক্ষে আরও তিন হাজার টাকা সাম্মানিক দেওয়া হলে কবি বলেন‍, “তোমাদের দেওয়া এ দক্ষিণা আমাদের দেশের পক্ষে decent।” যদিও ১৩৩৪ সালের আশ্বিন মাসে ‘যোগাযোগ’ উপন‍্যাসটি যখন প্রথম ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশ হতে থাকে, তখন তার নাম ছিল ‘তিন পুরুষ’। পরে অগ্রহায়ণ মাস থেকে কবি নিজেই এর শিরোনাম বদলে করেন ‘যোগাযোগ’। ‘বিচিত্রা’র প্রথম সংখ্যায় এই পত্রিকার জন‍্য বিশেষ ভাবে রচিত ‘বিচিত্রা’ নামের চার পৃষ্ঠার রবীন্দ্র-কবিতাটি ব্লকের সাহায‍্যে মুদ্রিত হয়েছিল কবির হস্তলিপিতেই। শুরু থেকেই রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে ‘বিচিত্রা’র অবিচ্ছেদ‍্য যোগ। ১৩৩৩-এর ১২ চৈত্র শান্তিনিকেতন থেকে প্রমথ চৌধুরীকে এক চিঠিতে তিনি লেখেন, “‘বিচিত্রা’ নাম দিয়ে একটি কাগজ বের করবার উদ্যোগ চলচে্ — যাঁরা উদ‍্যোগী তাঁরা উৎসাহী ও ধনী। আমি তাঁদের ফাঁদে কতকটা ধরা দিয়েছি, অভাবের দায়ে, লোভের তাড়নায়। নিজের কলমের জোরে ছাড়া, সাধুতা রক্ষা করে অর্থোপার্জ্জনের আর কোনো উপায় জানা নেই।” ‘বিচিত্রা’র জন‍্য তাঁর আশা, “ধনীর অর্থের সঙ্গে গুণীর সামর্থ‍্য মিললে পরে জিনিষটা সকল দিকে দামী হয়ে উঠবে”। রবীন্দ্রনাথের বহু রচনা এই পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ১৩৩৮ বঙ্গাব্দের আশ্বিন সংখ‍্যার ৭৮টি পৃষ্ঠা ‘রবীন্দ্রজয়ন্তী’ সংখ্যা হিসেবে উৎসর্গীকৃত হয়।

প্রাথমিক ভাবে সাময়িকীটির নাম ‘সবিতা’ বা ‘হিমালয়’ রাখার কথা ভাবা হয়েছিল। শেষে কান্তিচন্দ্র ঘোষের পরামর্শে ‘বিচিত্রা’ নামটি যুক্ত হয় এবং থেকে যায়। প্রথম সংখ‍্যার সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছিল, “বিচিত্রার যাত্রারম্ভ হল আজ আষাঢ়ের প্রথম দিবসে — মন্দাক্রান্তা ছন্দে।” তবে “গ্রীষ্মের অগ্নিকণা, বর্ষার জলবিন্দু, শরতের নির্মলতা, হেমন্তের কুজ্ঝটিকা, শীতের নিবিড়তা এবং বসন্তের পুষ্পোৎসব বিচিত্রাকে বর্ষে বর্ষে বিচিত্র করুক,” ছিল এই গভীর আশাও।

‘বিচিত্রা’য় শরৎচন্দ্রের লেখাও স্থান পেয়েছে। ‘শ্রীকান্ত, চতুর্থ পর্ব’ ও ‘বিপ্রদাস’ উপন্যাস দু’টি সেখানে ধারাবাহিক ছাপা হয়। ‘যোগাযোগ’ উপন‍্যাসের জন‍্য রবীন্দ্রনাথকে যখন গড়ে মাসিক একশো টাকা করে দেওয়ার কথা জানিয়ে উপেন্দ্রনাথ শরৎচন্দ্রকে সংখ‍্যা-পিছু পঞ্চাশ টাকা দিতে চান, শরৎচন্দ্র কোনও আপত্তি করেননি। ১৩৩৫-র আষাঢ় সংখ‍্যা থেকে ‘বিচিত্রা’য় প্রতি মাসে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হতে থাকে বাংলা সাহিত্যের অন‍্যতম মাইলফলক ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাস। তার আগে ‘বউচণ্ডীর মাঠ’ ও ‘নব বৃন্দাবন’ নামে বিভূতিভূষণের দু’টি ছোটগল্পও ‘বিচিত্রা’য় মুদ্রিত হয়। বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় ‘বিচিত্রা’র সম্পাদক উপেন্দ্রনাথের কাছে গিয়ে অকপটে স্বীকার করেন, ‘পথের পাঁচালী’ উপন্যাসটি ‘প্রবাসী’ তাঁকে ফেরত দিয়েছে। তাই অনেক আশা নিয়ে ‘বিচিত্রা’র দফতরে উপন্যাসটি তিনি জমা করছেন। ‘বিচিত্রা’ তাঁকে বিমুখ করেনি।

নবাগত লেখক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে ‘বিচিত্রা’র সম্পাদকমণ্ডলীর জুড়ি মেলা ভার। অন্নদাশঙ্কর রায় তখন কটকে, সেখানে থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিতে বিলেত যাওয়ার উদ‍্যোগ নিচ্ছেন। কটকনিবাসী ভ্রাতুষ্পুত্রী নির্মলা চট্টোপাধ্যায়ের মাধ‍্যমে জহুরি উপেন্দ্রনাথ অন্নদাশঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগ করে লেখা চান। অন্নদাশঙ্কর ১৩৩৪-এর শ্রাবণে বিলেত যাত্রা করেন। কিন্তু কথা দেন, সেখান থেকে লেখা পাঠাবেন। কার্তিক মাস থেকে তাঁর বিখ‍্যাত ভ্রমণকাহিনি ‘পথে-প্রবাসে’ ধারাবাহিক ভাবে ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশিত হতে থাকে, অচিরেই পাঠকসমাজে তিনি পরিচিতি লাভ করেন। এর আগে ‘রক্তকরবীর তিনজন’ নামে তাঁর লেখা একটি প্রবন্ধ ১৩৩৪-এর ভাদ্র মাসে প্রকাশ পায়।

সম্পাদকদের চিন্তাভাবনায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌজন্য প্রদর্শনের সুপ্ত অভিলাষ ছিল। পত্রিকার সূচনাকালে ঔপনিবেশিক শাসনের বিভাজনমূলক নীতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য— সব মিলিয়ে হিন্দু-মুসলমান সম্পর্ক জটিল হয়ে ওঠে। সম্পাদক লিখেছেন, “বিচিত্রাকে করতে চেয়েছিলাম হিন্দু-মুসলমান লেখকের চিন্তা প্রেরণের এবং হিন্দু-মুসলমান পাঠকের চিন্তা গ্রহণের যন্ত্র এবং সেই উপায়ে হিন্দু-মুসলমানের মননশীলতার ক্ষেত্রে একটা সাংস্কৃতিক একতার বীজ উৎপন্ন করতে কতকটা সক্ষমও হয়েছিলাম।” জসীমউদ্দিন, হুমায়ুন কবীর থেকে গোলাম মোস্তাফা, আব্দুল গাফফার চৌধুরী, এমন অনেক কবি-সাহিত্যিকের রচনা এখানে ঠাঁই পেয়েছে। ‘বিচিত্রা’য় প্রকাশিত উপেন্দ্রনাথ নিজের ‘অভিজ্ঞান’ উপন্যাসে বিভিন্ন মুসলমান চরিত্র এঁকেছেন, যা পাঠকদের সমাদর অর্জন করে। উপেন্দ্রনাথের ভাষায়, তাঁর “স্বপ্নটা ছিল একটু বড় বহরের— হিন্দু-মুসলমানের মিলন-সাধনের স্বপ্ন।”

গদ্যসাহিত্য ছাড়াও ছবি, সঙ্গীত, প্রবন্ধকেও সম্পাদকমণ্ডলী বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছিলেন। প্রথম সংখ‍্যার প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন চিত্রশিল্পী চারু রায়; সেই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের হস্তাক্ষরে ‘বিচিত্রা’ কবিতার সংলগ্ন পূর্বের পাতায় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আঁকা বহুবর্ণের ‘কুমারী’ ছবিটি ও ভিতরের পাতায় ‘বসন্ত’ নামে নন্দলাল বসুর আঁকা একটি পূর্ণাঙ্গ রঙিন চিত্র ছাপা হয়। পরবর্তী কালে ‘বিচিত্রা’র বিভিন্ন সংখ‍্যায় দেখা গেছে ‘বিচিত্রা চিত্রশালা’ বিভাগটি। সেখানে স্থান পেয়েছে বহু দেশি-বিদেশি চিত্রশিল্পীর পরিচয়, প্রকাশিত চিত্রটির ইতিহাস এবং চিত্র-প্রতিলিপি।

‘বিচিত্রা’র এক যুগের যাত্রাপথে বিভিন্ন সংখ‍্যায় দেখা যায় প্রমথ চৌধুরী, অমিয় চক্রবর্তী, অচিন্ত‍্যকুমার সেনগুপ্ত, সতীনাথ ভাদুড়ী, মৈত্রেয়ী দেবী, চারুচন্দ্র চক্রবর্তী, নীহাররঞ্জন রায়, মোহিতলাল মজুমদার, গোপাল হালদার, নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়, সুধীন্দ্রনাথ দত্ত, ধূর্জটিপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়, সরলা দেবী, শান্তা দেবী প্রমুখ সমসাময়িক কবি-সাহিত্যিক-প্রাবন্ধিকদের লেখা। সুকুমার রায়ের প্রয়াণের পর তাঁর ‘চলচিত্তচঞ্চরী’ পূর্ণ মর্যাদার সঙ্গে প্রকাশ করে তাঁকে শ্রদ্ধা জানায় ‘বিচিত্রা’। তবে বারো বছরের সম্পাদনার অভিজ্ঞতায় উপেন্দ্রনাথ তৃপ্তির পাশাপাশি অতৃপ্তিও পেয়েছিলেন। ‘স্মৃতিকথা’য় জানিয়েছেন, “প্রকাশ করবার মতো কবিতা যদি একটি পেতাম, ফেরত পাঠাবার মতো পেতাম একশোটি। সুতরাং মোটের উপর শত্রুতা বৃদ্ধিই হ’ত অনেক বেশি পরিমাণে। প্রত‍্যেক হতাশ কবির মনে অনিবার্যভাবে আমি তার শত্রু ব’লে বিবেচিত হতাম। পূর্বজন্মের অনেক পাপ থাকলে সম্পাদক হয়ে তার প্রায়শ্চিত্ত করতে হয়। তাই বারো বৎসর পরে ‘বিচিত্রা’ যখন উঠে গিয়েছিল, মনে মনে নাক-কান ম’লে সঙ্কল্প করেছিলাম, জীবনে আর নয়; এই প্রথম ও এই শেষ।” তবু বাংলা সাময়িকপত্রের ইতিহাসে ‘বিচিত্রা’র স্থান অমলিন থেকে গেছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

magazine

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy